সহকারী অধ্যাপক
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০৬:২৪ পূর্বাহ্ণ
পরিচ্ছেদঃ নিয়ত ও ইখলাস সম্পর্কিত হাদীসসমূহ আল্লাহ তা’আলা বলেন,
পরিচ্ছেদঃ নিয়ত ও ইখলাস সম্পর্কিত হাদীসসমূহ
আল্লাহ তা’আলা বলেন,
وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاء وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ وَذَلِكَ دِينُ الْقَيِّمَةِ
অর্থাৎ, তারা তো আদিষ্ট হয়েছিল আল্লাহর আনুগত্যে বিশুদ্ধচিত্ত হয়ে একনিষ্ঠভাবে তাঁর ইবাদত করতে এবং নামায কায়েম করতে ও যাকাত প্রদান করতে। আর এটাই সঠিক ধর্ম। (সূরা বাইয়িনাহ্ ৫ আয়াত) তিনি আরো বলেন,
لَن يَنَالَ اللهَ لُحُومُهَا وَلاَ دِمَاؤُهَا وَلَكِن يَنَالُهُ التَّقْوَى مِنْكُمْ
অর্থাৎ, আল্লাহর কাছে কখনোও ওগুলির মাংস পৌঁছে না এবং রক্তও না; বরং তাঁর কাছে পৌঁছে তোমাদের তাক্ওয়া (সংযমশীলতা)। (সূরা হাজ্জ্ব ৩৭ আয়াত) তিনি আরো বলেন,
قُلْ إِنْ تُخْفُوا مَا فِي صُدُورِكُمْ أَوْ تُبْدُوهُ يَعْلَمْهُ الله
অর্থাৎ, বল, তোমাদের মনে যা আছে তা যদি তোমরা গোপন রাখ কিংবা প্রকাশ কর, আল্লাহ তা অবগত আছেন। (সূরা আলে ইমরান ২৯ আয়াত)
(১৫৩) উমার বিন খাত্ত্বাব (রাঃ) বলেন, আমি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, যাবতীয় কার্য নিয়ত বা সংকল্পের উপর নির্ভরশীল। আর মানুষের জন্য তাই প্রাপ্য হবে, যার সে নিয়ত করবে। অতএব যে ব্যক্তির হিজরত (স্বদেশত্যাগ) আল্লাহর (সন্তোষ লাভের) উদ্দেশ্যে ও তাঁর রসূলের জন্য হবে; তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রসূলের জন্যই হবে। আর যে ব্যক্তির হিজরত পার্থিব সম্পদ অর্জন কিংবা কোন মহিলাকে বিবাহ করার উদ্দেশ্যেই হবে, তার হিজরত যে সংকল্প নিয়ে করবে তারই জন্য হবে।
এই হাদীসটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইমাম শাফেয়ী (রঃ) ও ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বাল (রঃ) এটিকে ’এক তৃতীয়াংশ অথবা অর্ধেক দ্বীন’ বলে অভিহিত করেছেন
এটিকে ইমাম বুখারী (রঃ) তাঁর গ্রন্থ সহীহ বুখারীতে সাত জায়গায় বর্ণনা করেছেন। (১, ৫৪, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩) প্রত্যেক স্থানে এই হাদীসটি উল্লেখ করার উদ্দেশ্য হল কর্মের বিশুদ্ধতা ও কর্মের প্রতিদান নিয়তের সাথে সম্পৃক্ত—সে কথা প্রমাণ করা।
عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّةِ وَإِنَّمَا لِامْرِئٍ مَا نَوَى فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى اللهِ وَرَسُولِهِ فَهِجْرَتُهُ إِلَى اللهِ وَرَسُولِهِ وَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ لِدُنْيَا يُصِيبُهَا أَوْ امْرَأَةٍ يَتَزَوَّجُهَا فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ (متفقٌ على صحته)
