Loading..

ব্লগ

রিসেট

১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ১২:০৫ অপরাহ্ণ

তিসির বীজের নানা গুণ,

ন্টেস্টাইন, কোলনের ওয়ালে লেগে থাকা দূষিত উপাদান বের করতে অনন্য ভূমিকা পালন করে। অন্ত্রের ভেতরে থাকা জ্বলীয় পানি, যা বের হওয়ার কথা কিন্তু বের হয়নি, সেটি শোষণ করার ক্ষমতা রয়েছে তিসির ফাইবারে।

কোলেস্টেরল ব্যালেন্স করবে: কোলেস্টেরল আমাদের শরীরে প্রয়োজন, কিন্তু তা থাকতে হবে পরিমাণমতো বা ব্যালেন্স থাকতে হবে কমবেশি কিছু না। তিসির গুণ হলো আমাদের শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল- এলডিএল কমাবে, আর ভালো কোলেস্টেরল- এইচডিএল বাড়াবে। তিসি শরীরের মোট কোলেস্টেরল এবং কম ঘনত্বের লাইপোপ্রোটিন (এলডিএল বা ‘খারাপ’) কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। এটি উচ্চ কোলেস্টেরলযুক্ত ব্যক্তিদের এবং অতিরিক্ত ওজনযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো কাজ করে বলে গবেষণায় এসেছে।

ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের সাহায্য করে: তিসি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অন্ত্রের গতি বাড়ায়। যার কারণে ডায়াবেটিস রোগীদের অন্ত্র সচলতায় গতি আসে, যার কারণে হজমে গণ্ডগোল থাকে না, বিপাকীয় উন্নতি হয়ে রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণের কিছুটা উন্নতি করে।

ওজন কমাতে সাহায্য করে: প্রতিদিন নিয়মিত তিসি খেলে শরীরের ওজন, বডি মাস ইনডেক্স (BMI) এবং প্রাপ্তবয়স্কদের কোমরের আকার কমাতে সাহায্য করে। যাদের বিএমআই ঠিক নেই, তারা তিসি খেতে পারেন।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে: তিসি খাওয়ার কারণে উচ্চ রক্তচাপযুক্ত ব্যক্তিদের রক্তচাপ কিছুটা কমতে পারে। বিশেষ করে তরুণ বয়সে যারা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন, এখনো নিয়মিত ওষুধ খাওয়া শুরু করেননি; তারা তিসি খেতে পারেন এবং এতে উপকার পাবেন।

হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে: তিসি ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের একটি ভালো উৎস হওয়ার কারণে উচ্চ রক্তচাপের জন্য হার্টের ক্ষতি হওয়া থেকে বেঁচে যাবেন। হার্ট ভালো থাকবে, হার্টের প্রয়োজনীয় ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের কারণে কোলেস্টেরল শরীরে ব্যালেন্স তৈরি করে, তার সঙ্গে ফ্যাটি অ্যাসিডের একটি বড় ভূমিকা থাকে। যার কারণে সিঁড়ি বেয়ে ওঠা ও হাঁটায় যাদের কষ্ট হয়, তারা নিয়মিত তিসি খেলে এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।

মায়েদের নানা সমস্যায়: স্তনে ব্যথা (মাস্টালজিয়া) ও মাসিক চক্রে সমস্যা থাকলে তিসি খেলে স্তনের ব্যথা কমিয়ে দেয়, যা মাসিক চক্রের শুরুতে ঘটে। সেই সঙ্গে মাসিক চক্রে সমস্যা থাকলে তা দূর করতে সাহায্য করে।

এ ছাড়া তিসি লুপাস আক্রান্ত ব্যক্তিদের কিডনি ফুলে যাওয়া (প্রদাহ), SLE আক্রান্ত ব্যক্তিদের কিডনির কার্যকারিতা উন্নত করে।

তিসি কীভাবে খাবেন, কতটুকু খাবেন: তিসি প্রথমে ফ্রাই প্যানে একটু টেলে নেবেন, তারপর সেটি কাচ বা প্লাস্টিকের বয়ামে সংরক্ষণ করবেন। খাওয়ার সময় এক টেবিল চামচ তিসি ভাত অথবা সালাদের সঙ্গে মিশিয়ে খাবেন। তিন মাস নিয়মিত খেলে উপকার পাওয়া যাবে। তিসি তেলজাতীয় হওয়ায় বেশি দিন সংরক্ষণ করা যায় না। তাই এক সপ্তাহে যতটুকু খাবেন ততটুকু টেলে নিতে পারেন। প্রতিদিন একজন মানুষ ৩০ গ্রাম তিসি খেতে পারবেন।

তবে কারও কারও ক্ষেত্রে তিসির কারণে পেট ফুলে যাওয়া, গ্যাস, পেটে ব্যথা এবং বমি বমি ভাবের মতো পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়াও সৃষ্টি করতে পারে। উচ্চ মাত্রায় আরও পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সঠিক নিয়মে খেলে কোনো সমস্যা হবে না। কাচা বা অপরিপক্ব তিসি গ্রহণ করা অনিরাপদ।

মন্তব্য করুন

ব্লগ