Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০৯:২৫ পূর্বাহ্ণ

বন্যায় কি কি স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি হয়

বন্যায় স্বাস্থ্যঝুঁকি

বাংলাদেশে বন্যা একটি নিয়মিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ। প্রতিবছরই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কোনো না অঞ্চলে বন্যা হয়। বন্যার ফলে সৃষ্ট পানি মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত করে তোলার পাশাপাশি নানা স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণও হয়ে দাঁড়ায়। এসব স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং সঠিকভাবে মোকাবিলা করাই বন্যার সময়ে সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি। বন্যার সময়  নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে। সেগুলো কী কী হতে পারে, সেদিকে নজর দিতে পারি। 

পানিবাহিত রোগের সংক্রমণ
বন্যার পানি সাধারণত ময়লা ও দূষিত হয়। এই পানির মাধ্যমে বিভিন্ন রোগের জীবাণু সহজেই মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

প্রধান কয়েকটি পানিবাহিত রোগ হলো:
ডায়রিয়া: বন্যার সময় বিশুদ্ধ পানির অভাব এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব ঘটে। ডায়রিয়া একটি গুরুতর রোগ, যা শরীরের পানি শূন্যতা ঘটিয়ে প্রাণহানি ঘটাতে পারে।

কলেরা: এই ব্যাকটেরিয়া সংক্রমিত রোগটি দূষিত পানি ও খাদ্যের মাধ্যমে ছড়ায়। কলেরার কারণে তীব্র ডায়রিয়া ও বমি হয়, যা দ্রুত চিকিৎসা না করলে জীবন সংকটাপন্ন হতে পারে।

জন্ডিস (হেপাটাইটিস এ): দূষিত পানির মাধ্যমে এই ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করে এবং যকৃৎকে আক্রমণ করে। এর ফলে চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যায় এবং শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে।

টাইফয়েড: টাইফয়েডের জীবাণু সাধারণত দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। টাইফয়েড জ্বরে দীর্ঘস্থায়ী জ্বর, মাথাব্যথা, এবং পেটে ব্যথা হয়।

ত্বকের সংক্রমণ ও চর্মরোগ
বন্যার পানিতে দীর্ঘক্ষণ ভিজে থাকার কারণে ত্বকে নানা ধরনের সংক্রমণ হতে পারে।

বিশেষ করে, পায়ে চর্মরোগ দেখা দেয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এছাড়া, খোস-পাঁচড়া, ফোসকা পড়া, এবং ফাংগাল ইনফেকশন হওয়ার ঝুঁকিও থাকে।

শ্বাসকষ্ট ও অন্যান্য শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা
বন্যার পানিতে ভেজা ও ঠান্ডা আবহাওয়া থেকে শ্বাসকষ্ট, সর্দি, কাশি এবং অন্যান্য শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

মশাবাহিত রোগ
বন্যার পর পানি জমে থাকা জায়গাগুলোতে মশার বংশবৃদ্ধি হয়, যা ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, এবং চিকুনগুনিয়ার মতো মশাবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটাতে পারে।

মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা
বন্যায় ঘরবাড়ি হারানো, খাদ্য ও পানির সংকট এবং রোগের প্রাদুর্ভাবের কারণে মানুষের মধ্যে মানসিক চাপ, উদ্বেগ এবং হতাশা দেখা দিতে পারে। এই মানসিক সমস্যাগুলো অনেক সময় দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, যদি তা সময়মতো মোকাবিলা না করা হয়।

মন্তব্য করুন