সহকারী শিক্ষক
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০৪:৩৭ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
১|শিশুর জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ
লক্ষ্য নির্ধারণ বা goal setting যেকোনো কাজ সম্পন্ন করার প্রথম ধাপ। এর মাধ্যমে কাজটি যেমন সহজ হয়, তেমনি এর জন্য কেমন সময় লাগতে পারে, তা নিয়েও একটা ধারণা পাওয়া যায়। এজন্য পড়ালেখার ক্ষেত্রেও শিশুর জন্য প্রয়োজন একটি বাস্তবসম্মত ও সহজে অর্জনযোগ্য লক্ষ্য। সেই সাথে খেয়াল রাখতে হবে, লক্ষ্যগুলো যেন এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়, যাতে সেগুলো নির্দিষ্ট হয়, পরিমাপ করা যায় এবং তার একটি পরিষ্কার সময়সীমা থাকে। উদাহরণ হিসেবে আমরা যদি দ্বিতীয় ঘটনার দিকে তাকাই, তাহলে তামিমের মা-বাবা ওর সাথে বসে প্রতি সপ্তাহের বাড়ির কাজ সেই সপ্তাহের মাঝেই শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারেন। অথবা শিশুদের উপযোগী যে বইগুলো আছে, সেগুলো থেকে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একটি বই নিজে নিজে পড়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারেন। এক্ষেত্রে চলপড়ি বইঘরের বইগুলো সুন্দর সহায়ক হতে পারে। যে খুদে বন্ধুরা পড়তে শিখছে, এখানে তাদের জন্য যেমন অনেক বই আছে, তেমনি বই আছে সেইসব শিশুদের জন্যও, যারা শেখার জন্য পড়ছে। আর এভাবে লক্ষ্য স্থির করার মাধ্যমে পড়ালেখার ক্ষেত্রে কী করতে হবে, সে বিষয়ে একটা পরিষ্কার ধারণা থাকবে আপনার শিশুর কাছে। পাশাপাশি সেই লক্ষ্য অর্জন করার সময় আপনার শিশু এক ধরনের কৃতিত্ব অনুভব করবে।
২। শিশু কোথায় আটকে যাচ্ছে, তা চিহ্নিত করা
শিশু কোনো কিছু শিখতে কেন আগ্রহ পাচ্ছে না কিংবা কেন অনীহা দেখাচ্ছে, এর কারণগুলো খুঁজে বের করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই আপনার শিশুর সাথে কথা বলুন, জানতে চান কী কারণে তাদের এমন লাগছে। যে বাড়ির কাজটি সে করতে চাইছে না, সেটা কি খুব কঠিন? নাকি সেটা বুঝতে সমস্যা হচ্ছে, তা জানতে চান। মনে রাখতে হবে, কথা বলার এই কাজটি খুব কোমলভাবে, ভালোবেসে করতে হবে, শিশুকে একদমই বকা দেওয়া যাবে না। বকা দিলে শিশু হয়তো ভয় পেয়ে আপনাকে আর কিছু বলতেই চাইবে না। একবার এই সমস্যাগুলোর মূল কারণ চিহ্নিত করে ফেলতে পারলে এগুলো কাটিয়ে ওঠার পথও আপনি পেয়ে যাবেন। যেমন ঘটনা ১ এ যদি আমরা ফিরে যাই, জ্যোতি যেহেতু গণিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে, তাই ওর লেসন বা পাঠগুলোকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে ওর জন্য সহজ করে তোলা একটি পথ হতে পারে। সেই সাথে চলপড়ি পাঠশালার গণিত পাঠগুলোও হতে পারে ওর জন্য আনন্দদায়ক।
৩। শিশু কতটুকু বুঝতে পারছে, তা খেয়াল করা