পরিচ্ছেদঃ নিয়ত ও ইখলাস সম্পর্কিত হাদীসসমূহ
(১৫৪) উম্মুল মু’মেনীন উম্মে আব্দুল্লাহ আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, একটি বাহিনী কা’বা ঘরের উপর আক্রমণ করার উদ্দেশ্যে বের হবে। অতঃপর যখন তারা সমতল মরুপ্রান্তরে (বাইদা) পৌঁছবে, তখন তাদের প্রথম ও শেষ ব্যক্তি সকলকেই যমীনে ধ্বসিয়ে দেওয়া হবে। তিনি (আয়েশা) বলেন যে, আমি (এ কথা শুনে) বললাম, হে আল্লাহর রসূল! কেমন করে তাদের প্রথম ও শেষ সকলকে ধসিয়ে দেওয়া হবে? অথচ তাদের মধ্যে তাদের বাজারের ব্যবসায়ী এবং এমন লোক থাকবে, যারা তাদের (আক্রমণকারীদের) অন্তর্ভুক্ত নয়। তিনি বললেন, তাদের প্রথম ও শেষ সকলকে ধসিয়ে দেওয়া হবে। তারপর তাদেরকে তাদের নিয়ত অনুযায়ী পুনরুত্থিত করা হবে।
وَعَن أُمِّ المُؤمِنِينَ أُمِّ عَبدِ اللّه عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : يَغْزُو جَيْشٌ الْكَعْبَةَ فَإِذَا كَانُوا بِبَيْدَاءَ مِنْ الْأَرْضِ يُخْسَفُ بِأَوَّلِهِمْ وَآخِرِهِمْ قَالَتْ: قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ! كَيْفَ يُخْسَفُ بِأَوَّلِهِمْ وَآخِرِهِمْ وَفِيهِمْ أَسْوَاقُهُمْ وَمَنْ لَيْسَ مِنْهُمْ؟ قَالَ: يُخْسَفُ بِأَوَّلِهِمْ وَآخِرِهِمْ ثُمَّ يُبْعَثُونَ عَلَى نِيَّاتِهِمْ (متفقٌ عليه هذا لفظ البخاري)
وعن ام المومنين ام عبد الله عاىشة رضي الله عنها قالت: قال رسول الله ﷺ : يغزو جيش الكعبة فاذا كانوا ببيداء من الارض يخسف باولهم واخرهم قالت: قلت يا رسول الله! كيف يخسف باولهم واخرهم وفيهم اسواقهم ومن ليس منهم؟ قال: يخسف باولهم واخرهم ثم يبعثون على نياتهم (متفق عليه هذا لفظ البخاري)
(বুখারী ২১১৮, মুসলিম ৭৪২৬, শব্দগুচ্ছ বুখারীর)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ৩/ নিয়্যাত
১৫৫
বাংলা/ العربية
পরিচ্ছেদঃ নিয়ত ও ইখলাস সম্পর্কিত হাদীসসমূহ
(১৫৫) ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন কোন জাতির উপর মহান আল্লাহ আযাব অবতীর্ণ করেন, তখন তাদের মধ্যে বিদ্যমান সমস্ত লোককে তা গ্রাস করে ফেলে। তারপর (বিচারের দিনে) তাদেরকে স্ব স্ব কৃতকর্মের ভিত্তিতে পুনরুত্থিত করা হবে।
وَ عَنْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا أَنْزَلَ اللهُ تَعَالَى بِقَومٍ عَذَاباً أَصَابَ العَذَابُ مَنْ كَانَ فِيهِمْ ثُمَّ بُعِثُوا عَلَى أَعْمَالِهِمْ متفق عليه
و عن ابن عمر رضي الله عنهما قال : قال رسول الله ﷺ اذا انزل الله تعالى بقوم عذابا اصاب العذاب من كان فيهم ثم بعثوا على اعمالهم متفق عليه
(বুখারী ৭১০৮, মুসলিম ৭৪২৫)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ৩/ নিয়্যাত
১৫৬
বাংলা/ العربية
পরিচ্ছেদঃ নিয়ত ও ইখলাস সম্পর্কিত হাদীসসমূহ
