সহকারী শিক্ষক
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০৬:০১ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
কাউ
ফলের নামঃ কাউ
ইংরেজি নামঃ Cowa /mangosteen
স্থানীয় নামঃ কাউয়া/ কাগলিচু/ তাহগালা/ ক্যাফল/ কাউ-গোলা
বৈজ্ঞানিক নামঃ Garcinia cowa Roxb / Garcinia kydia Roxb
পরিবার/ গোত্রের নামঃ Clusiaceae
প্রাপ্তিরস্থানঃ বাংলাদেশের সর্বত্র সাধারনত জঙ্গলে এই গাছ দেখা যায়। অনেক গৃহস্থ বাড়ির লোকজন শখ করেও দুই একটি গাছ লাগায়। এদেশে একদা প্রচুর কাউগাছ ছিলো, তবে এখন বেশি দেখা যায়না, তাই কাউফলও বেশ বিরল এখন। সারাদেশে অল্পবিস্তর কাউফলের দেখা মেলে। তবে সিলেট, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, পিরোজপুর, বরিশাল, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে কাউফলের দেখা মেলে বেশি।
বাংলাদেশ, ভারত(বিহার, পশ্চিম বঈ আসাম, নাগাল্যান্ড মেঘালয়, ত্রিপুরা, উরিষ্যা এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ), মালয়েশিয়া, দক্ষিণচীন, মায়ানমার, থাইল্যান্ড, লাওস, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম ইত্যাদি দেশে কাউ গাছ দেখা যায়।
আদিনিবাসঃ এর জন্ম দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়।
উদ্ভিদস্বরুপঃ কাউফল মাঝারি আকৃতির বৃক্ষ জাতীয় চিরসবুজ, পূর্ণমোচী, জলাবদ্ধতা ও লবনাক্ততা সহনীয় অপ্রচলিত টক স্বাদের গ্রীষ্মমন্ডলীয় এ ফল গাছটি কিছুটা কালো বর্ণের হয় এবং স্যাঁতস্যাঁতে জাগা্য় কাউগাছ ভালো হয়। নিচের দিকে ডালপালা কম থাকলেও উপরের দিকে ঝোপালো। উচু হয় ৩-৬ মিটার, মুকুট ডিম্বাকৃতি, গাঢ় সবুজ ও চকচকে সরল পত্র। গাছের বাকল থেকে হলদে আঠা বের হয়। গাছে ফুল ধরে ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে। ফুল ছোট লালাভ-হলুদ ও চতুরাংশক। চারটি বৃত্তাংশ ও চারটি পাপড়ি হলুদ, বেগুনী কিংবা লাল আভাযুক্ত। আর ফল পাকে জুন-জুলাই মাসে। ফল গোলাকার, অনেকটা টেবিল টেনিস আকৃতির কিন্তু খাঁজযুক্ত। কাঁচা অবস্থায় সবুজ এ ফল পাকাকে হলুদ বা কমলা বর্ণ ধারণ করে। এক ধরনের অপ্রচলিত টক স্বাদের ফল। মোটা বাকলযুক্ত ফলের ভেতর চার-পাঁচটি দানা থাকে। দানার সাথে রসালো ভক্ষ্য অংশ থাকে, যা চুষে খেতে হয়। বীজযুক্ত এসব দানা রসালো ও মুখরোচক। কাউ খেলে দাঁতে হলদেটে কষ লেগে যায় বলে ফলটি জনপ্রিয় নয়। ফলের আকার লিচুর সমান বা সামান্য বড় হয়। পাকা ফল ইঁদুর ও পাখি খায়। মাটিতে যে বীজ পড়ে সেটাও ইঁদুর খেয়ে ফেলে। স্বাভাবিক পরিবেশে সেসব বীজ থেকেই চারা মে থেকে জুন মাসে গজায়।
উপকূলীয় অঞ্চলে বর্ষা মৌসুমে শিশুদের অনেক প্রিয় এই ফল। দিন দিন তাই বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে এই কাউ ফল। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের ৭ম খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) কাউ ফল প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, প্রজাতিটির সংকটের কারণ আবাসস্থল ধ্বংস, অবৈধরূপে গাছ কর্তন ও অরণ্য পরিস্কার। বর্তমানে বাংলাদেশে এদের সংরক্ষণ বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে এটি আশংকামুক্ত (LC) । প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটি শীঘ্র সংরক্ষণের প্রয়োজন নেই।
