সহকারী শিক্ষক
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০৬:৫৩ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
গরম বলে নয় অনেকেই আছেন সারা বছরই সুতির পোশাক পরতে আরাম ও স্বচ্ছন্দবোধ করেন। ফ্যাশনে ক্যাজুয়াল ও ফরমাল দুধরনের পোশাকের ক্ষেত্রে সুতিকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। সুতির সঙ্গে প্রাকৃতিক ও রাসায়নিক উপাদানের মিশ্রণে তৈরি হচ্ছে মিহি সুতির কাপড়। যার চাহিদা গরমের সময় আরও বাড়ে। বিস্তারিত লিখেছেন নাহার সুলতানা
গরমের সময় সুতির পোশাকের চাহিদা থাকে সব থেকে বেশি। ক্যাজুয়াল কিংবা ফরমাল দুই ধরনের পোশাকের ক্ষেত্রে সুতিকেই বেশি প্রধান্য দেওয়া হয়। কারণ সবার দরকার আরাম ও স্বস্তি। প্রচন্ড গরমে সুতি কাপড়ের পোশাক দেহে ও মনে স্বস্তি এনে দেয়। সুতি কাপড়ের ব্যবহার আমাদের দেশে অনেক আগে থেকেই চলে আসছে। আর ফ্যাশন হাউজগুলোতেও গ্রীষ্মকালীন সংগ্রহে সুতি কাপড়কে প্রাধান্য দিয়েছেন। তৈরি করছে বিভিন্ন ডিজাইনের সুতির পোশাক। নকশা আর কাটিং প্যাটানেও গরমের বিষয়টাকে মাথায় রেখেছেন। সুতির কাপড় আরামদায়ক, পাতলা তাই সহজেই বাতাস ঢুকতে পারে আর ঘেমে ভিজে গেলেও দ্রুত শুকিয়ে যায়।দেশের কয়েকটি অঞ্চল সুতির কাপড়ের জন্য বিখ্যাত। টাঙ্গাইল, নরসিংদী, কুমিল্লা, মানিকগঞ্জের সুতির কাপড় অনেক জনপ্রিয়। সুতি কাপড়ে ডিজাইন করে ডিজাইনারা যেমন স্বাচ্ছন্দ্য খুঁজে পান। যে কোনো নকশা অনায়াশেই ফুটিয়ে তুলতে পারেন। তেমনি গরমে হালকা রঙের পোশাকের প্রাধান্য ফুটে ওঠে নানা ধরনের সুতির কাপড়ে। এখন আরও রেশমি ও মিহি করে সুতি কাপড় বোনা হচ্ছে। কাপড়ের সুতা মূলত প্রাকৃতিক তন্তু দিয়ে তৈরি। রেশম গুটি, কার্পাস তুলার মতো প্রাকৃতিক নানা উৎস থেকে আসে এর উপাদান। আগে শুধু তাঁতের সাহায্যে সুতি বোনা হতো।এখন স্পিনিং ও নিটিংয়ের মাধ্যমে সুতির সুতা মজবুত ও মসৃণ করা হচ্ছে। এই সুতা দিয়েই তৈরি হচ্ছে সুতি কাপড়ের পোশাক। যার বুননও অনেকটা মসৃণ হয়েছে। সুতি কাপড়ের সঙ্গে এখন অন্যান্য উপাদানের মিশ্রণ ঘটানো হচ্ছে। এতে সুতির পোশাকে যোগ হচ্ছে নতুন নতুন বৈচিত্র্য। সুতির সঙ্গে প্রাকৃতিক ও রাসায়নিক উপাদানের মিশ্রণে লিনেন, ফ্লানেল, এন্ডির মতো আরামদায়ক কাপড়ও বোনা হচ্ছে। পোশাকে নতুনত্ব আসছে। ব্যবহারেও আরাম ও বৈচিত্র্য যোগ হচ্ছে।গরমে কেন সুতিসুতির পোশাক আরামদায়ক তেমনি সহজলভ্য। বাজেট অনুযায়ী সুতি কাপড়ের পোশাক কেনা যায়। সুতির অন্য সব পোশাকের মতো সুতির শাড়িও দামে কম, আবার দেখতেও সুন্দর। গরমে সুতি কাপড়ের পোশাক পরলে শরীরে ঘাম কম হবে। আর ঘাম হওয়ার সুতি কাপড়ের পোশাক পাতলা হওয়ায় সহজেই বাতাস চলাচল করতে পারে। ফলে ঘাম হলেও খুব দ্রুত তা শুকিয়ে যায়। শরীর সতেজ রাখে। ঘামাচি, র্যাশ, শরীরের জ্বালাপোড়া থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
