সহকারী শিক্ষক
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
শিক্ষার্থীদের পঠন দক্ষতা বৃদ্ধির কৌশল
প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের পঠন দক্ষতা বৃদ্ধি করা প্রাথমিক শিক্ষকদের বড় চ্যালেঞ্জ। প্রাথমিক শিক্ষার অন্যতম বাহন মাতৃভাষা। কিন্তু আমাদের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিশুদের বাংলাতেও পঠনদক্ষতা প্রত্যাশিত মানে পৌঁছাতে পারছে না । বাংলা আমাদের মাতৃভাষা হওয়া সত্ত্বেও আমাদের শিশুরা বাংলা সাবলীলভাবে পড়তে না পারার কারনে অন্যান্য বিষয়, যেমন প্রাথমিক গণিত, প্রাথমিক বিজ্ঞান, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা ইত্যাদি বিষয়েও তারা সাবলীলভাবে পড়তে পারে না। ফলে প্রতিটি বিষয়েই তাদের ঘাটতি থেকে যায় এবং ওই সব শিক্ষার্থীর লেখাপড়ায় আগ্রহও কম থাকে।
প্রাথমিক শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো সব শিশুকে সাবলীল পাঠক হিসেবে গড়ে তোলা। একটি নির্দিষ্ট পাঠ শুদ্ধ উচ্চারণ ও দাঁড়ি-কমা, যতিচিহ্ন ইত্যাদি যথাযথ ব্যবহার করে পড়ে যাওয়ার ব্যবস্থাকে পঠন বলা হয়। পঠনের সঙ্গে পাঠকের পর্যবেক্ষণ, চিন্তাধারা এবং অভিজ্ঞতা নিহিত থাকতে হবে। আর সাবলীল পঠন বলতে আমরা বুঝি শিশুর বয়স, সামর্থ্য ও যোগ্যতা অনুযায়ী তার শ্রেণির বাংলা বই ও শ্রেণি উপযোগী সম্পূরক পঠনসামগ্রী অর্থ বুঝে পড়তে পারা। সাবলীল পঠনের শর্তগুলো হচ্ছে—বর্ণ, শব্দ ও বাক্য সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে পারা, শুদ্ধ ও স্পষ্ট উচ্চারণ করতে পারা, স্বাভাবিক গতিতে পড়তে পারা, পঠিত বিষয়ের মর্ম বুঝতে পারা, বিরামচিহ্ন ব্যবহার করে, স্বরাঘাত ও স্বরভঙ্গি বজায় রেখে পড়তে পারা। অন্য কথায়, লিখিত কোনো কিছু কারও কোনো রকম সাহায্য ছাড়া অর্থ বুঝে, বিরামচিহ্ন ঠিক রেখে সাবলীলভাবে পড়তে পারার ক্ষমতাকে পঠনদক্ষতা বলা যেতে পারে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পড়ার দক্ষতা উন্নত করার জন্য তাদের পড়া বোঝা, সাবলীলতা, শব্দভান্ডার এবং সামগ্রিক সাক্ষরতা বাড়াতে কৌশল এবং কার্যকলাপের সমন্বয় জড়িত।
এই বয়সের শিক্ষার্থীদের আরও ভালো পাঠক হতে সাহায্য করার জন্য আমি যে কৌশলগুলো অবলম্বন করি তা নীচে আলোচনা করা হলো—
· একটি পাঠবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা: বিভিন্ন বয়স-উপযোগী বই এবং উপকরণ সরবরাহ করে পড়ার প্রতি ভালোবাসাকে উৎসাহিত করি।
· ধ্বনিসচেতনতা এবং ডিকোডিং দক্ষতা: ধ্বনিসচেতনতা, বর্ণজ্ঞান ও শব্দ শনাক্তকরণ দক্ষতার ওপর ফোকাস করে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করতে যথাযথ চেষ্টা করি। বর্ণ-শব্দ সম্পর্ককে শক্তিশালী করতে ধ্বনিসচেতনতা ভিত্তিক গেম ব্যবহার করি।
· শব্দভান্ডার বিকাশ: পড়ার মাধ্যমে নতুন শব্দের সঙ্গে পরিচয় করানো এবং তাদের অর্থ প্রসঙ্গে আলোচনা করি। শিক্ষার্থীদের একটি শব্দভান্ডার অন্বেষণ করতে ডিজিটাল সরঞ্জাম ব্যবহার করি।
· জোরে জোরে পড়া: সঠিক উচ্চারণ এবং অভিব্যক্তি প্রকাশ করার জন্য শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উচ্চ স্বরে পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলেছি। সাবলীলতা তৈরি করতে শিক্ষার্থীদের জোরে জোরে পড়তে বলি।
· বিভিন্ন পঠনসামগ্রী: কল্পকাহিনি, নন-ফিকশন, কবিতা এবং তথ্যমূলক পাঠ্যসহ বিস্তৃত পাঠসামগ্রী সরবরাহ করে শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে পড়ায় উৎসাহিত করি।
· স্বাধীন পড়ার সময়: স্বাধীনভাবে পড়ার জন্য সুযোগ সৃষ্টি করি। অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের তাদের আগ্রহের বই বেছে নেওয়ার সুযোগ দেই। তাদের অগ্রগতি যাচাই করার মাধ্যমে সাবলীল পঠনে যোগ্যতা অর্জনে সহযোগীতা করি।
· রিডিং পার্টনারশিপ এবং বুক ক্লাব: পঠন অংশীদারত্ব বা বই ক্লাব সংগঠিত করি, যেখানে শিক্ষার্থীরা বই নিয়ে আলোচনা করতে এবং তাদের চিন্তাভাবনা শেয়ার করতে পারে। এছাড়া ক্লাসে জোড়ায় বা চেইনভাবে পড়ার মাধ্যমে তাদের পঠন দক্ষতা বাড়াতে চেষ্টা করি।
· নিয়মিত মূল্যায়ন: অগ্রগতি নিরীক্ষণের জন্য নিয়মিত পড়ার মূল্যায়ন পরিচালনা করি এবং উন্নতির প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করে ফলাবর্তন প্রদান করি।
· পড়ার চ্যালেঞ্জ এবং উদ্দীপনা: শিক্ষার্থীদের আরও পড়তে অনুপ্রাণিত করতে, পড়ার চ্যালেঞ্জ বা প্রতিযোগিতার আয়োজন করি। পড়ার লক্ষ্য অর্জনের জন্য পুরস্কার বা প্রণোদনার ব্যবস্থা করি।
· মা-বাবার সম্পৃক্ততা: মা-বাবাকে তাদের সন্তানদের সঙ্গে বাড়িতে পড়তে উৎসাহিত করার জন্য নিয়মিত অবিভাবকদের সাথে যোগাযোগ রাখি এবং পড়াশোনায় সম্পৃক্ত করার জন্য বিভিন্ন কৌশল নিয়ে আলোচনা করি।
· শিক্ষার্থীদের প্রসংশা প্রদান: বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীদে প্রসংশা প্রদান করার মাধ্যমে তাদের পঠনে আগ্রহী করে তুলি।
পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে-
সুশিল চন্দ্র রায়
সহকারী শিক্ষক
মুরারীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যাল।
১৩
১৮ মন্তব্য