সহকারী শিক্ষক
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
আমাদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্থিসন্ধি হলো হাঁটু, যা শুধু আমাদের শরীরের ওজনই বহন করে না; স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে, সোজা হয়ে দাঁড়াতে, দৌড়াতে, এমনকি আমাদের বসতেও সাহায্য করে। নাবালক থেকে বৃদ্ধ– সব বয়সেই যে কারও হাঁটুতে ব্যথা হতে পারে। হাঁটুর ব্যথা কোনোভাবেই অবহেলার বিষয় নয়। এর সঠিক চিকিৎসার অভাবে চলাফেরায় দীর্ঘমেয়াদি বা স্থায়ী অক্ষমতা দেখা দিতে পারে, যা পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সমস্যা তৈরি করে।
হাঁটুব্যথার কারণ
lবয়সজনিত হাঁটুর হাড়, তরুণাস্থিসহ বিভিন্ন গাঠনিক পরিবর্তন; lবাতব্যথা; lআঘাতজনিত হাঁটুর পেশি ও লিগামেন্টে হঠাৎ করে টান বা চাপ খেলে বা লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেলে অথবা আঘাতপ্রাপ্ত হলে; lজীবাণুর সংক্রমণজনিত; lক্রিস্টাল বা স্ফটিক জাতীয় পদার্থের অস্বাভাবিক উপস্থিতি এবং তার প্রভাব; lকোমরের সমস্যাজনিত ব্যথা হাঁটুতে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়লে; lসঠিক দেহভঙ্গির অভাবে হাঁটুর ওপর অতিরিক্ত চাপ; lঅন্যান্য রোগ, যেমন– টিউবারকিউলোসিস, হিমোফিলিয়া, ক্যান্সার ইত্যাদি।
উপসর্গlনাবালক থেকে বয়োবৃদ্ধ, যারা হাঁটুর ব্যবহার করেন প্রচুর; lপঞ্চাশোর্ধ্ব প্রায় সবাই (তবে ঝুঁকিতে মহিলারা একটু বেশি); lশারীরিক স্থূলতা; lদীর্ঘ দূরত্বে দৌড়ানো কম শারীরিক নড়াচড়া; lসাধারণ তাপমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত ঠান্ডায় কাজ করা লোকজন।
সমাধানের উপায়
হাঁটুব্যথার জন্য সুনির্দিষ্ট চিকিৎসার প্রয়োজন হয়ে থাকে। এর জন্য ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার পাশাপাশি ল্যাবরেটরি বা প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার প্রয়োজন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথানাশক ওষুধ গ্রহণ করা উচিত। তবে এ ক্ষেত্রে রিহ্যাবিলিটেশন বা পুনর্বাসন চিকিৎসা খুবই কার্যকর। ফিজিক্যাল এজেন্টের ব্যবহার এবং সুনির্দিষ্ট কিছু ব্যায়াম করলে অনেকাংশেই ভালো থাকা যায়। আবার কিছু ক্ষেত্রে ইন্টারভেনশনাল চিকিৎসাও দেওয়া হয়। এমনকি মারাত্মক কিছু ক্ষেত্রে হাঁটু রিপ্লেসমেন্টেরও প্রয়োজন হতে পারে। প্রয়োজনে চলাফেরায় হাঁটুতে বাহ্যিক চিকিৎসাসেবা হিসেবে হাঁটুবন্ধনী বা স্প্লিন্ট ব্যবহার করা যেতে পারে।
হাঁটুব্যথা প্রতিরোধের উপায়
lচলাফেরার সময় যথাসম্ভব সমতল রাস্তা ব্যবহার করুন। lদীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে কাজ করা যাবে না। যদি করতেই হয়, তাহলে একটি টুলে এক পা রেখে সেটিকে কিছুক্ষণ বিশ্রাম দিন। সুযোগে একটু চেয়ারে বসুন। মাঝেমধ্যে সাময়িক সময়ের জন্য হাঁটাচলা করা যেতে পারে। lবহুতল ভবনের ক্ষেত্রে ওপরে-নিচে ওঠানামার সময় লিফট ব্যবহার করুন। অন্যথায়, সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় ভালো পা (ব্যথাবিহীন হাঁটু),lবহুতল ভবনের ক্ষেত্রে ওপরে-নিচে ওঠানামার সময় লিফট ব্যবহার করুন। অন্যথায়, সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় ভালো পা (ব্যথাবিহীন হাঁটু), নামার সময় অন্য পা আগে ব্যবহার করুন। একনাগাড়ে দীর্ঘ উচ্চতায় সিঁড়িতে না উঠে মাঝে কিছু বিরতি নিন। তবে সিঁড়ি ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।
হাঁটুব্যথা, হাঁটু ফুলে থাকা, ভাঁজ করতে কষ্ট হওয়া, বসা থেকে দাঁড়ানো ও দাঁড়ানো থেকে বসতে কষ্ট হওয়া, হাঁটু পুরোপুরি সোজা করতে অক্ষম।
ঝুঁকিতে কারা
৪
৫ মন্তব্য