Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০৭:৪১ অপরাহ্ণ

বাবার হাতের সাইকেল একটি শিক্ষনীয় গল্প হতে পারে আমাদের জন্য


সোহেলের বাবা একজন মিস্ত্রি। সারাদিন কাজ করে ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফিরলেও ছেলেটির জন্য সময় বের করে নিতেন। সোহেলের সবচেয়ে প্রিয় ছিল বাবার সাথে সাইকেলে চড়া। বাবার পুরনো সাইকেলটি ছিল সোহেলের কাছে একটা রত্নের মতো। বাবা সাইকেলের পেছনে বসিয়ে সোহেলকে পার্কে নিয়ে যেতেন। পার্কে সোহেল সাইকেল থেকে নেমে খেলত আর বাবা এক পাশে বসে তাকে দেখতেন।

একদিন সোহেলের জন্মদিন। বাবা সারাদিন ব্যস্ত ছিলেন। সোহেল মনে মনে ভাবছিল, বাবা হয়তো তার জন্য কোনো উপহার কিনবেন না। কিন্তু রাতে যখন সোহেল ঘুম থেকে উঠল, তখন দেখল তার পাশে একটা নতুন সাইকেল রাখা আছে। সোহেলের খুশির সীমা রইল না। সে দৌড়ে বাবার কাছে গিয়ে জড়িয়ে ধরল।

নতুন সাইকেল পেয়ে সোহেল খুব খুশি হয়েছিল। সে প্রতিদিন সকালে সাইকেল চড়তে যেত। বাবাও তার সাথে যেতেন। কিন্তু একদিন সোহেলের নতুন সাইকেলটি নষ্ট হয়ে গেল। চাকা ফেটে গিয়েছিল। সোহেল খুব কাঁদল। বাবা তাকে শান্তনা দিয়ে বলল, “চিন্তা করিস না, আমি তোর সাইকেলটা ঠিক করে দেব।”

বাবা সারারাত জেগে সোহেলের সাইকেলটা ঠিক করে দিলেন। সকালে সোহেল উঠে দেখল, তার সাইকেলটা আগের চেয়েও ভালো হয়ে গেছে। সোহেল খুশিতে বাবার গলা জড়িয়ে ধরল।

সোহেল বড় হতে থাকল। সে আর আগের মতো বাবার সাথে সাইকেল চড়তে যেত না। কিন্তু বাবার হাতের সাইকেলটা তার কাছে সবসময়ই স্মরণীয় ছিল। সেই সাইকেলটা তার শৈশবের সব সুন্দর মুহূর্তের সাক্ষী ছিল।

একদিন সোহেলের বিয়ে হল। বিয়েতে বাবা সোহেলকে আশীর্বাদ দিয়ে বলল, “আমি চাই তুই সবসময় সুখী থাকিস। আমার মতো একজন ভালো বাবা হবি।” সোহেলের চোখে জল এসে গেল। সে বাবার কোলে মাথা রেখে কাঁদতে লাগল।

সোহেলের জীবনে অনেক উত্থান-পতন হল। কিন্তু বাবার হাতের সাইকেলটা তার কাছে সবসময়ই একটা আশ্রয় ছিল। যখনই সে কষ্ট পেত, তখন সে এই সাইকেলটার কথা মনে করত। আর তার মনে শান্তি ফিরে আসত।

গল্পের শিক্ষা:

এই গল্পটি আমাদের শিখায় যে, বাবার ভালোবাসা অনেক মূল্যবান। বাবা সবসময় তার সন্তানের ভালো চায়। সোহেলের বাবা তার জন্য যা কিছু করেছেন, তা সোহেলের জীবনে সবসময় স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

আমাদের সবারই বাবার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। বাবার ভালোবাসা আমাদের জীবনে সবচেয়ে বড় সম্পদ।

মন্তব্য করুন