(১৫৬) আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মক্কা বিজয়ের পর (মক্কা থেকে) হিজরত নেই; বরং বাকী রয়েছে জিহাদ ও নিয়ত। সুতরাং যদি তোমাদেরকে জিহাদের জন্য ডাক দেওয়া হয়, তাহলে তোমরা (জিহাদে) বেরিয়ে পড়।
’মক্কা বিজয়ের পর আর হিজরত নেই’ এর অর্থ এই যে, মক্কা এখন ইসলামী রাষ্ট্রে পরিণত হল। ফলে এখান থেকে মুসলিমেরা আর হিজরত করতে পারবে না।
وعَن عَائِشَةَ رَضِيَ الله عَنهَا قَالَت: قَالَ النَّبِيُّ ﷺ لاَ هِجْرَةَ بَعْدَ الْفَتْحِ وَلَكِنْ جِهَادٌ وَنِيَّةٌ وَإِذَا اسْتُنْفِرْتُمْ فَانْفِرُوا متفق عليه
وعن عاىشة رضي الله عنها قالت: قال النبي ﷺ لا هجرة بعد الفتح ولكن جهاد ونية واذا استنفرتم فانفروا متفق عليه
(বুখারী ১৮৩৪, মুসলিম ৪৯৩৬)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ৩/ নিয়্যাত
১৫৭
বাংলা/ العربية
পরিচ্ছেদঃ নিয়ত ও ইখলাস সম্পর্কিত হাদীসসমূহ
(১৫৭) আবূ আব্দুল্লাহ জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ) বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে এক অভিযানে ছিলাম। তিনি বললেন, মদীনাতে কিছু লোক এমন আছে যে, তোমরা যত সফর করছ এবং যে কোন উপত্যকা অতিক্রম করছ, তারা তোমাদের সঙ্গে রয়েছে। অসুস্থতা তাদেরকে মদীনায় থাকতে বাধ্য করেছে। আর একটি বর্ণনায় আছে যে, তারা নেকীতে তোমাদের অংশীদার।
وعَنْ أَبيْ عبدِ اللهِ جَابِرٍ بْنِ عَبْدِ اللهِ الأنصاريِّ رَضي اللهُ عَنهما قَالَ : كُنَّا مَعَ النَّبيِّ ﷺ في غَزَاةٍ فَقالَ إِنَّ بالمدِينَةِ لَرِجَالاً ما سِرْتُمْ مَسِيراً وَلاَ قَطَعْتُمْ وَادِياً إلاَّ كَانُوا مَعَكمْ حَبَسَهُمُ الْمَرَضُ وَفي روَايَة إلاَّ شَرَكُوكُمْ في الأجْرِ رواهُ مسلمٌ
وعن ابي عبد الله جابر بن عبد الله الانصاري رضي الله عنهما قال : كنا مع النبي ﷺ في غزاة فقال ان بالمدينة لرجالا ما سرتم مسيرا ولا قطعتم واديا الا كانوا معكم حبسهم المرض وفي رواية الا شركوكم في الاجر رواه مسلم
(মুসলিম ৫০৪১)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ৩/ নিয়্যাত
১৫৮
বাংলা/ العربية
পরিচ্ছেদঃ নিয়ত ও ইখলাস সম্পর্কিত হাদীসসমূহ
(১৫৮) সহীহ বুখারীতে আনাস (রাঃ) থেকে এরূপ বর্ণনা রয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে তাবূক অভিযান থেকে আমাদের প্রত্যাবর্তনকালে তিনি বললেন যে, আমাদের পিছনে মদীনায় এরূপ কিছু লোক আছে যারা প্রত্যেক গিরিপথ বা উপত্যকা অতিক্রমকালে আমাদের সাথে রয়েছে। বিশেষ ওজর তাদেরকে ঘরে থাকতে বাধ্য করেছে।
ورواهُ البخاريُّ عَن أَنَسٍ قَالَ : رَجَعَنا مِنْ غَزْوَةِ تَبُوكَ مَعَ النَّبيِّ ﷺ فقال إنَّ أقْواماً خَلْفَنَا بالْمَدِينَةِ مَا سَلَكْنَا شِعْباً وَلاَ وَادياً إلاّ وَهُمْ مَعَنا حَبَسَهُمُ العُذْرُ
