সহকারী শিক্ষক
০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০৮:০২ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
বর্তমান জাতীয় সংগীতে যাদের চুলকানি আছে, যারা বলছেন এটা ভারতের জাতীয় সংগীত, তাদের জন্য ব্যাখ্যাটা..জাতীয় সংগীতের ব্যাখ্যাঃ
আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি।
ব্যাখ্যাঃ স্রষ্টা পৃথিবীকে তার মনের মতো করে অপরূপ রূপে সাজিয়েছেন। বাংলার সেই রূপ অবলোকন ও হৃদয়ে ধারণ করে কবি তাকে সোনার সাথে তুলনা করেছেন। কারণ এ মাটিতে কোনো প্রকার বীজ পড়লেই তাতে গাছ জন্মায় মহুমূল্য ফল আর ফসল জন্মায়।আর সেই বাংলাকেই কবি ভালবাসেন।
চিরদিন তোমার আকাশ, তোমার বাতাস, আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি ॥
ব্যাখ্যাঃ বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ। ঋতু বৈচিত্রের কারণে প্রকৃতি বিভিন্ন সময়ে অন্যান্য রূপ ধারণ করে। প্রত্যেক ঋতুতে বাংলার আকাশ বিচিত্র অবয়বে আমাদের হৃদয়ে দোলা দেয় এবং ভিন্ন ভিন্ন মৌসুমে বাতাসের গতি-প্রকৃতি, ধ্বনি আমাদের কানে বাঁশির সুর তোলে। তাই কবি বাংলার আকাশ এবং বাতাসে এই মধুর মিলনকে বাঁশির সুরের সাথে তুলনা করেছেন। আর সেই বাংলাকে কবি ভালবাসার কথা বলেছেন।
ও মা, ফাগুনে তোর আমের বনে ঘ্রাণে পাগল করে,
মরি হায়, হায় রে—
ব্যাখ্যাঃ পৃথিবীতে স্রষ্টার পরে যদি কেউ কাউকে ভালবাসেন সে হচ্ছে তার মা।কবি দেশকে এতটাই আপন ভেবেছেন যে, তাকে মায়ের সাথে তুলনা করেছেন। এখানে তার দেশপ্রেম এবং মাতৃভক্তির প্রকাশ পেয়েছে। দেশপ্রেম ইমানে অন্যতম অংশ। ফাগুন মাসে আমের শাখায় নতুন মুকুল ধরে, গাছে নতুন পত্র-পল্লব গজায়। প্রকৃতির সেই নতুন রূপে ফিরে আসাতে এবং অম্রমুকুলের ঘ্রাণে কবি আনন্দে আন্দোলিত হয়েছেন। এবং আবেগতারিত হয়ে কবি দেশকে মা বলে সম্বোধন করেছেন। আর সেই বাংলাকে কবি মা বলে ডাকতে বলেছেন।
ও মা, অঘ্রানে তোর ভরা ক্ষেতে আমি কী দেখেছি মধুর হাসি ॥
ব্যাখ্যাঃ অঘ্রহায়ণ মাসে ফসলের ক্ষেতে কৃষকের মুখভরা হাসি দেখে কবি অবাক হয়েছেন।সোনার ফসল পেয়ে কৃষক-কৃষাণীর মুখের হাসিতে যেন মধু ঝরে।কবি অবাক বিস্ময়ে সেই হাসি অবলোকন করেছেন।বাংলার গরীব চাষা-চাষির সেই হাসিকে মধুমাখা হাসির সাথে তুলনা করেছেন। সেই বাংলাকে কবি ভালবাসেন।
কী শোভা, কী ছায়া গো, কী স্নেহ, কী মায়া গো—
কী আঁচল বিছায়েছ বটের মূলে, নদীর কূলে কূলে ।
ব্যাখ্যাঃ বাংলার অপার রূপ, প্রকৃতি, বৃক্ষ, পাতা পল্লব, লতা, ফুল এবং তার নয়নাবিরাম দৃশ্য, তার স্পর্শ কবির কাছে মাতৃস্নেহের মতো মনে হয়।এই ফল ফুল বৃক্ষ লতা পাতার মধ্যে কবি এক অদ্ভুত মায়া খুজে পান। মনে হয় যেন প্রকৃতি তার ছায়া ও স্নেহে আমাদের আপন সন্তান
১
২ মন্তব্য