Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ১০:২৯ অপরাহ্ণ

চালতা ( ইংরেজি নামঃ Elephant Apple/ বৈজ্ঞানিক নামঃ Dillenia indica/ গোত্রের নামঃ Dilleniaceae )

ফলের নামঃ চালতা

ইংরেজি নামঃ Elephant Apple

স্থানীয় নামঃ চালিতা, চাইলতে, চাইলতা   

বৈজ্ঞানিক নামঃ Dillenia indica

পরিবার/  গোত্রের নামঃ  Dilleniaceae  

প্রাপ্তিরস্থানঃ গ্রাম এলাকায় সাধারণত জঙ্গলে গাছ জন্মে ; কখনো কখনো দুএকটি গাছ বাড়ির উঠানে দেখা   সর্বত্রই জন্মে তবে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবন সিলেট জেলায় চালতা বেশি হয় 

আদি নিবাসঃ চালতার জন্ম দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। এটি বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, চীন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ইত্যাদি দেশে জন্মে

উদ্ভিদস্বরুপঃ চালতা একটি অসম্পূর্ণ ফল কেননা এর ফল গঠনে ফুলের গর্ভাশয়সহ অন্যান্য স্তবক অংশ গ্রহণ করেচালতা ফলের যে অংশ খাওয়া হয় তা আসলে ফুলের বৃতি। প্রকৃত ফল বৃতির আড়ালে লুকিয়ে থাকে। ফল বাঁকানো নলের মত ; ভিতরে চটচটে আঠার মধ্যে বীজ প্রোথিত থাকে।চালতা অপ্রকৃত ফল; মাংসল বৃতিই ভক্ষণযোগ্যচালতা গাছ মাঝির আকারের চিরহরিৎ বৃক্ষ জাতীয় উদ্ভিদ। গাছ উচ্চতায় ১৫ মিটার পর্যন্ত হতে পারে। গাছের গায়ে লালচে রঙের চকচকে বাকল থাকে। পাতার কিনারা খাঁজ কাটা, শিরা উঁচু সমান্তরাল। চালতার সাদা রঙের ফুল দেখতে সুন্দর ; এটি সুগন্ধযুক্ত। ফুলের ব্যাস ১৫-১৮ সেন্টিমিটার। ফুলে পাঁচটি মোটা পাঁপড়ি বেষ্টিত কেন্দ্রে প্রচুর হলুদ পুংকেশর থাকে ; বৃতিগুলো সেসব পাঁপড়িকে আঁকড়ে ঘিরে রাখে। বছরের মে-জুন মাসে ফুল ফোটার মৌসুমবর্ষার পর ফল পাকে, শীতকাল পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়। পাকা ফলের বীজ থেকে চারা তৈরি করা যায়। গাছে ফল পাকলে যদি তা না পাড়া হয় তবে সে ফল থেকে বীজ আপনাআপনি মাটিতে ঝরে পড়ে ; অনুকূল পরিবেশে তা থেকে চারা গজায়। এজন্য চালতা তলায় প্রায়শ: ছোট ছোট অনেক চারা দেখা যায়। এসব চারা তুলে বাগানে লাগিয়ে দিলেও গাছ হয়। তবে বীজ থেকে করা চারার গাছ ফল ধরতে - বছর লেগে যায়। গাছ বাঁচে কম-বেশি ২৫-৩০ বছর। শাখা কলম বা কাটিং করেও চালতার চারা তৈরি করা যায়। সেসব কলমে দ্রুত ফল ধরে

চালতার ফল খুব আদরণীয় নয়।গাছটি দেখতে সুন্দর বলে শোভাবর্ধক তরু হিসাবেও কখনো কখনো উদ্যানে লাগানো হয়ে থাকেফল টক বলে চালতার আচার, চাটনি, টক ডাল অনেকের প্রিয় খাদ্য।পাকা ফল পিষে নিয়ে নুন-লংকা দিয়ে মাখালে তা বেশ লোভনীয় হয়।এছাড়া চালতা কেটে রোদে শুকিয়ে ঢেঁকিতে গুঁড়ো করে খেজুরের গুড়ের মিশ্রণে একধরনের মিষ্টি জাতীয় জ্যামের মত তৈরি করা হয়, যেটা খেতে উপদেয়। যদিও এসব আজকাল আর দেখা যায় না।    

জাতঃ চালতার কোন অনুমোদিত জাত নেই। এক রকমের ভারতবর্ষীয় উদ্ভিদ।এই ফল দিয়ে চাটনি আচার তৈরি হয়।   

পুষ্টিগুণঃ প্রতি একশত গ্রাম চালতা ফলে . গ্রাম খনিজ পদার্থ, ৫৯ কিলোক্যালরি খাদ্যশক্তি, . গ্রাম আমিষ, . গ্রাম চর্বি, ১০. গ্রাম চর্বি, ১৬ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম



ব্যবহৃত অংশঃ ফল

ব্যবহারঃ

. কচি ফলের রস পেটের গ্যাস, কফ, বাত পিত্তনাশক

2.ঠান্ডা লেগে সর্দি  জ্বর হলে পাকা চালতা ফলের রস চিনিসহ পান করলে সর্দিজ্বর উপশম হয়।।  

৩.বাতের ব্যথাতে কচি চালতার রস পানির সাথে মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়

৪.রক্ত আমাশয়ের জন্য চলতার কচি পাতার রসখেলে উপকারপাওয়া যায়

৫.কফ সর্দির জন্য গাছের ছালের গুঁড়া নিরাময়ের কাজ করে

মন্তব্য করুন

ব্লগ