ورواه البخاري عن انس قال : رجعنا من غزوة تبوك مع النبي ﷺ فقال ان اقواما خلفنا بالمدينة ما سلكنا شعبا ولا واديا الا وهم معنا حبسهم العذر
(বুখারী ২৮৩৯)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ৩/ নিয়্যাত
১৫৯
বাংলা/ العربية
পরিচ্ছেদঃ নিয়ত ও ইখলাস সম্পর্কিত হাদীসসমূহ
(১৫৯) আবূ ইয়াযীদ মা’ন ইবনে ইয়াযীদ ইবনে আখনাস (রাঃ) তিনি (মা’ন) এবং তাঁর পিতা ও দাদা সকলেই সাহাবী—তিনি বলেন, আমার পিতা ইয়াযীদ দান করার জন্য কয়েকটি স্বর্ণমুদ্রা বের করলেন। অতঃপর তিনি সেগুলি (দান করতে) মসজিদে একটি লোককে দায়িত্ব দিলেন। আমি (মসজিদে) এসে তার কাছ থেকে (অন্যান্য ভিÿুকের মত) তা নিয়ে নিলাম এবং তা নিয়ে বাড়ী এলাম। (যখন আমার পিতা এ ব্যাপারে অবগত হলেন তখন) বললেন, আল্লাহর কসম! তোমাকে দেওয়ার নিয়ত আমার ছিল না। (ফলে এগুলি আমার জন্য হালাল হবে কি না তা জানার উদ্দেশ্যে) আমি আমার পিতাকে নিয়ে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমতে উপস্থিত হলাম। তিনি বললেন, ’’হে ইয়াযীদ! তোমার জন্য সেই বিনিময় রয়েছে যার নিয়ত তুমি করেছ এবং হে মা’ন! তুমি যা নিয়েছ তা তোমার জন্য হালাল।’’ (বুখারী ১৪২২)
وعَنْ أَبيْ يَزِيْدَ مَعَن بنِ يَزيدَ بنِ الأَخْنَسِ وهو وأبوه وَجَدُّه صَحَابيُّون قَالَ : كَانَ أبي يَزيدُ أخْرَجَ دَنَانِيرَ يَتَصَدَّقُ بِهَا فَوَضعَهَا عَندَ رَجُلٍ في الْمَسْجِدِ فَجِئْتُ فأَخذْتُها فَأَتَيْتُهُ بِهَا فقالَ : واللهِ مَا إيَّاكَ أرَدْتُ فَخَاصَمْتُهُ إِلَى رَسُوْلِ اللهِ ﷺ فقَالَ لكَ مَا نَوَيْتَ يَا يزيدُ ولَكَ ما أخَذْتَ يَا مَعَن رواهُ البخاريُّ
وعن ابي يزيد معن بن يزيد بن الاخنس وهو وابوه وجده صحابيون قال : كان ابي يزيد اخرج دنانير يتصدق بها فوضعها عند رجل في المسجد فجىت فاخذتها فاتيته بها فقال : والله ما اياك اردت فخاصمته الى رسول الله ﷺ فقال لك ما نويت يا يزيد ولك ما اخذت يا معن رواه البخاري
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ মা‘ন ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ৩/ নিয়্যাত
১৬০
বাংলা/ العربية
পরিচ্ছেদঃ নিয়ত ও ইখলাস সম্পর্কিত হাদীসসমূহ
(১৬০) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, একটি লোক বলল, (আজ রাতে) আমি অবশ্যই সাদকাহ করব। সুতরাং সে আপন সাদকার বস্তু নিয়ে বের হল এবং (অজান্তে) এক চোরের হাতে তা দিয়ে দিল। লোকে সকালে উঠে বলাবলি করতে লাগল যে, আজ রাতে এক চোরের হাতে সাদকা দেওয়া হয়েছে। সাদকাকারী বলল, হে আল্লাহ! তোমারই যাবতীয় প্রশংসা! (আজ রাতে) অবশ্যই আবার সাদকা করব। সুতরাং সে নিজ সাদকা নিয়ে বের হল এবং (অজান্তে) এক বেশ্যার হাতে তা দিয়ে দিল। সকাল বেলায় লোকে বলাবলি করতে লাগল যে, আজ রাতে এক বেশ্যাকে সাদকা দেওয়া হয়েছে। সে তা শুনে আবার বলল, হে আল্লাহ! তোমারই প্রশংসা যে, বেশ্যাকে সাদকা করা হল। আজ রাতে পুনরায় অবশ্যই সাদকাহ করব।
