Loading..

ব্লগ

রিসেট

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০৭:২৪ পূর্বাহ্ণ

ইসলামী অর্থনীতির কয়েকটি বৈশিষ্ট এটি স্বভাবানুকুল অর্থব্যবস্থা ফিতরত

ইসলামী অর্থনীতির কয়েকটি বৈশিষ্ট 

ক, এটি স্বভাবানুকুল অর্থব্যবস্থা। বস্তুত ইসলাম হল মানুষের স্বভাবজাত ধর্ম -নীনে ফিতরত। কুরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছেঃ 

আল্লাহর ফিতরত প্রকৃতির অনুসরণ কর; যে ফিতরত প্রকৃতি অনুযায়ী তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন। (সুরা রুম, ৩০ঃ ৩০) 

ইসলামের প্রতিটি আমলের মত অর্থনীতিতেও মানুষের স্বভাবের চাহিদার প্রতি দৃষ্টি রাখা হয়েছে ও মধ্যবস্থায় প্রয়োগযোগ্য এক সুষম অর্থব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়েছে। 

খ,  মালিকানাঃ সম্পদের নিরংকুশ মালিকানা একমাত্র আল্লাহ তা'আলার। কুরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছেঃ আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে সমস্ত আল্লাহরই। (সুরা বাকারা, ২ঃ ২৮৪) 

অবশ্য বান্দাকে তিনি তা তাঁর নির্দেশমত ব্যবহারের অধিকার দিয়েছেন। এটাও এক ধরনের মালিকানা। একে 'আমানতী মালিকানা' বলা হয়। এখানে পুঁজিবাদ ও সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির সাথে ইসলামী অর্থনীতির ব্যবধান। ইসলাম এক দিকে পুঁজিবাদের মত সম্পদে ব্যক্তির নিরংকুশ মালিকানাকে স্বীকার করে না; আবার সমাজতন্ত্রের মত সম্পদে ব্যক্তি মালিকানাকে অস্বীকারও করে না, বরং ইসলাম উভয়বিধ ব্যবস্থার এক মধ্যবর্তী ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছে। 

গ, সম্পদের সুষম বন্টন ও আবর্তনঃ ইসলামী অর্থব্যবস্থার তৃতীয় বৈশিষ্ট্য হল, এক স্থানে বা গুটিকয়েক ব্যক্তির হাতে সম্পদ পুজিভূত না হয়ে সমাজের মধ্যে সুষম আবর্তন ঘটতে থাকা। ইসলামে অবৈধভাবে সম্পদ কুক্ষিগত এবং পুঞ্জিভূত করণের বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারী উচ্চারণ করা হয়েছে।   ইরশাদ হয়েছেঃ 

আর যারা সোনা-রূপা পুঞ্জিভূত করে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না, তাদের মর্মান্তুদ শাস্তির সংবাদ দিন। যে দিন জাহান্নামের আগুনে তা উত্তপ্ত করা হবে এবং  তাদ্বারা তাদের ললাট, পার্শ্ব ও পৃষ্ঠোদেশে দাগ দেওয়া হবে। সেদিন বলা হবে ইহাই তা যা তোমরা তোমাদের নিজেদের জন্য পুঞ্জিভূত করতে। সুতরাং তোমরা যা পুঞ্জিভূত করতে এর স্বাদ আস্বাদন কর। (সুরা তাওবা, ৯ঃ ৩৪-৩৫) 

পক্ষান্তরে ইসলাম চায় সম্পদ যেন এক হাতে কুক্ষিগত হয়ে না পড়ে। কুরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছেঃ যাতে তোমাদের মধ্যে যারা বিত্তবান কেবল তাদের মধ্যেই ঐশ্বয্য আবর্তন না করে। (সুরা হাশর, ৫৯ঃ ৭)  

মন্তব্য করুন