সহকারী শিক্ষক
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০৫:০৩ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজলা গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে সোজা উত্তরে ছোট একটি আমের বাগান। তার ওপাশে বিশাল মাঠ। আর এ মাঠকেই বলা হয় ইবলিশ চত্বর। চত্বরের দক্ষিণে একটি বিশাল শানবাঁধানো পুকুর এবং উত্তরে মেহগনি গাছের সারির পাশেই ছাত্রীদের মুন্নজান হল। আর পূর্ব দিকে রয়েছে ড. মমতাজ উদ্দীন আহমেদ একাডেমিক ভবন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আড্ডাপ্রিয় শিক্ষার্থীদের অন্যতম জায়গা এ ইবলিশ চত্বর। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কোলাহলে মুখরিত হয়ে থাকে। বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা পিকনিক, নাচ-গানসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের আয়োজন করে থাকে এখানে। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ছাড়াও সকাল-বিকেল মাঠে চলে ব্যাট-বলের লড়াই।
রাবির এ ইবলিশ চত্বরের নামকরণের ইতিহাসটা একটু ভিন্ন। বিখ্যাত নাট্যকার মামুনুর রশীদের রচনা এবং মলয় ভৌমিক এর পরিচালনায় ১৯৮১ সালে ইবলিশ নাটকটি মঞ্চস্থ হয়। ১৯৯৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এ মাঠে 'ইবলিশ' নাটকটি মঞ্চস্থ করা হয়। সেই থেকে এ চত্বরের নামকরণ করা হয় 'ইবলিশ চত্বর'।
১৯৯৮ সালে ফোকলোর বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর উদ্যোগে কৃষ্ণচূড়া এবং রাধাচূড়া গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এ চত্বরের নাম রাখা হয় ফোকলোর চত্বর। মূলত ইবলিশ নামটিকে বিলুপ্ত করার জন্য একই চত্বরে ফোকলোর আড্ডা কমিটি এ কাজটি করে। পরে ২০০৩ সালে ফোকলোর বিভাগের শিক্ষার্থীরা এর সাইনবোর্ডও টাঙিয়ে দেন। কিন্তু সবাই ইবলিশ চত্বর হিসেবেই চেনে।
সেই থেকে ইতিহাসের পাতায় 'ইবলিশ চত্বর' স্থানটি নাম করে নিয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় চেনে কিন্তু ইবলিশ চত্বর চেনে না এমন মানুষ কমই পাওয়া যাবে। ইবলিশ চত্বর নামটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে ওতপ্রোতভাবে মিশে আছ ।
৫
৫ মন্তব্য