Loading..

ব্লগ

রিসেট

১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০৪:৫৬ অপরাহ্ণ

শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে ৮ বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ও ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ও মাননীয় শিক্ষা উপদেষ্টা মহোদয় বরাবর স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি সম্পন্ন

?২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফলে রাষ্ট্র সংস্কারের নতুন প্রত্যয় নিয়ে যে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে, আমরা তাদের স্বাগত জানাই। একইসাথে আন্দোলনের শহিদ আমাদেরই বহু মেধাবী শিক্ষার্থী, শিশু ও সাধারণ জনগণ এবং আহত সকলের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা। সেই সাথে আমরা প্রতিটি হত্যার সুষ্ঠু বিচার দ্রুত সময়ের মধ্যেই কামনা করি। 


?রাষ্ট্র সংস্কারের ১ম ধাপ হিসেবে, শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কার ও শিক্ষাক্ষেত্রে সকল বৈষম্য নিরসন করা জরুরি। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে, মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট করতে হবে, আর সেই জন্য প্রয়োজন শিক্ষকদের জন্য সতন্ত্র বেতন কাঠামো। শিক্ষকদের যোগ্যতা নিয়ে বিগত সময়ে অযৌক্তিক প্রশ্ন করা হয়েছিল, আপনাদের জানিয়ে রাখতে চাই বর্তমান নিয়োগ পদ্ধতি অনুযায়ী একজন প্রার্থীকে, সবনিম্ন স্নাতক অথবা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি অর্জন করে, NTRCA কর্তৃক প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও, গণবিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করে জাতীয় মেধার ভিত্তিতে শিক্ষকতা পেশায় আসতে হয়। বর্তমান সময়ের অধিকাংশ শিক্ষকই স্নাতক অথবা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক (সম্মান), স্নাতকোত্তর, বিএড, এমএড ও উচ্চতর ডিগ্রিসহ আইটি-তে বিশেষ দক্ষ। 

?আমরা দেশের প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী বিগত ৫৩ বছর ধরে যে বৈষম্যের স্বীকার, আজ তা থেকে মুক্তির উদ্দেশ্যে আমরা সারা দেশে একযোগে প্রধান উপদেষ্টা, শিক্ষা উপদেষ্টা, ৮ বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ও ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রেরণ করেছি। আমরা শিক্ষক সমাজ, সর্বদা দেশ ও জাতির কল্যাণে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে আসছি তারই ধারাবাহিকতায় আজ আমরা স্মারকলিপি প্রদান করছি। আমরা চাই না যে, আর কোনো অপশক্তি দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করুক, আমাদের কেহই আর সে সুযোগও দিবো না।


?দেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৯৭% শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করে, যাদের অধিকাংশই মফস্বলে। সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর মাসিক বেতন ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকার মধ্যে, সেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর মাসিক বেতন শহরে ৫০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকা এবং মফস্বলে ২০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। শহর এবং গ্রামের বিভিন্ন পেশাজীবী অভিভাবকের ক্ষেত্রে একাধিক সন্তানের লেখাপড়ার খরচ চালানো অনেকটাই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। তাই , শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আয় বুঝে নিয়ে সকল বৈষম্য দূরীকরণের মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ করা হলে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সকলেই উপকৃত হবে, সেই সাথে জাতীয় বাজেটে অতিরিক্ত কোনো অর্থ বরাদ্ধ দিতে হবে না। 

আমরা কোনো শ্রেণিপেশার মানুষকেই ছোটো করে দেখছি না, উদাহরণ হিসেবে বলতে চাচ্ছি, যেখানে একজন দিনমজুর এর দৈনিক মজুরি ৬০০টাকা, একজন রিকশা চালকের দৈনিক আয় ৮০০-১৫০০টাকা, মাসিক ১৫,০০০ টাকাতেও একজন পার্টটাইম গৃহকর্মী পাওয়া যায় না, সেখানে গ্রাজুয়েশন, পোস্ট গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করা শিক্ষকের প্রারম্ভিক বেতন ১২,৫০০টাকা যা সর্বসাকুল্যে ১২,৭৫০ টাকা! ইদ বোনাস ২৫%! জাতি গড়ার কারিগরদের সাথে এটা উপহাস নয় কী! সকল বৈষম্যের একটা ফরম্যাট যুক্ত করলাম।

?শিক্ষাব্যবস্থা হবে সার্বজনীন, সর্বস্তরের শ্রেণি-পেশার মানুষের সন্তানও যেনো সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নের সুযোগ পায়, তা নিশ্চিত করার জন্যও শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের বিকল্প নেই।

আজ জাতীয় স্বার্থে, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের স্বার্থে সারা দেশের বৈষম্যবিরোধী সম্মিলিত শিক্ষক সমাজ, এক দাবি শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের মাধ্যমে, শিক্ষাক্ষেত্রে সকল বৈষম্য দূরীকরণ করা সম্ভব বলে বিশ্বাস করে। 

সারাদেশের শিক্ষক সমন্বয়কগণ, একযোগে প্রধান উপদেষ্টা, শিক্ষা উপদেষ্টা, ৮ বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ও ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেন। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে প্রধান উপদেষ্টা ও শিক্ষা উপদেষ্টা কে স্মারকলিপি প্রদান করেন মোঃ শাহ্‌ আলম, মোহাম্মাদ ইমাম হোসেন এবং মোঃ অহিদুর রহমান এবং বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে সমন্বয় করেন মোঃ সোহেল রানা, মোঃ শামসুল ইসলাম, মোঃ আবুল কালাম, মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, মোঃ আনোয়ার হোসেন, মো. আনিসুর রহমান, নূরুল আমিন হেলালি, মোঃ তানজিম হোসাইন, তারেক আল আজিজ, মোঃ আসাদুজ্জামান মিঠু, মোঃ শরিফ আহমেদ, ওবায়দুর রহমান সহ বিভিন্ন জেলা সমন্বয়কগণ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ। 


মোহাম্মদ ইমাম হোসেন

কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক

বৈষম্যবিরোধী সম্মিলিত শিক্ষক সমাজ

মন্তব্য করুন