প্রধান শিক্ষক
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০৮:০৩ অপরাহ্ণ
শিশুর মানসিক বিকাশ ও আমাদের করণীয়
শিশুর মানসিক বিকাশ ও আমাদের সহজ কিছু চাওয়া পাওয়া।
আপনার আর্থিক সচ্ছলতা আপনার শিশুর জন্য একমাত্র ভরসা নয়। হয়তো অর্থ দিয়ে তার খাদ্য,বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা এই চারটির সমাধান করতে পারেন। কিন্তু এই চারটি তার দেহের জন্য অপরিহার্য হলেও মানসিক বিকাশ ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এই চারটি দ্বারা সম্ভব।
তাকে সময় দিন তার মতো করে, তাকে চলতে দিন ওর নিযের পায়ের ভর করে।
উনুনে আগুনের ফুলকি দেখার সৌভাগ্য করে দিন, এটা ওর জন্মগত প্রাপ্তি। শীতের সকালে সবুজ পাতার গা ধুয়ে ঝরে পড়া জলের ফোঁটা, যাকে আমরা শিশির বলি, সেই শিশির ছুঁতে দিন। পূর্ণিমার রাতে উঠোনের ছায়া মানচিত্রের ফাঁকে রূপালি চাঁদের হাসির সাথে গড়ে উঠুক আপনার শিশুর অপূর্ব মিতালি। বর্ষাকালে যখন আমাদের বর্ষীয়ান শিল্পীরা নকশিকাঁথার সুতোয় কান্নাহাসির গল্পকথনে বিভোর থাকেন, তখন আপনার শিশুকে সেই গল্পের শ্রোতা হিসেবে বসিয়ে দিন, দেখবেন আপনার শিশুটি তার স্মৃতি ভাণ্ডারে এক নিবিড় প্রশান্তির আলপনা আঁকিতে সক্ষম হয়ে উঠবে।
কনকনে শীতে গরম মুড়ির কুড়মুড়ে আওয়াজের আবহ শিশুর কানে পৌঁছাতে দিন, তালপাতার পাখার কেড়াৎ কেড়াৎ ধ্বনিতে আপনার শিশুর অলস দুপুরের মুখরিত সংলাপগুলো রচিত হোক।
রাজহাঁসের জলকেলি দেখে মুগ্ধতায় পরিপূর্ণ হোক আমাদের সন্তানের এক জোড়া স্বপ্নিল চোখ।
কাঠঠোকরার চঞ্চুর আঘাতে সৃষ্ট যে শব্দ সেই বিন্যস্ত শব্দের ছন্দই হয়তো হতে পারে আপনার শিশুর মনের অহেতুক নিরবতা ভাঙার গান।
শাপলাপাতা আর জলজ গুল্মের আড়ালে
বৈকালিক রোদের অবগাহন, সেটাও শিশুকে অনুভব করতে দিন, ছুঁতে দিন সেই রোদেলা পরশ- দেখবেন
তৃপ্তির অনুচ্ছেদে পূর্ণতা পাবে আমাদের সন্তানের এলোমেলো ভাবনার শুন্য দিনলিপির পাতা।
আবির রাঙা সন্ধেবেলায় ধেনুবৎসের
গোয়ালে ফেরার ছবিগুলো তাকে দেখান। দেখবেন সে এক অনাবিল আনন্দের স্ফুরণ তার নিশ্বাসে প্রশ্বাসে ছন্দের দোলা দিয়ে যাবে। মায়ের আঁচলের তলায় তাকে লুকোচুরি খেলায় মাততে দিন, বালখিল্য স্বস্তির পুলকসঞ্চারে তার শৈশবের সুসময়কে জীবনের ফ্রেমে ধরে রাখুন।
আসুন, আমাদের প্রতিটি শিশুই যেনো বেড়ে প্রকৃতি আর মানব প্রেমের ছোঁয়ায়। তাদের শৈশব আর কৈশোরের অনিন্দ্য সুন্দর মুহুর্তগুলো হোক তার ভবিষ্যৎ জীবনের জটিল সমীকরণ মেলানোর সহায়ক মহৌষধি হয়ে।
১৪
২২ মন্তব্য