সহকারী শিক্ষক
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০৯:২২ অপরাহ্ণ
বিন্নি চালের স্বাদগত বিশেষত্ব
সুন্দর রং ও সুঘ্রাণসমৃদ্ধ এই চাল রানার পর অনেক বেশি আঠালো হয়ে যায়। এজন্যেই একে ইংরেজিতে বলে Sticky Rice। কিন্তু এই আঠালো চাল দিয়েই আমাদের গ্রামবাংলার নারীরা তৈরি করতেন মুখরোচক সব পিঠা, পায়েস ও খিচুড়ি। পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী খাবার মধুভাত তৈরিতে ব্যবহার হয় এই আঠালো বিন্নি চাল।
চীনে কালো বিন্নি চালের ইতিহাস অনেক পুরানো। চৌদ্দ শতক থেকেই চীনে এই চালের চাষ হত। কিন্তু মজার ব্যাপার হল সেইসময় রাজা বা রাজ পরিবার ছাড়া আর কারোই সেই চালের ভাত খাবার অধিকার ছিল না। প্রজাদের জন্য এই চাল নিষিদ্ধ ছিল। তাই এখনো চীনে এই চাল Forbidden Rice বা নিষিদ্ধ চাল নামেই পরিচিত।
আমাদের দেশে আদিবাসীদের কাছেও এই চাল বিলাসী খাদ্য বা দামী চাল হিসেবে পরিচিত। উৎসবে, অনুষ্ঠানে বিন্নি চাল তাদের এক অপরিহার্য অনুষঙ্গ। বিন্নি ধান ছাড়া তাদের সমাজে কোনো বিয়ের প্রস্তাব গৃহীত হয় না। চাকমা ও মারমারা এই চালকে ‘পোড়া বিন্নি’ নামে চেনে।
যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে ব্যস্ত পৃথিবী আরও ব্যস্ততর হচ্ছে, সেই সাথে বাড়ছে আমাদের জ্ঞানের পরিধি। আদি বাংলার ঐতিহ্যবাহী ধান সম্পর্কে জানার পর তাই আমাদের চেষ্টা করতে হবে যেন শুধুমাত্র জসীম উদদীন এর গ্রাম্য কবিতাই বিন্নি চালের শেষ আশ্রয় না হয়। এই বিখ্যাত বিন্নি চাল যেন বাংলার ঘরে ঘরে রয়ে যায় এর বিশেষ স্বাদ ও গুণাগুণ নিয়ে।
১৪
২১ মন্তব্য