জাতঃ কাউফলের কোন অনুমোদিত জাত নেই। থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় কাউয়ের আরেকটি প্রজাতি দেখা যায়।
পুষ্টিগুণ: প্রতি ১০০ গ্রামে শক্তি ৬৩ কিলোক্যালরি, ক্যালসিয়াম ৫.৪৯ মিলিগ্রাম, শর্করা ১৫ দশমিক ৬শতাংশ। কপার ০.০৬ মিলি গ্রাম, প্রোটিন ০.৫০ মিলিগ্রাম, আয়রন ০.১৭ মিলিগ্রাম, মোট চর্বি ০.০ ৪ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ১৩.৯ মিলিগ্রাম, কোলোস্টেরল ০ গ্রাম, ম্যাঙ্গানিজ ০.১০ মিলিগ্রাম, ফাইবার ৫.১০ মিলিগ্রাম ফসফরাস ৯.২১ মিলিগ্রাম ভিটামিনের মধ্যে জিংক ০.১২ , ভিটামিন সি ৭.২০ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ৭ গ্রাম, পটাসিয়াম ৪৮ মিলিগ্রামসহ আরও বেশ কিছু পুষ্টি উপাদান রয়েছে।
ব্যবহ্নত অংশঃ পাতার রস, ছালের রস ও ফল ।
ভেষজগুণ:
১.এই ফলে আছে প্রচুর ভিটামিন সি যা ত্বকের জন্য অত্যধিক উপকারী।
২.এই ফলে আরো আছে কপার, ফাইবার, ম্যাঙ্গানিজ ও ম্যাগনেশিয়াম যা শরীরের হাড় মুজবত রাখতে সাহায্য করে। ৩.এই ফলে আছে খনিজ কপার, ম্যাঙ্গানিজ, ফাইবার ও প্রচুর পটাসিয়াম যা হৃদস্পন্দনে সাহায্য করে এবং রক্তচাপ, স্ট্রোক ও হার্ট রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষা করে।
৪.পুষ্টিগুণে ভরা ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ এই কাউ ফল মুখের অরুচি দূর করে, মানব দেহের ভাইরাল-ফ্ল ‘র বিকাশ প্রতিরোধ ও ক্ষতিকর প্রো-উদ্দীপনাময় ফ্রি-মৌল ময়লা সাফ করতে সাহায্য করে৷ ৫.পরিমিত ক্যালরী সমৃদ্ধ চর্বি, ফাইবার ও এ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকায় শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি-বিকাশে ও রোগ প্রতিরোধে এই ফলের প্রয়োজনীয়তা অনেক।
৬.ফলের পুষ্টিগুণ সর্দি-জ্বর ও ঠাণ্ডা সারায়।
৭.গাছের ছালের রস আমাশয়, খিচুনি ও মাথা ব্যাথায় উপকারী।
৮.এতে থিয়ামিন, নিয়াসিন ও ভিটামিন বি-কমপ্লেক্সসহ আরো প্রয়োজনীয় উপাদান থাকায় রক্তচাপ, স্ট্রোক ও করোনারি হার্ট রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়।
৯.অপুষ্টিজনিত সমস্যায় উপকারী কাউ ফল।
১০.পাতার রস চুলের খুসকি দূর করতে ব্যবহার করেন।
অন্যান্য তথ্য:
১.আদিবাসীরা সবজি হিসেবে কাউয়ের পাতা খেয়ে থাকেন। থাইল্যান্ডে ও আসামে কাউফলের কচি পাতা বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী তৈরি এবং রান্নায় ব্যবহৃত হয়।তাছাড়া টক স্বাদের কারনে অনেকেই ছোট মাছের তরকারিতে ব্যবহার করে থাকেন।
২.বাংলাদেশের ফরিদপুর ও মাদারিপুর জেলায় অপরিপক্ক ফল দিয়ে চাটনি তৈরী করেন।
৩.বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা কাপড়ে রঙ করতে গাছের বাকলে রং ব্যবহার করেন।
৪.কাউ গাছের কষ দ্বারা রঙ, রজন ও বার্ণিশ তৈরী হয়।
৫.কাউ গাছের কষ থেকে রঙ ও বার্নিশ তৈরি হয়।
৬.ফল হিসেবে সরাসরি খাওয়া ছাড়াও জ্যাম-জেলি করেও সংরক্ষণ করা যায়।
৫৩
৯২ মন্তব্য