সহকারী শিক্ষক
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ১১:১৮ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
উফ! গরমে যেন একেবারেই স্বস্তি নেই। সবাই খুঁজে ফিরছে একটু শীতলতা। প্রকৃতিও গুটিসুটি হয়ে বসে আছে। সূর্য কথা বলছে চোখেমুখে। এই প্রখরতায় কি দিনযাপন সম্ভব?
গরমে এক কথায় সুতিই সবার পছন্দ। পাতলা সুতি কাপড়ের পোশাক পরলে একদিক থেকে যেমন গরম কম লাগবে; অন্যদিকে, আরামও লাগবে। ফলে স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করা যাবে। পাতলা তাঁত ও খাদি কাপড়ের পোশাকও এ সময় পরা যায়। পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে সবার উচিত এই ধরনটিকে প্রাধান্য দেওয়া। গরমের পোশাকের ক্ষেত্রে সাদা, হালকা গোলাপি, হালকা বেগুনি, হালকা নীল, বাদামি, আকাশি, হালকা হলুদ, ধূসরসহ হালকা রঙের পোশাকগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। গরমে সাদা ও অন্যান্য হালকা রঙের পোশাক শুধু তাপ শোষণই করে না, সেই সঙ্গে চোখকে দেয় প্রশান্তি। সুতি কাপড়ের সঙ্গে লিনেন, ধুপিয়ান, ভয়েল, মসলিন ও তাঁতের কাপড় গরমের জন্য বেশ উপযোগী।
কাপড় শুধু সুতি হলেই চলবে না, হতে হবে কাটিং কমফোর্ট। আঁটসাঁট পোশাক এই গরমে দম ফেলতে দেবে না। তাই পোশাক একটু ঢিলেঢালা হলেই বেশি ভালো হয়। যাদের উঁচু কলারের পোশাক পরার অভ্যাস, এই গরমে কলার ছাড়া বড় গলা পরতে পারেন, আরাম পাবেন। আর হাতা ছোট হলেও গরম কম লাগবে। গরমে ফুল স্স্নিভ আরামদায়ক নয়। বরং ঢিলেঢালা হালকা রঙের পোশাক পরলে আপনাকে যেমন দেখতে সুন্দর লাগবে, তেমনি কাজেও মন বসবে।
সুতি পোশাক সহজেই ঘাম শুষে নেয়। তা ছাড়া প্রাকৃতিক তন্তুর তৈরি বলে মসৃণও হয়। কৃত্রিম তন্তুর তৈরি কাপড়ের পোশাক এ সময় একেবারেই বাদ দেওয়া ভালো। কারণ, গরমের সময় এ কাপড় পরলে ত্বকে অ্যালার্জি হতে পারে। তা ছাড়া এ কাপড় ঘাম শুষে নিতে পারে না, ফলে পোশাকটা শরীরে চিটচিটেভাবে লেগে থাকে- যা অস্বস্তি সৃষ্টি করে।
চোখের শান্তি বলে একটি কথা আছে। যে পোশাকটা দেখাতে ভালো লাগে, সেটা পরেও আরাম। তাই এ সময়ের পোশাকের রং হবে হালকা। হালকা নীল, সাদা, গোলাপি, লেবু রং, হালকা বেগুনি, আকাশি এসব রঙের পোশাকই গরমে আরামদায়ক।
কাটিং কমফোর্ট
গরমে পোশাকের ধরনেও আসে নানা বৈচিত্র্য। তরুণীরা পছন্দ করছে ছোট হাতার লম্বা ফতুয়া, হাতাকাটা কামিজ বা ছোট হাতার শার্ট। সালোয়ারের ক্ষেত্রে ধুতি ও প্যান্ট-ধাঁচের সালোয়ারটা বেশ পছন্দ করছে সবাই। ফতুয়া, কামিজ, বস্নাউজ সবকিছুর ক্ষেত্রেই উঁচু গলা এই সময়ে তেমন ভালো দেখা যাচ্ছে না। বরং চারকোনা, পানপাতা ও ভি-আকৃতির গলা চলছে। পোশাকে হাতাকাটা, ছোট হাতার ম্যাগির সঙ্গে নতুন যোগ হয়েছে ঘটি হাতা। বস্নকের কাপড়ের সঙ্গে বাটিক বেশ আরামদায়ক। তাই বাটিকের কাপড়টা বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এ ছাড়া পোশাকে এক রঙের কাপড়ে লেসের ব্যবহারও দেখা যাচ্ছে। শুধু প্রতিদিনের ব্যবহারে সুতি পোশাক নয়, এখন বিভিন্ন উৎসবে ও অনুষ্ঠানেও সুতির রাজত্ব চলছে। তবে গরমে পরার শাড়ির ক্ষেত্রেও সুতির ছাপা শাড়ি, বস্নক, অ্যাপিস্নকের শাড়ি বেশ চলছে। বস্নাউজের গলাটা পেছন দিকে বড় ও ম্যাগি হাতা হলে বেশ আরাম পাওয়া যাবে। ক্রুশের লেস দিয়ে ঢিলেঢালা ডিজাইন করে পোশাক বানালে সুন্দর লাগবে। হালকা এক রঙা গজ কাপড় কিনে গলায় বা জামার সামনের অংশে এবং হাতে ক্রুশ কাঁটার লেস বসালে ভালো লাগবে। আবার সালোয়ারের নিচ থেকে ছয় ইঞ্চি ওপরেও লেস বসাতে পারেন। কামিজের হাতা স্স্নিভলেস বা ম্যাগি করতে পারেন।
গরমে নিজের পছন্দমতো সুতি, তাঁত, খাদি কাপড় দিয়ে পোশাক বানাতে চাইলে কাপড় কিনতে যেতে পারেন চাঁদনী চক, গাউছিয়া, নিউমার্কেট, গুলিস্তান, বসুন্ধরা সিটিতেও। এসব মার্কেট ছাড়াও সুতি কাপড় ছোট-বড় অনেক মার্কেটেই পাওয়া যায়। ফ্যাশনের জন্য সুতি কাপড় কিনে নিজের পছন্দমতো ডিজাইন, লেস, বোতাম, ইয়োক দিয়ে তৈরি করে নেওয়া যায় গরমের পোশাক। লেস, বোতাম, ইয়োক ব্যবহারে আপনার পোশাক পাবে নান্দনিকতার ছোঁয়া। এ ছাড়াও গরমে পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বস্তি ও আরামের পাশাপাশি সৌন্দর্যের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। সুতি কাপড়ের ওপর বস্নকপ্রিন্ট, এম্ব্রয়ডারি, স্ক্রিন প্রিন্ট ও হালকা সুতার কাজের পোশাক পরা যায়।
৪
৪ মন্তব্য