সুতরাং তার সাদকা নিয়ে বের হয়ে গেল এবং (অজান্তে) এক ধনী ব্যক্তির হাতে সাদকা দিল। সকাল বেলায় লোকেরা আবার বলাবলি করতে লাগল যে, আজ এক ধনী ব্যক্তিকে সাদকা দেওয়া হয়েছে। লোকটি শুনে বলল, হে আল্লাহ! তোমারই সমস্ত প্রসংশা যে, চোর, বেশ্যা তথা ধনী ব্যক্তিকে সাদকা করা হয়েছে। সুতরাং (নবী অথবা স্বপ্নযোগে) তাকে বলা হল যে, (তোমার সাদকা ব্যর্থ যায়নি; বরং) তোমার যে সাদকা চোরের হাতে পড়েছে তার দরুন হয়তো চোর তার চৌর্যবৃত্তি ত্যাগ করে দেবে। বেশ্যা হয়তো তার দরুন তার বেশ্যাবৃত্তি ত্যাগ করবে। আর ধনী; সম্ভবতঃ সে উপদেশ গ্রহণ করবে এবং সে তার আল্লাহ প্রদত্ত ধন-সম্পদ আল্লাহর রাহে ব্যয় করবে।
وَعَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ الله ﷺ قَالَ قَالَ رَجُلٌ لأَتَصَدَّقَنَّ بِصَدَقَةٍ فَخَرَجَ بِصَدَقَتِهِ فَوَضَعَهَا فِي يَدِ سَارِقٍ فَأَصْبَحُوا يَتَحَدَّثُونَ : تُصُدِّقَ عَلَى سَارِقٍ فَقَالَ : اَللّٰهُمَّ لَكَ الحَمْدُ لأتَصَدَّقَنَّ بِصَدَقَةٍ فَخَرَجَ بِصَدَقَتِهِ فَوَضَعَهَا فِي يَدِ زَانِيَةٍ فَأَصْبَحُوا يَتَحَدَّثُونَ : تُصُدِّقَ اللَّيْلَةَ عَلَى زَانِيَةٍ فَقَالَ : اَللّٰهُمَّ لَكَ الحَمْدُ عَلَى زَانِيَةٍ لأتَصَدَّقَنَّ بِصَدَقَةٍ فَخَرَجَ بِصَدَقَتِهِ فوَضَعَهَا فِي يَدِ غَنِيٍّ فَأَصْبَحُوا يَتَحَدَّثُونَ : تُصُدِّقَ عَلَى غَنِيٍّ ؟ فَقَالَ : اَللّٰهُمَّ لَكَ الحَمْدُ عَلَى سَارِقٍ وَعَلَى زَانِيَةٍ وعلى غَنِيٍّ فَأُتِيَ فَقِيلَ لَهُ : أَمَّا صَدَقَتُكَ عَلَى سَارِقٍ فَلَعَلَّهُ أَنْ يَسْتَعِفَّ عَن سَرِقَتِهِ وَأَمَّا الزَّانِيَةُ فَلَعَلَّهَا تَسْتَعِفُّ عَن زِنَاهَا وَأَمَّا الغَنِيُّ فَلَعَلَّهُ أَنْ يَعْتَبِرَ فَيُنْفِقَ مِمَّا أَعْطَاهُ اللهُ رواه البخاري بلفظه ومسلم بمعَناه
وعن ابي هريرة ان رسول الله ﷺ قال قال رجل لاتصدقن بصدقة فخرج بصدقته فوضعها في يد سارق فاصبحوا يتحدثون : تصدق على سارق فقال : اللهم لك الحمد لاتصدقن بصدقة فخرج بصدقته فوضعها في يد زانية فاصبحوا يتحدثون : تصدق الليلة على زانية فقال : اللهم لك الحمد على زانية لاتصدقن بصدقة فخرج بصدقته فوضعها في يد غني فاصبحوا يتحدثون : تصدق على غني ؟ فقال : اللهم لك الحمد على سارق وعلى زانية وعلى غني فاتي فقيل له : اما صدقتك على سارق فلعله ان يستعف عن سرقته واما الزانية فلعلها تستعف عن زناها واما الغني فلعله ان يعتبر فينفق مما اعطاه الله رواه البخاري بلفظه ومسلم بمعناه
(বুখারী ১৪২১, মুসলিম ২৪০৯, শব্দগুলি বুখারীর)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ৩/ নিয়্যাত
