সহকারী শিক্ষক
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ১১:০৯ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
উদ্ভিদের নামঃ নাগলিঙ্গম ।
ইংরেজি নামঃ Cannonball Tree
স্থানীয় নামঃ নাগলিঙ্গম,হাতি জোলাপ, কামান গোলা, তোপ গোলা, শিবলিঙ্গম, শিবফুল।
বৈজ্ঞানিক নামঃ Couroupita guianensis
পরিবার/ গোত্রের নামঃ Lecythidaceae
প্রাপ্তিরস্থানঃ বাংলাদেশে নাগলিঙ্গম আছে বেশ কিছু। পাহাড়ি অঞ্জলে নিজে থেকেই আছে। বাংলাদেশে বলধা গার্ডেন, রমনা পার্ক, গুলিস্তান পার্ক, কার্জন হলের বাগানে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে, তেজগাঁও রেলওয়ে স্টেশন, নটর ডেম কলেজ ঢাকা, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্বিবদ্যালয়, ময়মনসিংহ, টংগী, শ্রীমঙ্গলের বাংলাদেশ চা গবেষণা ইন্সটিটিউট, বরিশালের বিএম কলেজ, ময়মনসিংহের মহিলা শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ, গফরগাঁও সরকারি কলেজ, গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও ভাওয়াল রাজবাড়ি, বরিশাল, চাঁদপুর জেলায় জেলা প্রশাসকের বাসভবন, মিশন রোডস্থ আশ্রমের ভিতর মূল ফটকের পাশে ও শাহরাস্তি উপজেলার নিজমেহার মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সহ সারাদেশে বেশকিছু নাগলিঙ্গম গাছ রয়েছে।
ভারতে উপমহাদেশে এটি অন্তত চার হাজার বছর ধরে রয়েছে। অনেক আগে থেকেই গাছটি ভারত উপমহাদেশে একটি পবিত্র উদ্ভিদ বলে বিবেচিত হয়ে আসছে।হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা শিব ও সর্প পূজায় নাগলিঙ্গম ফুল ব্যবহার করেন। ভারতে নাগলিঙ্গমকে ‘শিব কামান’ নামে ডাকা হয়। বৌদ্ধদের মন্দিরেও এই ফুলের যথেষ্ট কদর রয়েছে। এ কারণে থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, মায়ানমারের বৌদ্ধ মন্দির প্রাঙ্গণে নাগলিঙ্গম গাছ বেশি দেখা যায়।
আদিনিবাসঃ নাগলিঙ্গমের আদি নিবাস আমাজান, মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার বনাঞ্চল।
উদ্ভিদস্বরুপঃ নাগলিঙ্গম বা হাতির জোলাপ এক প্রকার বৃক্ষ। নাগলিঙ্গম গাছ ৩৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। গুচ্ছ পাতাগুলো খুব লম্বা, সাধারণ ভাবে ৮ থেকে ৩১ সেন্টিমিটার, কিন্তু ৫৭ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। উল্লেখ্য, নাগেশ্বর, নাগকেশর ও নাগলিঙ্গম তিনটি ভিন্ন প্রজাতি। বছরের প্রায় সব ঋতুতেই এই গাছের পাতা ঝরে এবং কয়েকদিনের মধ্যে আবার নতুন পাতা গজায়। দ্রুত বর্ধনশীল নাগলিঙ্গম গাছে চারা রোপণের ১২ থেকে ১৪ বছর পর গাছে ফুল ধরে।
গ্রীষ্মকাল এবং বর্ষাকালে ফুল ফোটে। গাছের কাণ্ড ভেদ করে বেরিয়ে আসে প্রায় ৭ ইঞ্চি দীর্ঘ অসংখ্য মঞ্জুরি। এক একটি মঞ্জরিতে ১০ থেকে ২০টি ফুল ক্রমান্বয়ে ফুটতে থাকে। মঞ্জরির একদিকে নতুন ফুল ফোটে অন্যদিকে পুরাতন ফুল ঝরে পড়ে। ফুলের রং অনেকটা লালচে কমলা বা লালচে গোলাপী হয়ে থাকে। ফুলে ৬টি মাংশল পুরু পাপড়ী থাকে। ফুলের মাঝে থাকে নাগের ফনা আকৃতির পরাগচক্র। ধারনা করা হয় এর কারণেই এই ফুলের নাম হয়েছে নাগলিঙ্গম। জনশ্রুতি আছে—এই গাছের ফুল ও ফল একান্তই নাগ-নাগিনীর সমপদ। এই গাছে ফুল ধরার পর বেলের মতো গোল গোল ফল ধরে। এগুলি দেখতে কামানের গোলার মত। আবার এই ফল গুলি হাতির খুবই প্রিয় খাবার বলে এই অঞ্চলে এর অন্য নাম ‘হাতিফল’ বা হাতি জোলাপ গাছ নামেও পরিচিত।
এই ফুল সৌরভের জন্যও বিখ্যাত। এই গাছের পাশ দিয়ে যে কোনো সময় গেলেই এর তীব্র ঘ্রাণের মাদকতা মানুষকে টানবেই। বিরল প্রজাতির ফুলটির সৌরভে রয়েছে গোলাপ আর পদ্মের সংমিশ্রণ। শোনা যায়, নাগলিঙ্গম গাছে যখন ফুল ফোটে তখন ফুল হতে অদ্ভুত মাদকতাময় গন্ধ বের হয়। সেই গন্ধে নাগিনীর গায়ের ন্যায় কাম গন্ধ খুঁজে পায় নাগ। কামের নেশায় মত্ত হয়ে তখন নাগ ফনা তোলা নাগিনীর মতো দেখতে ফুলের কাছে ছুটে আসে। সাপুড়েরা তাই এই গাছের নাম দিয়েছেন নাগলিঙ্গম। উপমহাদেশে কালক্রমে এই নামটিই প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছে। এটা কতটা সত্য তা সম্পর্কে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।
ফলগুলো চকলেট রঙের, সাদাটে মাংসল, বহুজীবী, সহজে চারা হয়, তবে বৃদ্ধি মন্থর। যার ব্যাস প্রায় ১৫ থেকে ২৪ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে। ফল পরিপক্ব হতে প্রায় এক বছর সময় নেয়। পরিপক্ব ফল মাটিতে পড়লে ফেটে যায়। বাতাসে খানিকটা ঝাঁঝালো গন্ধ সৃষ্টি হয়। ফল মূলত পশু পাখির খাবার। মানুষের জন্য এ ফল অখাদ্য। একটি ফলে ২০০ থেকে ৩০০ বীজ থাকে। ফ্রান্সের একজন উদ্ভিদ বিজ্ঞানী জে এফ আবলেট ১৭৫৫ খ্রিস্টাব্দে এর নামকরণ করেন।
ব্যবহ্নত অংশঃ গাছের ফুল, পাতা ও বাকলের নির্যাস।
৩
৩ মন্তব্য