Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০৩:২১ পূর্বাহ্ণ

তারাভরা রাতে তোমার কথা যে মনে পড়ে বেদনায় - স্মরণ - কবি আজিজুর রহমান --------------------------------------------------- আজিজুর রহমান একজন কবি এবং স্বনামধন্য গীতিকার।

তারাভরা রাতে তোমার কথা যে মনে পড়ে বেদনায় -


স্মরণ -


          কবি আজিজুর রহমান

---------------------------------------------------

আজিজুর রহমান একজন কবি এবং স্বনামধন্য গীতিকার।


জন্ম ১৯১৪ সালের ১৮ অক্টোবর কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর গ্রামে। পিতার নাম বশির উদ্দিন প্রামানিক। মাতার নাম সবুরুন নেছা। 


গড়াই নদীর নৈসর্গিক সৌন্দর্য তাঁকে সব সময় মোহিত করে রাখতো। ১৩ বছর বয়সে ১৯২৭ সালে তিনি পিতাকে হারান।


উচ্চশিক্ষা লাভের ভাগ্য না থাকলেও প্রবল ইচ্ছা ও অণুসন্ধিৎসার ফলে বহু বিষয়ক পুস্তকাদি স্বগৃহে পাঠ করে তিনি একজন স্বশিক্ষিত ব্যক্তিতে পরিণত হন।


তিনি ঢাকা বেতারের নিজস্ব শিল্পী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৫৪ সালে তিনি ঢাকা বেতারে প্রথমে অনিয়মিত এবং পরে নিয়মিতভাবে যোগ দেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ বেতারে চাকরিতে বহাল ছিলেন।


১৯৬৪ সাল থেকে ১৯৭০ পর্যন্ত 'দৈনিক পয়গাম' এর সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন। ১৯৩৪ সালে তিনি তাঁর পিতামহ চাঁদ প্রামানিকের নামে হরিপুর গ্রামে গড়ে তোলেন চাঁদ স্মৃতি পাঠাগার। এটি ছিল অত্যন্ত সমৃদ্ধ একটি পাঠাগার। দূর দুরান্ত থেকে মানুষ বইয়ের খোঁজে আসতেন এই পাঠাগারে। তাঁর সাংগঠনিক ক্ষমতা ছিল প্রবল।


তিনি একাধারে কুষ্টিয়া হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান, কুষ্টিয়া (নদীয়া) ফুড কমিটির সেক্রেটারি, বেঞ্চ অ্যান্ড কোর্ট ডিভিশনের চেয়ারম্যান, কুষ্টিয়া জেলা বোর্ড ও ডিস্ট্রিক্ট অ্যাডভাইজরি কমিটির সদস্যের পদও অলঙ্কৃত করেছিলেন। 


ছাত্রাবস্থায় তিনি মুসলিম ছাত্র আন্দোলনেও ভূমিকা রেখেছেন এবং প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সদস্য মনোনীত হয়েছিলেন।


কবি আজিজুর রহমানই প্রথম তাঁর জন্মস্থান কুষ্টিয়া জেলার ইতিহাস রচনায় উদ্যোগ গ্রহণ করেন। 


কুষ্টিয়ার ইতিহাসের বহু মূল্যবান তথ্য তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করে বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে ঘুরে সংগ্রহ করেছিলেন; কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয় তিনি তাঁর রচনা সম্পন্ন করে যেতে পারেননি।


গীতিকার হিসেবে কবি আজিজুর রহমান এদেশের এক বিরল প্রতিভা ছিলেন। ঢাকার প্রায় প্রখ্যাত সুরকাররা যেমন আজিজুর রহমানের গানে সুর দিয়েছেন তেমন তাঁর গানও গেয়েছেন খ্যাতনামা প্রায় সব শিল্পীই। চলচ্চিত্রের জন্য তিনি অসংখ্য গান রচনা করে গেছেন।


রাজধানীর বুকে, হারানো দিন, আগন্তক প্রভৃতি ছায়াছবির জনপ্রিয় গানগুলো তাঁরই রচনা। মূলত: গানের ফসলেই ভরেছে তাঁর শিল্পের গোলা।


সাহিত্যচর্চা শুরুর আগে নাটকে অভিনয়ে তাঁর উৎসাহ ছিল বেশি। তিনি গড়ে তোলেন একটি নাট্যদল। নাট্যদলটি নাটক মঞ্চস্থ করতো শিলাইদহের ঠাকুর বাড়িতে। এ কাজের জন্য সে সময় কুষ্টিয়ার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তাঁর সুনাম ও খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে।


সে কালের বিশিষ্ট অভিনেতা ধীরেন দত্ত, উপেন ঠাকুরসহ বিভিন্ন নামিদামি অভিনেতারা অংশগ্রহণ করতেন তাঁর নাট্যদলে।


বেতারের সাথে যোগাযোগ কবি আজিজুর রহমানের সাহিত্যিক জীবনের এক উল্লেখযোগ্য ঘটনা।


কবি আজিজুর রহমান কবিতা দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও গান রচনার মধ্যে তাঁর প্রতিভার পূর্ণ প্রকাশ ঘটে। তিনি প্রায় তিন হাজার গান লিখেছেন, যা আজও আমাদের দেশের মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। 


ঢাকায় আসার পর তিনি কবি ফররুখ আহমদের সহায়তায় বিভিন্ন শিল্পী, কবি ও সাহিত্যিকদের সাথে পরিচিত হন। এসময় কবি ফররুখ আহমদ তাঁকে ঢাকা বেতারে নিয়ে যান। 


অসুস্থ হয়ে পড়ায় ১৯৭৮ সালের পর কবির হাতে তেমন আর কলম ওঠেনি। একাকী বিছানায় শুয়ে দিন কেটেছে তাঁর। সে সময় তিনি বিছানায় শুয়ে শুয়ে লিখেছিলেন 'হায় পথ ভোলা কবি, জলের লেখায় বালুকা বেলায় মিছে এঁকে গেলে ছবি’। এটাই ছিল কবির লেখা শেষ গান। অর্থাভাবে চিকিৎসাও তাঁর ভাগ্যে জোটেনি।


সাহিত্য ও সঙ্গীতে বিশেষ অবদান রাখায় ১৯৭৯ সালে তাঁকে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। 


১৯৭৮ সালের ১২ সেপ্টেম্বর বিশিষ্ট এই গীতিকবি পরলোকগমন করেন।


তথ্যসূত্রঃ 'শিক্ষাবার্তা'

২৪ মে ২০১৫

#সংগৃহীত

মন্তব্য করুন