১৬১
বাংলা/ العربية
পরিচ্ছেদঃ নিয়ত ও ইখলাস সম্পর্কিত হাদীসসমূহ
(১৬১) সা’দ বিন আবী অক্কাস (রাঃ) বলেন, যে দশজন সাহাবীকে জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছিল ইনি তাঁদের মধ্যে একজন। বিদায় হজ্জ্বের বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার রুগ্ন অবস্থায় আমাকে দেখা করতে এলেন। সে সময় আমার শরীরে চরম ব্যথা ছিল। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমার (দৈহিক) জ্বালা-যন্ত্রণা কঠিন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে--যা আপনি স্বচক্ষে দেখছেন। আর আমি একজন ধনী মানুষ; কিন্তু আমার উত্তরাধিকারী বলতে আমার একমাত্র কন্যা। তাহলে আমি কি আমার মাল-সম্পদের দুই তৃতীয়াংশ দান করে দেব? তিনি বললেন, না। আমি বললাম, তাহলে অর্ধেক মাল হে আল্লাহর রসূল! তিনি বললেন, না। আমি বললাম, তাহলে কি এক তৃতীয়াংশ দান করতে পারি? তিনি বললেন, এক তৃতীয়াংশ (দান করতে পার), তবে এক তৃতীয়াংশও অনেক। কারণ এই যে, তুমি যদি তোমার উত্তরাধিকারীদের ধনবান অবস্থায় ছেড়ে যাও, তাহলে তা এর থেকে ভাল যে, তুমি তাদেরকে কাঙ্গাল করে ছেড়ে যাবে এবং তারা লোকের কাছে হাত পাতবে।
(মনে রাখ,) আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে তুমি যা ব্যয় করবে তোমাকে তার বিনিময় দেওয়া হবে। এমনকি তুমি যে গ্রাস তোমার স্ত্রীর মুখে তুলে দাও তারও তুমি বিনিময় পাবে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি কি আমার সঙ্গীদের ছেড়ে পিছনে (মক্কায়) থেকে যাব? তিনি বললেন, তুমি যদি তোমার সঙ্গীদের মরার পর জীবিত থাক এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে কোন কাজ কর, তাহলে তার ফলে তোমার মর্যাদা ও সম্মান বর্ধন হবে। আর সম্ভবতঃ তুমি বেঁচে থাকবে। এমনকি তোমার দ্বারা কিছু লোক (মু’মিনরা) উপকৃত হবে। আর কিছু লোক (কাফেররা) ক্ষতিগ্রস্ত হবে। হে আল্লাহ! তুমি আমার সাহাবীদেরকে হিজরতে পরিপূর্ণতা দান কর এবং তাদেরকে (হিজরত থেকে) পিছনে ফিরিয়ে দিয়ো না। কিন্তু মিসকীন সা’দ ইবনে খাওলা। তাঁর মৃত্যু মক্কায় হওয়ার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুঃখ ও শোক প্রকাশ করেন।
وَعَنْ أَبيْ إسحَاقَ سَعدِ بنِ أبي وَقَّاصٍ مالِكِ بنِ أُهَيْب بنِ عبدِ مَنَافِ بنِ زُهرَةَ بنِ كِلاَبِ بنِ مُرَّةَ بنِ كَعبِ بنِ لُؤيٍّ القُرشِيِّ الزُّهريِّ أَحَدِ العَشَرَةِ المشهودِ لَهُم بِالْجَنَّةِ قَالَ : جَاءَنِي رسولُ اللهِ ﷺ يَعُودُنِي عَامَ حَجَّةِ الوَدَاعِ مِنْ وَجَعٍ اشْتَدَّ بي فقُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ إنِّي قَدْ بَلَغَ بي مِنَ الوَجَعِ مَا تَرَى وَأَنَا ذُو مالٍ وَلا يَرِثُني إلا ابْنَةٌ لِي أفأَتَصَدَّقُ بِثُلُثَيْ مَالِي ؟ قَالَ لا قُلْتُ : فالشَّطْرُ يَا رَسُولَ اللهِ؟ فقَالَ لا قُلْتُ : فالثُّلُثُ يَا رَسُولَ اللهِ ؟ قَالَ الثُّلُثُ والثُّلُثُ كَثيرٌ أَوْ كبيرٌ إنَّكَ إنْ تَذَرْ وَرَثَتَكَ أغنِيَاءَ خيرٌ مِنْ أنْ تَذَرَهُمْ عَالَةً يتكفَّفُونَ النَّاسَ وَإنَّكَ لَنْ تُنفِقَ نَفَقَةً تَبْتَغي بِهَا وَجهَ اللهِ إلاَّ أُجِرْتَ عَلَيْهَا حَتَّى مَا تَجْعَلُ في فِيِّ امْرَأَتِكَ قَالَ : فَقُلتُ : يَا رسولَ اللهِ أُخلَّفُ بعدَ أصْحَابي ؟ قَالَ إِنَّكَ لَنْ تُخَلَّفَ فَتَعملَ عَمَلاً تَبتَغي بِهِ وَجْهَ اللهِ إلاَّ ازْدَدتَ بِهِ دَرَجةً ورِفعَةً وَلَعلَّكَ أنْ تُخَلَّفَ حَتّى يَنتَفِعَ بِكَ أقْوَامٌ وَيُضَرَّ بِكَ آخرونَ اَللّٰهُمَّ أَمْضِ لأصْحَابي هِجْرَتَهُمْ ولاَ تَرُدَّهُمْ عَلَى أعقَابهمْ لكنِ البَائِسُ سَعدُ بْنُ خَوْلَةَ يَرْثي لَهُ رَسُولُ الله ﷺ أنْ ماتَ بمَكَّة مُتَّفَقٌ عليهِ
وعن ابي اسحاق سعد بن ابي وقاص مالك بن اهيب بن عبد مناف بن زهرة بن كلاب بن مرة بن كعب بن لوي القرشي الزهري احد العشرة المشهود لهم بالجنة قال : جاءني رسول الله ﷺ يعودني عام حجة الوداع من وجع اشتد بي فقلت : يا رسول الله اني قد بلغ بي من الوجع ما ترى وانا ذو مال ولا يرثني الا ابنة لي افاتصدق بثلثي مالي ؟ قال لا قلت : فالشطر يا رسول الله؟ فقال لا قلت : فالثلث يا رسول الله ؟ قال الثلث والثلث كثير او كبير انك ان تذر ورثتك اغنياء خير من ان تذرهم عالة يتكففون الناس وانك لن تنفق نفقة تبتغي بها وجه الله الا اجرت عليها حتى ما تجعل في في امراتك قال : فقلت : يا رسول الله اخلف بعد اصحابي ؟ قال انك لن تخلف فتعمل عملا تبتغي به وجه الله الا ازددت به درجة ورفعة ولعلك ان تخلف حتى ينتفع بك اقوام ويضر بك اخرون اللهم امض لاصحابي هجرتهم ولا تردهم على اعقابهم لكن الباىس سعد بن خولة يرثي له رسول الله ﷺ ان مات بمكة متفق عليه
(বুখারী ১২৯৫, ৩৯৩৬, মুসলিম ৪২৯৬)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ সা’দ বিন আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ৩/ নিয়্যাত
১৬২
বাংলা/ العربية
পরিচ্ছেদঃ নিয়ত ও ইখলাস সম্পর্কিত হাদীসসমূহ
(১৬২) আবূ হুরাইরা আব্দুর রহমান বিন স্বাখর (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা তোমাদের দেহ এবং তোমাদের আকৃতি দেখেন না, বরং তিনি তোমাদের অন্তর ও আমল দেখেন।
وَعَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ عَبدِ الرَّحْمَانِ بْنِ صَخْرٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺإنَّ الله لاَ ينْظُرُ إِلى أَجْسَادِكُمْ وَلاَ إِلَى صُوَرِكمْ وَلَكن ينْظُرُ إِلَى قُلُوبِكُمْ وَأَعمَالِكُم رواه مسلم
৬৪
১০০ মন্তব্য