সহকারী শিক্ষক
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০২:৫৯ অপরাহ্ণ
সম্পদ কী? সম্পদের বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর.....................
সম্পদের বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর: সাধারণ অর্থে সম্পদ বলতে টাকা-পয়সা ও ধনসম্পত্তিকে বোঝায়। কিন্তু অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে ‘সম্পদ’ শব্দটি বিশেষ অর্থ নির্দেশ করে। মূলত যেসব দ্রব্যসামগ্রীর উপযোগ আছে, যার যোগান সীমাবদ্ধ এবং যা মানুষ তৈরি করে ও বিক্রয়যোগ্য তাই সম্পদ।
সম্পদের সংজ্ঞা: সাধারণ কথায়, সম্পদ বলতে টাকা-পয়সা ও ধনসম্পদ প্রভৃতি বোঝায়। কিন্তু’ অর্থনীতিতে সম্পদ শব্দাট বিশেষ অর্থে ব্যবহার হয়। যেসব দ্রব্যের উপযোগ আছে, যোগান সীমাবদ্ধ, বাহ্যিক ও হস্তান্তর মূল্য আছে অর্থনীতিতে তাকে সম্পদ বলা হয় । সম্পদ বস্তুগত ও অন্তুর উভয় প্রকার হতে পারে। যেমন- ঘরবাড়ি, কলম, টেলিভিশন প্রভৃতি বস্তুগত ও ব্যবসায়ের সুনাম অরভূগত সম্পদ। সম্পদ হতে হলে অবশ্যই বিনিময় মূল্য থাকতে হবে। শুধু উপযোগ থাকলেও প্রকৃতি প্রদত্ত অবাধলভ্য পণ্য বা দ্রব্যকে সম্পদ বলা যাবে না। তাই সম্পদ হতে হলে মানুষের অভাব পূরণের ক্ষমতা, যোগান, হস্তান্তরযোগ্যতা ও বিনিময়মূল্য আছে এসব দ্রব্য সামগ্রী হতে হবে।
সম্পদের বৈশিষ্ট্যসমূহ: প্রকৃতি প্রদত্ত সকল পণ্য বা দ্রব্যকে সম্পদ বলা যায় না। তাই অর্থনীতিতে কোনো জিনিস সম্পদ হতে হলে তার চারটি বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে। যেমন- ১. উপযোগ, ২. দুষ্প্রাপ্যতা বা স্বল্পতা, ৩. হস্তান্তরযোগ্যতা এবং ৪. বাহ্যিকতা।
সম্পদের বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর
১. উপযোগ: উপযোগ হলো সম্পদের প্রধান এবং প্রথম বৈশিষ্ট্য। উপযোগ অর্থ দ্রব্যের অভাব পূরণের ক্ষমতা। যে জিনিসের উপযোগ নেই তা সম্পদ নয়। মরুভূমির বালির কোনো উপযোগ নেই তাই এটি সম্পদ নয়। যেসব দ্রব্যের উপযোগ আছে এবং যার বিনিময় মূল্য আছে সেসব দ্রব্যকে সম্পদ বলা হয়।
২. দুষ্প্রাপ্যতা বা স্বল্পতা: সম্পদের দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য হলো দুষ্প্রাপ্যতা বা স্বল্পতা। সম্পদ হতে হলে দ্রব্যটির চাহিদার তুলনায় যোগান কম হতে হবে। যেসব দ্রব্যের উপযোগ আছে, কিন্তু চাহিদার তুলনায় যোগান বেশি সেসব দ্রব্য সম্পদ নয়। সূর্য কিরণ, বাতাস সম্পদ নয়। এসব দ্রব্যের উপযোগ খুব বেশি, কিন্তু যোগান প্রচুর এবং এসব দ্রব্যের জন্য দাম দিতে হয় না। কিন্তু চাল, কাপড়, সাবান এসব দ্রব্য সম্পদ। এসব দ্রব্যের যোগান প্রচুর নয়। এসব দ্রব্য দাম দিয়ে কিনতে হয়।
৩. হস্তান্তরযোগ্যতা: হস্তান্তরযোগ্যতা সম্পদের অপর একটি বৈশিষ্ট্য। যে জিনিস বা জিনিসের মালিকানা হস্তান্তর করা যায় না তা সম্পদ নয়। কোনো কোনো জিনিস সরাসরি হস্তান্তর করা যায়; যেমন- ঘড়ি, কলম, আসবাবপত্র, ধান, চাল ইত্যাদি। আবার কিছু জিনিসের মালিকানা হস্তান্তর করা যায়। যেমন— জমি, জায়গা, বাড়িঘর ইত্যাদি এগুলো সম্পদ।
৪. বাহ্যিকতা: সম্পদকে অবশ্যই বাহ্যিক হতে হবে। অর্থাৎ যে দ্রব্যের বাহ্যিক অস্তিত্ব আছে তাই কেবল সম্পদ হতে পারে। মানুষের ব্যক্তিগত গুণাবলি বাহ্যিক নয়, এজন্য কবি ও শিল্পীর প্রতিভা, মায়ের স্নেহ এসব সম্পদ নয়। কিন্তু গাড়ি, বাড়ি, আসবাবপত্র ইত্যাদির বাহ্যিকতা রয়েছে। এজন্য এগুলো সম্পদ বলে পরিগণিত হয়।
উপসংহার: কোনো দ্রব্য সম্পদ হতে হলে উপযোগ, দুষ্প্রাপ্যতা বা স্বল্পতা, হস্তান্তরযোগ্যতা ও বাহ্যিকতা এ চারটি বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে। এ চারটির মধ্যে যেকোনো একটি বৈশিষ্ট্যের অভাব থাকলে সে দ্রব্যকে সম্পদ বলে গণ্য করা যাবে না। এককথায় বলা যায় যেকোনো দ্রব্যের মাঝে উপরিউক্ত বৈশিষ্ট্যগুলোর সবগুলো বিদ্যমান থাকলেই কেবল তাকে সম্পদ বলা যাবে, অন্যথায় নয়।
১৩
১৯ মন্তব্য