অম্বরের ডিজাইনার শ্রাবনী রায় জানান, ‘গ্রীষ্মের দাবদাহ ও গরমে সুতি কাপড়ের পোশাক শরীর ও মনে শান্তি ও স্বস্তি এনে দেয়। মন ভালো থাকে। সুতি কাপড় পরে এ সময় কাজ করেও শান্তি পাওয়া যায়। নরম ত্বকে সুতি কাপড়ের পোশাক আরামদায়ক ভাব এনে দেয়।তা ছাড়া সুতি কাপড় ধোয়ায় বেশি কষ্টও হয় না। এখন শাড়ি, পাঞ্জাবি, শার্ট, স্কার্ট, টপস, কাফতান, কুর্তি, প্যান্ট, ফতুয়া, সালোয়ার-কামিজ, টি-শার্টসহ সব ধরনের পোশাকই সুতি কাপড়ে তৈরি হচ্ছে। ফলে ফরমাল ও ক্যাজুয়াল দুভাবেই সুতি কাপড়ের পোশাক বেছে নেওয়া সম্ভব। সুতি কাপড়ের পোশাক সব জায়গায়ই মানিয়ে যায়। গরমে আরামের জন্য মেয়েদের পোশাকের গলা বড় রাখা হয়েছে, লুজ ফিটিং প্রধান্য দেওয়া হয়। এছাড়া হাফ স্লিভ ও ফুল স্লিভ দুধরনের পোশাকই আছে।
সুতির পোশাকের যত্ন
গরম বলে নয়, সারা বছরই সুতির পোশাক পরতে পছন্দ করেন অনেকে। উৎসব-অনুষ্ঠান হলে আলাদা বিষয়। তবে বাকি সময়ে দৌড়ঝাঁপ সামলাতে সুতির পাতলা, আরামদায়ক পোশাকই ভরসা। সপ্তাহের সাত দিনই কোনো না কোনো কাজে বাইরে বেরোতে হয়। এক জামা দুদিনের বেশি পরাও ঠিক নয়। আলমারিতে রেখে দেয়ার আগে পরিষ্কার করে কেচে না রাখলে সাদা দাগ পড়ে যায়। এদিকে সুতির কাপড় আবার বেশি বার ধুলে রঙ হয়ে যেতে পারে ফ্যাকাশে। সুতির পোশাক কাচার সময়ে কোনো বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে
সুতির পোশাক লিকুইড সাবান দিয়ে কাচতে পারলে ভালো। গরম পানিতে বেশি সময় ভিজিয়ে রাখা যাবে না। রঙ চটে যেতে পারে। সুতির পোশাক কাচার সময়ে ঠান্ডা পানি ও হাতে ধোয়াই সব থেকে ভালো।
সুতির কাপড় যদি ওয়াশিং মেশিনে কাচেন, তা হলে সাবানের সঙ্গে এক কাপ ভিনিগার মিশিয়ে দিতে পারেন। এতে কাপড়ের ঔজ্জ্বল্য বজায় থাকবে। জামাকাপড়েও সুন্দর গন্ধ হবে।
চড়া রোদে সুতির কাপড় না মেলাই ভালো। এতে জামাকাপড়ের রঙ উঠে যেতে পারে। সুতির কাপড় শুকাতে খুব বেশি সময় লাগে না। তাই পড়ন্ত রোদে কিংবা ছায়া আছে এমন জায়গায় কাপড় মেলে দিন।
অনেক সুতির কাপড় প্রথমবার কাচার সময়ে রঙ উঠতে থাকে। এ ক্ষেত্রে সুতির কাপড় প্রথমবার ধোয়ার সময়ে লবণ পানিতে কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রাখুন। তারপর সাবানে কাচুন। দেখবেন রঙ উঠবে না। কাপড়ের জেল্লাও বজায় থাকবে। কাপড় মসৃণ ও সুন্দর রাখতে মাড় দেওয়া যেতে পারে।
কাপড়ে দাগ লাগলে জায়গাটি পানিতে ঘণ্টা দুয়েক ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর সাবান দিয়ে ধুলে দাগ উঠে যাবে। সুতির পোশাক উল্টো দিক ইস্ত্রি করে নিতে হবে।
ঘর্মাক্ত পোশাক ভাঁজ করে আলমারিতে রাখা যাবে না। এতে পোশাকে দুর্গন্ধ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, ফাঙ্গাস ও ছত্রাক জন্মাতে পারে। এ জন্য সুতি কাপড়ের পোশাক ঘেমে গেলে আগে ঘাম শুকাতে হবে। ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। রোদে শুকিয়ে তারপর উল্টো করে ইস্ত্রি করতে হবে।
৭
৭ মন্তব্য