Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০৯:৩৩ পূর্বাহ্ণ

বিশ্ব প্রগতিতে হযরত মুহাম্মদ সা. এর অবদান (সংক্ষিপ্ত নমুনা বক্তব্য)

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম 


উপস্থিত সুধী,

রহমাতুল্লিল আলামিন বা বিশ্ববাসীর জন্য আল্লাহর রহমত হিসেবে প্রেরিত মহাপুরুষ হযরত মুহাম্মদ সা. এর জন্ম এবং ওফাত স্মরণে আয়োজিত পবিত্র এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত আমার সম্মানিত সহকর্মি ও প্রাণপ্রিয় ছাত্র-ছাত্রী সকলের প্রতি জানাই সালাম। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।


আজকের অনুষ্ঠানে আমার আলোচ্য বিষয় : বিশ্ব প্রগতিতে হযরত মুহাম্মদ সা. এর অবদান। সময় যেহেতু সংক্ষিপ্ত সে কারণে আমি খুব অল্প কথায় বিষয়টির উপর আলোচনা করছি।


‘প্রগতি' শব্দের অর্থ ‘জ্ঞানে এবং কর্মে এগিয়ে চলার মাধ্যমে অর্থবহ পরিবর্তন সাধন করা  ৷ যাঁরা এই কাজটা যথাযথভাবে করতে সক্ষম, তাঁদেরই ‘প্রগতিশীল' বলা হয়৷ আর প্রগতিশীলতা হলো মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। প্রগতিশীল মানুষ নিজে সৃষ্টিশীল কাজ করে, অন্যদের উৎসাহিত করেন।


নবুয়ত প্রাপ্তির পরপরই হযরত মুহাম্মদ (সা.) জাহেলী যুগের অধঃপতিত সমাজ ব্যবস্থাকে শাশ্বত কর্মসূচীর মাধ্যমে পরিবর্তন করার মহান উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তার সংস্কারগুলোর মধ্যে ছিল, 


১। জীবনের লক্ষ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়া। 

মানুষ নিজ সত্ত্বা সম্পর্কে প্রায়শ ভুল ধারণা পোষণ করে। কেউ নিজেকে মনে করে সর্বক্ষমতার অধিকারী । আবার কেউ নিজেকে পশু-পাখির চেয়েও তুচ্ছ মনে করে । হযরত মুহম্মদ (সা.) সেইসব ভুল ধারণা নিরসন করে, মানুষের জীবনের বাস্তবতা ও সার্থকতা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করে তুলেন ।


২। শিক্ষা ও জ্ঞান বিস্তার। 

প্রকৃত পক্ষে শিক্ষাই হলো আলো, আর অজ্ঞতা হচ্ছে আঁধার । রাসূল (সা.) পৃথিবীতে অন্ধকার দূর করে জ্ঞানের আলো প্রজ্বলিত করেছেন ।  মানুষকে জ্ঞানার্জনে উৎসাহ দিয়ে বলেন, প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জ্ঞানার্জন ফরজ । (সহীহ বুখারী)


৩। মানবতাবোধ ও ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠা। 

প্রিয় নবী (সা.) ছিলেন মানবতার আধার । ইসলাম প্রচারের সময় তিনি কাফেরদের অত্যাচার সহ্য করেও যে মহানুভবতা প্রদর্শন করেছেন, পৃথিবীর ইতিহাসে তা বিরল ।


৪। সামাজিক সম্পর্ক গঠন। 

মানুষ সামাজিক জীব । সমাজ ছাড়া মানুষ বসবাস করতে পারে না । ব্যক্তি ও সমাজের সমন্বয়ের মধ্যে মানবকল্যাণ নিহিত । তাই আল্লাহর নবী (সা.) মানুষকে সামাজিক হওয়ার উপদেশ দিয়েছেন । তিনি বলেন ‘খাটি মুসলমান ঐ ব্যক্তি যার হাত ও মুখ থেকে অপর মুসলমান নিরাপদ থাকে ’(সহীহ বুখারী)।


৫। অর্থ-সম্পদের ব্যবহার। 

নবী করিম (সা.) সমাজের অর্থ-সম্পদের সুষম ব্যবহার ও সবার ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করেছেন । তিনি আল্লাহ প্রদত্ত যাকাত ও সাদাকাহের বিধানকে বাস্তবায়িত করে ধনীর মালে গরীবের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করেছেন । শ্রমিকের যথাযথ মূল্যায়ন সম্পর্কে তিনি বলেছেন, শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর আগেই তাদের মজুরী পরিশোধ কর ।


পরিশেষে বলবো, প্রিয় নবীর সুন্নাহকে আমরা যদি আমাদের জীবনযাপনের অংশ করে নিতে পারি তবে সেটাই হবে আমাদের এই পার্থিব জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন।  সেই তৌফিক যেন মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে দান করেন এই প্রত্যাশা রেখে আমি আমার সংক্ষিপ্ত আলোচনা এখানেই শেষ করছি। 


সবাইকে ধন্যবাদ। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

মন্তব্য করুন