Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০১:১৫ অপরাহ্ণ

আমাতে তোমার পূর্ন হোক

রবীন্দ্রনাথ আমাদের, অর্থাৎ বাঙালিদের চোখে উপনিষদের একজন ঋষি ছিলেন৷ ছোট বেলা থেকে আমিও সেভাবেই তাঁকে চিন্তা করতে অভ্যস্ত৷ কিন্তু বাংলা সাহিত্যে, বিশেষ করে বিদেশে, রবীন্দ্রনাথকে একজন আধ্যাত্মিক কবি হিসেবে ধরা হয় - এ কথা কি খুব সহজেই মেনে নেওয়া যায়? প্রশ্ন করি সদ্য অবসরপ্রাপ্ত আমাদের দীর্ঘদিনের সহকর্মী উজ্জ্বল ভট্টাচার্য্যকে৷ তিনি বলেন,‘‘রবীন্দ্রনাথ অনেক কিছু ছিলেন এবং সেই সঙ্গে আধ্যাত্মিক কবিও ছিলেন৷ তাঁর যে রচনাকর্ম, তাঁর জীবন, নিজের সময়ে নিজের ভুমিকা খোঁজার চেষ্টা এবং সেই অনুযায়ী নিজের জীবনকে গড়ে তোলা - সব ক্ষেত্রেই তাঁর আধ্যাত্মিক চিন্তা বা ঈশ্বরচিন্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল৷ সুতরাং সেই হিসেবে বলা চলতে পারে যে, তিনি আধ্যাত্মিক কবি ছিলেন বা আধ্যাত্মিক কবিও ছিলেন৷''

রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, উপনিষদের সব পুরুষ ঋষিদের জ্ঞানগম্ভীর বাণীর মধ্যে একটি নারীর ব্যাকুল বাণী ধ্বনিত-মন্ত্রিত হয়ে উঠেছে - যা কখনোই বিলীন হয়ে যায়নি৷ তিনিও জানতেন,

অসতো মা সদ্গময়, তমসো মা জ্যোতির্গময়...
রুদ্র যত্তে দক্ষিণং মুখং তেন মাং পাহি নিত্যম৷

অর্থাৎ, হে সত্য, সমস্ত অসত্য হতে আমাকে তোমার মধ্যে নিয়ে যাও; হে প্রকাশ, তুমি একবার আমার হও, আমাতে তোমার প্রকাশ পূর্ণ হোক৷

তাই স্বাভাবিকভাবেই উজ্জ্বল ভট্টাচার্য্যের কাছে জানতে চাই - রবীন্দ্রনাথের ঈশ্বরচিন্তায় উপনিষদের ভূমিকা কি? উজ্জ্বল ভট্টাচার্য্যের কথায়, ‘‘রবীন্দ্রনাথ যখন তাঁর কৈশোরের প্রারম্ভে, তখন তাঁর বাবা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে নিয়ে হিমালয়ে যেতেন৷ এবং দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন ব্রাহ্মধর্মের এক স্তম্ভ৷ উনি রবীন্দ্রনাথকে উপনিষদের শ্লোক পড়াতেন, মুখস্থ করতে দিতেন, তার মানে বলে দিতেন৷ সেই যে বাবার সঙ্গে যোগাযোগ, উপনিষদের সঙ্গে পরিচয় এবং তার সঙ্গে হিমালয়ের পরিবেশ - এগুলোর একটা গভীর ছাপ তাঁর জীবনে পড়েছে৷ আমার মনে হয়, তাঁর রচনাকর্মের প্রথম দিকে এটাই ছিল সবচেয়ে প্রভাবশালী ছাপ৷ ফুল যেভাবে কুঁড়ি থেকে বিকশিত হয়, তেমনই উপনিষদের চিন্তা থেকেই রবীন্দ্রনাথের আধ্যাত্মিকতার বিকাশ হয়েছে৷''

মন্তব্য করুন