Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ

যৌবনের সূচনায় ,আবেগের ঘনঘটা

I am the stupidest person on the earth.

 

 

আমি চির চঞ্চল চির চলমান,অবস্থানে কিংবা অস্তিত্বে কোথাও আমি স্থির নয়। অন্তরে- বাহিরে আমি সদা-পরিবর্তনশীল। এই পরিবর্তন যেমন দেহে ; তেমনি মননে,চিন্তায় চেতনায়।হৃদয়ের মানসপটে যখন ভেসে উঠে ছোটবেলার স্মৃতি তখন ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি উঁকি মারে ; তবে হাসি যতটা না গৌরবের তার চেয়েও ঢের বেশি নিজের বালখিল্যতার তরে

ছোটবেলার কিছু অম্লান স্মৃতি আজো হৃদয়ের আকাশে দেদীপ্যমান। আমাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া কতই না স্মৃতি আমরা হরহামেশা ভুলে যায় কিন্তু যেই সুদীর্ঘ ২২ /২৫ বছর আগের স্মৃতি আজো স্মৃতিতে অমলিন। আমাদের মস্তিষ্ক সে এক আজিব কারখানা। তিন পাউন্ডের ঘন টিস্যুর দলা খ্যাত মস্তিষ্ক কতই না যত্নে স্মৃতিগুলো জমা রাখে। যদিও বিজ্ঞানের ভাষ্যমতে, যে স্মৃতির সাথে যত বেশী আবেগ জড়িত থাকে সে স্মৃতির স্থায়িত্বকাল তত বেশী।

গত কয়েকদিন যাবত যে স্মৃতিটি আমার হৃদয়ের মানসপটে জ্বলজ্বল করছে সেটি হল ৫ম শ্রেণীতে অধ্যয়নকালীন একটি স্মৃতি। আমি প্রাথমিকের পাঠ চুকিয়েছি একটি কিন্ডারগার্টেন থেকে। আমার প্রাণের স্কুলের নাম হল " চিলড্রেন কেয়ার একাডেমী। ৫ম শ্রেণিতে আমার রোল নাম্বার ছিল -০৩।স্যারদের কাছেও খুব প্রিয় ছিলাম।বিশেষ করে ম্যাডামদের চোখের মনি ছিলাম। ৫ম শ্রেণীর রোল -০১ ছিল এক ফুল কিশোরী। তার সারনেম ছিল নিপু।মুক্তকেশী বেগুনের মতো তাহার মুখখানিতে ভালো মানুষি যেন মাখানো। তাকে দেখা মাত্র মনের কোনে একটু একটু ভালো লাগা কাজ করত,আকাশে চাঁদ উঠল কি না,বকুলবনে পাপিয়া ডাকিল কি না এসব প্রাকৃতিক উপাদানকে মন যেন থোরায় কেয়ার করত। কেন না জীবন আকর্ষণ করে জীবনকে।

আমি আদম সেই ছোটবেলা থেকেই লাজুক প্রকৃতির ছিলাম। ছাত্রজীবনে সবাই আমাকে ভদ্রতার পরাকাষ্ঠা হিসাবেই জানতো আমি অসীম সাহসি ছিলাম বলেই হয়ত মেয়েদের চোখের দিকে তাকাতে পারতাম না,এমনকি সাহসের মাত্রা চরমে উঠলে হাঁটুর নিচে কাঁপুনি শুরু হতো।

যাক আমার সাহসিকতার উদাহরন দিয়ে আপনাদের কে বিনোদন দিতে মন আর চাচ্ছে না।

ছোটবেলা আলমগীর- শাবানা, রাজ্জাক - কবরী রাজ্জাক - শাবানার ছবি একটু বেশিই দেখেছি তাই রোমান্টিক সিচুয়েশনে নিজেকে রাজ্জাক ভাবতে কেন যেন একটু ভালোই লাগে( বলা বাহুল্য আলমগীরকে কিন্তু আমার বেশ পছন্দ তবে হাইটের কারনে নিজেকে আলমগীর ভাবতে আঁর এক্কানা সরম সরম লাগে)

