Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০৯:৪৪ পূর্বাহ্ণ

আজ ৮ সেপ্টেম্বর, বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস।

আজ ৮ সেপ্টেম্বর, বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে বিশ^জুড়ে দিবসটি পালন করা হয়। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় কোমরব্যথা, যা বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত। কোমরব্যথা একদিকে যেমন ব্যক্তিজীবনে বিপর্যয় ডেকে আনে, তেমনি কর্মক্ষমতা ও দৈনন্দিন কার্যকলাপে বাধা সৃষ্টি করে থাকে। কোমরব্যথার কারণগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-

মাংসপেশির স্ট্রেইন : অতিরিক্ত ভারী বস্তুর তোলার ফলে বা ভুলভাবে বাঁক হলে কোমরের পেশিতে টান পড়ে, যা ব্যথার কারণ হতে পারে।

ডিস্কের সমস্যা : স্পাইনাল ডিস্ক থেকে বের হয়ে আসা বা সরে যাওয়ার কারণে স্নায়ুতে চাপ পড়তে পারে, যা কোমরব্যথা সৃষ্টি করে।

আর্থ্রাইটিস : কোমরের সন্ধিতে প্রদাহজনিত রোগ, যেমন- অস্টিওআর্থ্রাইটিস বা রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে এ ব্যথা সৃষ্টি হতে পারে।

স্পাইনাল স্টেনোসিস : মেরুদণ্ডের টানেল সংকুচিত হলে স্নায়ুতে চাপ পড়ে। ফলে কোমরে ব্যথা অনুভূত হয়।

বয়সজনিত কারণ : বয়স বাড়লে যেমন হাড়ের ক্ষয় শুরু হয়, তেমনি কোনো কোনো অংশে হাড় বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে অস্টিওফাইট। সমস্যাটি স্পন্ডালোসিস বা কোমরব্যথার অন্যতম কারণ।

কোমরব্যথার প্রভাব : এটি একটি প্রচলিত সমস্যা, যা বিশ্বের বিশাল জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৮০ শতাংশ মানুষকে কোনো না কোনো সময় প্রভাবিত করে। কোমরব্যথায় দৈনন্দিন কার্যকলাপে বাধা সৃষ্টি হতে পারে। এটি মানবজীবনে নানা সমস্যার সৃষ্টি করে। যেমন-

মোবিলিটি কমে যাওয়া : কোমরব্যথায় চলাফেরায় সমস্যা হতে পারে, যা কর্মক্ষমতা হ্রাস করে।

মানসিক প্রভাব : দীর্ঘস্থায়ী কোমরব্যথা মানসিক চাপ ও বিষণ্নতার কারণ হতে পারে।

পেশাগত সমস্যা : কোমরব্যথার কারণে কর্মস্থলে উপস্থিতি ও কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে।

ফিজিওথেরাপির গুরুত্ব : ফিজিওথেরাপি কোমরব্যথা চিকিৎসায় অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে। এর বিভিন্ন দিক হলো-

পেশি শক্তিশালীকরণ ও স্ট্রেচিং : ফিজিওথেরাপিস্টরা কোমরের পেশি শক্তিশালীকরণ ও স্ট্রেচিং এক্সারসাইজ দিয়ে রোগীর কোমরের সমস্যা সমাধানে সহায়তা করেন।

ম্যানুয়াল থেরাপি : কোমরের গতিশীলতা উন্নত করার জন্য স্পাইনাল ম্যানিপুলেশন ও মবিলাইজেশনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।

পোশ্চার কারেকশন : সঠিকভাবে বসা ও দাঁড়ানোর কৌশল শেখানো হয়, যা কোমরের অতিরিক্ত চাপ কমায়।

ব্যথা ব্যবস্থাপনা : ফিজিওথেরাপি বিভিন্ন পদ্ধতি, যেমন- গরম বা ঠাণ্ডা থেরাপি, ইলেকট্রিক্যাল স্টিমুলেশন ইত্যাদি ব্যবহার করে ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।

শিক্ষা ও পরামর্শ : রোগীর কোমরব্যথা প্রতিরোধে কীভাবে সঠিকভাবে ওঠা-বসা করতে হবে, ভার উত্তোলনের নিয়ম ও দৈনন্দিন কার্যকলাপের কৌশল শেখানো হয়।

তাই আসুন, কোমরব্যথা সম্পর্কে আমরা সচেতন হই এবং ব্যথা দূরীকরণে ব্যবস্থা গ্রহণ করে সুস্থ জীবনযাপন করি।

মন্তব্য করুন