আপনার শিশু যা পড়ছে বা শিখছে, তা ঠিক কতটুকু বুঝে শিখছে, তা নিশ্চিত করা খুব জরুরি। প্রতিদিনের বাড়ির কাজ শেষ করেছে কি না, শুধু এইটুকু জিজ্ঞাসা না করে সে কী শিখেছে, তা আপনাকে বুঝিয়ে বলতে বলুন। এতে করে শিশু নিজের পড়া কত ভালো করে বুঝতে পারছে, সে সম্পর্কে আপনি একটি পরিষ্কার ধারণা পাবেন। শিশু যদি তার পড়া বুঝতে কোনো সমস্যার মুখোমুখি হয়, তাহলে তার পাঠকে ছোট ছোট, সহজে করতে পারবে, এমন অংশে ভাগ করতে ওকে সাহায্য করুন। এর পাশাপাশি আপনার শিশু কীভাবে শিখতে বেশি পছন্দ করে, সেটা জানা খুব জরুরি। এ ব্যাপারে আরও জানতে ঘুরে আসতে পারেন আমাদের কেমন করে শেখো তুমি ব্লগ থেকে। এ থেকে আপনার শিশুর জন্য ভিজ্যুয়াল এইডস্ বা হ্যান্ড-অন অ্যাক্টিভিটিগুলোর কোনোটি ব্যবহার করা যায় কি না, সে ব্যাপারে আপনি একটি সঠিক দিকনির্দেশনা পাবেন।
শিশুর জন্য পুরস্কার ও প্রেরণা
সবকিছুতে একটি ইতিবাচক মনোভাব রাখা শিশুদের অনুপ্রাণিত করার একটি চমৎকার উপায়। বাড়ির কাজ শেষ করার জন্য বা নির্ধারণ করে দেওয়া লক্ষ্য অর্জনের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা শিশুকে আগ্রহী করে তুলবে। সেই সাথে শিশুদের অগ্রগতি ট্র্যাক করতে স্টিকার বা চার্টের মতো অনুপ্রেরণামূলক সরঞ্জাম ব্যবহার করা যেতে পারে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই পুরস্কারগুলো বড় বা ব্যয়বহুল হতে হবে, এমন একেবারেই না! শিশুর প্রিয় খাবার রান্না করা কিংবা একটু বেশি সময় কার্টুন দেখার মতো সহজ হতে পারে এই পুরস্কারগুলো। শুধু নিশ্চিত করতে হবে, পুরস্কারটি যেন এমন কিছু হয়, যা আপনার শিশু আসলেই চায়। যেমন জ্যোতি যদি পরের গণিত পরীক্ষায় বেশি নম্বর পায়, তবে ওর মা-বাবা ওকে ওর পছন্দের একটি গল্পের বই কিনে দিতে পারেন। অথবা যদি তামিম নিজে নিজে ওর বাড়ির কাজ শেষ করতে পারে, তবে ওর মা-বাবা ওকে ওর পছন্দের পুডিং বানিয়ে খাওয়াতে পারেন।
৫। শিশুর প্রতিভা বিকাশে উৎসাহিত করা
প্রতিটি শিশুর নিজস্ব ও অনন্য কিছু প্রতিভা আছে। এই প্রতিভা বিকাশে ওদের দরকার উৎসাহ, অনুপ্রেরণা আর সাহায্য। আপনার শিশু যদি ছবি আঁকতে ভালোবাসে, তবে তাকে আঁকতে দিন, তাকে নিয়ে ছবির প্রদর্শনীতে ঘুরতে যান, তাকে রঙের বাক্স কিনে দিন। যদি পড়তে ভালোবাসে, তবে তাকে পড়তে উৎসাহ দিন, নিয়মিত লাইব্রেরিতে নিয়ে যান, সেখানকার সদস্যও করে দিতে পারেন। এতে করে তাদের নিজেদের কৃতিত্বের প্রতি আস্থা ও আত্মবিশ্বাস জন্মাবে। শুধু পড়ালেখার জালে তাকে আটকে রাখবেন না। পড়ালেখা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে এটাই একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ বিষয় না। আপনার শিশুকে ভালো মানুষ হতে শেখানো সবচাইতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ
৭
৬ মন্তব্য