৫ম শ্রেণিতে থাকাকালীন প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় আমি নিপুকে পরিক্ষায় সহযোগিতা করি ।পরীক্ষা দিয়ে বের হয়ে হেঁটে হেঁটে বাড়ি যাচ্ছি।কিছু সময় পর আবিষ্কার করলুম নিপুও আমার পিছনে পিছনে আসছে। রাস্তায় পিনপতন নীরবতা। আর তখনই আমার মন নানাবিধ স্বপ্নে বিভোর। মনে মনে নিজেকে নায়ক রাজ রাজ্জাক ভাবতে শুরু করলাম আর কেমন যেন সরম সরম লাগলো এই ভেবে লোকে দেখলে হয়ত ভাববে আমরা প্রেম করি।এই ভয়ে জোর কদমে হাটাঁ শুরু করি কিন্তু আউলা ঝাউলা মন আরেঁ কয় ,"মানিক! এক্কানা আস্তে অাঢসসা"

সুন্দর,পরিষ্কার স্বচ্ছ আয়নার মতো আমার মনে ভাবনার ডালপালা গজে উঠে। মন নিজেকে এই বলে সান্ত্বনা দেয়, মানিক, তোমাকে কৃতজ্ঞতা জানানোর জন্য তোমার পিছু পিছু আসতেছে। তুমি আরও স্থির হও। যেই ভাবনা সেই কাজ। পা দুটো আস্তে আস্তে ধীর হয়ে আসলো।অতঃপর ভাবলুম তাহার অনিন্দ্যসুন্দর মুখখানা একটি বার দর্শন করে আমি আবার হাঁটবো কারন আমি আমার সম্মান নিয়ে খুবই কনসার্নড। কেমন যেন সরম সরম লাগছিল পিছনে তাকাতে।

কাজী নজরুলের সেই কবিতা আমার চোখের লজ্জার পর্দা নিমিষেই দুর করে দিলো-----

আমার কাঁচা মনে রং ধরেছে আজ

ক্ষমা করো মাগো আমার আর কি সাজে লাজ?

যেই ভাবা সেই কাজ।আমার ভাদাইম্মা মন পিছনে ফিরে তাকালো আর দেখতে পেলো তাহার মুখের এক চিলতে হাঁসি আর তখনই অল্পতে খুশি হয়ে যাওয়া কিউট খরগোশ বাবুর মতো আমার মনটাও তৃপ্তির নিন্দায় নিজেকে ভাসিয়ে দিলো। অতঃপর শান্ত স্নিগ্ধ মন নিয়ে হাঁটতে লাগলুম। কয়েক মিনিট পর দুজনার পথ দুদিকে মোড় নিল।আমি বাড়ি ফিরলুম মাগার তাহার প্রতি আমার অনুভুতির রেশ তখনও বিদ্যমান ছিল। চুম্বকের মত আকর্ষণ করার ক্ষমতা ছিল তার চাহনি তে।আমি ব্যাথা অনুভব করতে লাগলুম যেন সারা দুনিয়ার আত্মার আমাকে আঘাত করছে। কিন্তু পরে আবিষ্কার করলুম তাহাকে নিয়ে আমার এমন ভাবনা ইকারাসের মোমের ডানা লাগিয়ে আকাশে উড়ার স্বপ্নের মতো অবাস্তব।

শকুন্তলা যেমন করে ঋষি মুনিরের ধ্যান ভেঙ্গেছিল ঠিক তেমনি তাহার উপস্থিতি আমার হরমোন জগতে বিশেষ শুরশুরি দিয়েছে মাত্র.....যাকে Control-Alt-Delete করা যায় নি হয়ত যাবেও না কিন্তু যাকে আমি ট্রিট করি সুকুমার রায়ের ---- চেয়ে আরো বেশী ---- ঘটনা হিসেবে। সময়ের ঘড়িতে চড়ে আমি যদিও ফিরে যেতে চাই সেই সময়গুলোতে কিন্তু সে ঘটনাগুলোর পুনরাবৃত্তি চাই না কারন জীবনের এই ছোট্ট প্যারামিটারে আমি আজ তৃপ্ত পরিপূর্ন

খুশিতে উল্কা ফুল হয়ে ঝড়ে পরবো আমার রুপকথার রুপের দেবী অাফ্রোদিতি " আমার প্রিয় সহধর্মিনীর " নোটন খোপায়।

I am the stupidest person on earth.....

 

মোঃ মানিক হোসেন

সহকারী  শিক্ষক

খলিশাটোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

 

মন্তব্য করুন