সহকারী শিক্ষক
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০৩:১৪ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ওজন বেড়ে গেলে নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়। পুষ্টিবিদরা বলছেন, লেবুপানি পান করলে ওজম দ্রত কমে। কারণ লেবুতে রয়েছে পলিফেনল অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। ইঁদুরের ওপর করা পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই উপাদানটি স্থূলতা প্রতিরোধ করে ও অতিরিক্ত ওজন উল্লেখযোগ্যভাবে নিয়ন্ত্রণ করে।
অনেকেই কিডনিতে পাথরের সমস্যায় ভোগেন। কিন্তু পাথর প্রতিরোধ ও নির্গত করার জন্য প্রয়োজনীয় পানি পাওয়া যায় লেবুপানি পান করলে। কারণ লেবুপানিতে রয়েছে ভালো পরিমাণে পানির মাত্রা। এর পাশাপাশি এতে থাকা সাইট্রিক অ্যাসিড পাথর বের করে দেয়ার ক্ষেত্রে কার্যকরী। সাইট্রেট, সাইট্রিক অ্যাসিডের একটি উপাদান, যা প্রস্রাবের অম্লত্ব হ্রাস করে। এমনকি এটি ছোট পাথর ভেঙ্গে ফেলতেও সহায়তা করতে পারে।
কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করতে প্রতিদিন সকালে লেবুপানি পান করুন। ঘুম থেকে উঠে হালকা গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে পান করলে পাচনতন্ত্র সতেজ থাকবে। এ ছাড়া লেবুপানি পান করলে অনায়াসে খুব সহজে খাবার হজম হবে। এমনকী দীর্ঘদিনের বদহজমের সমস্যাও মিটে যাবে।
ইঁদুরের ওপর করা গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট যৌগগুলো রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং ইনসুলিনের ভারসাম্য বজায় রাখে, যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তবে এ বিষয়ে এখনও বিস্তারিত গবেষণা প্রয়োজন রয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, ভিটামিন সি সংবহনতন্ত্রের রোগ, রক্তচাপ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে পারে। আর লেবু ভিটামিন সি-এর একটি ভালো উৎস। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি লেবুর রসে প্রায় ১৮ দশমিক ৬ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি থাকে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি-এর পরিমাণ দৈনিক ৬৫ থেকে ৯০ মিলিগ্রাম। আর রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে লেবুর পটাশিয়াম সোডিয়াম সাহায্য করে। তাই উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের ডায়েটে রাখা হয় লেবু। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের গবেষণা অনুসারে, নিয়মিত লেবু খেলে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে।
চেহারায় বয়সজনিত ছাপ রুখে দিতে পারে লবুর রস! লেবুতে থাকা ভিটামিন সি ত্বকের বলিরেখা, বার্ধক্যজনিত শুষ্ক ত্বক এবং সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মির প্রভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে। ত্বক আর্দ্রতা হারিয়ে শুষ্ক হয়ে গেলে বলিরেখার প্রবণতা দেখা দেয়। সকালে এক গ্লাস লেবুপানি এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে। শুধু তাই নয়, লেবুর রস বের করে নেয়ার পর খোসাও ঘষতে পারেন ত্বকে। এতে ত্বক পরিষ্কার হওয়ার পাশাপাশি মৃত কোষ নষ্ট হয়ে ত্বক আরও ঝকঝকে হয়ে ওঠে।
মুখের দুর্গন্ধ রোধে লেবুপানি উপকারী। সকালে এক গ্লাস লেবুপানি পান করে নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ এড়ানো যেতে পারে। লেবু লালাগ্রন্থিকে উদ্দীপিত করে। ফলে মুখগহ্বর শুষ্ক হয় না ও ব্যাক্টেরিয়ার দ্বারা সৃষ্ট নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধর আশঙ্কা কম থাকে। তাই রসুন, পেঁয়াজ বা মাছের মতো তীব্র গন্ধযুক্ত খাবার খাওয়ার ফলে তৈরি হওয়া নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ দূর করতে লেবুপানির জুড়ি মেলা ভার। এ ছাড়া লেবুপানি দিয়ে কুলকুচি করলে মুখের স্বাদকোরক সতেজ ও সুস্থ থাকে।
৫
৫ মন্তব্য