সহকারী অধ্যাপক
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ১২:০৩ অপরাহ্ণ
সহকারী অধ্যাপক
পরম শ্রদ্ধাভাজন এই তিনজন স্যারের সঠিক দিকনির্দেশনা আমার জীবনে পাথেয় হয়ে থাকবে ইন-শাআল্লাহ। অসংখ্য আন্তরিক মোবারকবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি তাঁদের প্রতি। করোনা মহামারীর শুরুর দিকে পরিচয় ঘটে তাঁদের সাথে।
করোনা মহামারীতে যখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গিয়েছিল তখন এর বিকল্প হিসেবে অনলাইনে পাঠদান কার্যক্রমের নির্দেশনা এসেছিল। মাদ্রাসার পাঠদান কিভাবে পরিচালনা করা যায় এ ব্যাপারে মাদ্রাসার শিক্ষকগণকে নিয়ে একটি জুম মিটিং হয়েছিল। অতিথি হিসেবে জনাব মোহাম্মদ কবীর হোসেন স্যার ও ড. নুরুল্লাহ স্যার বক্তব্য দিয়ে অংশগ্রহণকারীদের অনুপ্রেরণা ও উদ্বুদ্ধ করেছিলেন শ্রেণি কার্যক্রম অনলাইনে পরিচালনার জন্য।
এক পর্যায়ে কবির স্যার বলেছিলেন: "স্কুল-কলেজের শিক্ষকগণ অনলাইন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারলে আপনারা মাদ্রাসার শিক্ষক বসে থাকবেন কেন?" স্যারের এ প্রশ্নটি আমার হৃদয়ে গেঁথে গিয়েছিল। তারা পারে আমরা পারব না। হতে পারেই না। আমাকে পারতেই হবে। এমন চিন্তা যখন মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল ঠিক তখনই ড. নুরুল্লাহ স্যার উপস্থিত শিক্ষকগণের মাঝে ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে ১০ম শ্রণি পর্যন্ত শ্রেণির বিষয়গুলো বন্টন করে দিলেন। কে কোন শ্রণির কনটেন্ট তৈরি ও অনলাইনে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
তো আমার ভাগে পড়েছিল ৯ম/১০ম শ্রেণির আরবি ১ম পত্র। অন্যান্য শ্রেণি ও বিষয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকগণ কে কি করেছিলেন জানি না। তবে আমি ৯ম/১০ম শ্রেণির আরবি ১ম পত্রের প্রথম থেকে শুরু করে ধারাবাহিক ৬৫টি আরবি টু কনটেন্ট তৈরি ও শিক্ষক বাতায়নে আপলোড ও সেগুলো দিয়ে স্ট্রিম ইয়ার্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন পেইজে অনেক লাইভ ক্লাস নিয়েছিলাম অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে।
এর ফলে বাতায়ন কর্তৃপক্ষ আমাকে ICT4E জেলা অ্যাম্বাসেডর ও সেরা অনলাইন পারফর্মার নির্বাচিত করলেও সেরা কনটেন্ট নির্মাতা করছিল না (এখন পর্যন্ত করেনি)। এতে মনটা খুব খারাপ লাগছিল এবং এখনো খারাপ লাগে। সেরা না করার কারণ হিসেবে কর্তৃপক্ষ বলেন যে, আরবি কনটেন্ট দেখে রেটিং প্রদান করার মতো তাদের লোক নেই।
ঠিক এই সময় বিএমটিটিআই, গাজীপুর এর তৎকালীন সহযোগী অধ্যাপক ও বর্তমান অধ্যক্ষ মহোদয় অধ্যাপক মাহমুদুল হক স্যার বিএমটিটিআই, গাজীপুরে প্রভাষক (আরবি) ও সহকারী অধ্যাপকগণের ৫২তম ব্যাচে প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ করে দিলেন। এর আগেও তাঁর সাথে কথা হয়েছিল কনটেন্ট তৈরির প্যাডাগোজিক্যাল বিষয়ে। স্যার বলেছিলেন: ট্রেনিং এ আসলে তিনি কনটেন্টগুলো দেখে প্রয়োজনীয় টিপস্ দিবেন। মাথায় ছিল সেরা হওয়ার ধান্দা। তো স্যারের প্রশিক্ষণের অফারটি লুফে নিলাম। কারণ, ট্রেনিং এর পাশাপাশি স্যারকে কনটেন্ট গুলো দেখানো যাবে। স্যার সারাদিন অফিস, ট্রেনিং ইত্যাদি কাজে প্রচুর বিজি থাকতেন। ঘুমানোর আগে আমাকে নিয়ে বসতেন কনটেন্ট গুলো দেখার জন্য। এভাবে বেশ কিছুদিন কেটে গেল। মাঝে মাঝে ড. নুরুল্লাহ স্যারও সময় দিতেন বাকি কনটেন্ট গুলো দেখার জন্য।
আব্দুল আলীম,
ডিপ্লোমা ইন এ্যরাবিক, এম এ (ডাবল), এমফিল, প্রভাষক (আরবি), পাতাড়ী ফাযিল মাদ্রাসা, সাপাহার, নওগাঁ, ICT4E জেলা এ্যম্বাসেডর, সেরা অনলাইন পারফর্মার, (a2i), সহকারি সমন্বয়ক ও প্রশিক্ষক, অনলাইন আরবি ভাষা প্রশিক্ষণ কোর্স, বিএমটিটিআই, গাজীপুর, বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক (মাদ্রাসা), জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ- ২০২২ ইং
১৪
২৪ মন্তব্য