Loading..

ব্লগ

রিসেট

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ১০:০১ অপরাহ্ণ

সহকর্মী ও অনুগামীদের প্রতি রাসূল (সা.) এর ব্যবহার -ডক্টর মোহাম্মদ ইদ্রিস

সহকর্মী ও অনুগামীদের প্রতি রাসূল (সা.) এর অনুপম ব্যবহার

ডক্টর মোহাম্মদ ইদ্রিস

সহকর্মী ও অনুগামীদের প্রতি রাসূল সা. এর অনুপম ব্যবহার ও আচরণ সম্পর্কে আল-কুরআনে বিভিন্ন সূরায় আলোচনা করা হয়েছে। সূরা আল-ফাতহে বলা হয়েছে: মুহাম্মদ আল্ল¬াহর রাসূল এবং তার সাথে যারা আছে তারা কাফিরদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর; পরস্পরের প্রতি সদয়, তুমি তাদেরকে রুকূকারী, সিজদাকারী অবস্থায় দেখতে পাবে। তারা আল্ল¬াহর করুণা ও সন্তুষ্টি অনুসন্ধান করছে। তাদের আলামত হচ্ছে, তাদের চেহারায় সিজদার চিহ্ন থাকে। [সূরা আল-ফাতহ:২৯] সূরায়ে আলে-ইমরানে এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। সূরায়ে আলে-ইমরান মদীনায় অবর্তীণ হয়। নবুওয়াত লাভের পর মুহাম্মাদুর রাসূল্ল¬াহ সাল্ল¬াল্ল¬াহু আলাইহি ওয়া সাল্ল¬াম মাক্কাতে আদ্ দাওয়াতু ইলাল্লাহ-র কাজ করতে থাকেন। সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ছিলো তাঁর প্রয়াস। কিন্তু ইসলাম-বিদ্বেষীরা এই শান্তিপূর্ণ প্রয়াসকেও বরদাশত করতে পারেনি। নানা ধরণের বানোয়াট কথা প্রচার করে তারা লোকদের মনে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্ল¬াহ (সা.) ও তাঁর প্রচারিত দীন সম্পর্কে ভুল ধারণা সৃষ্টির চেষ্টা চালাতে থাকে। কিন্তু সত্য সন্ধানী যুবক যুবতীরা এই অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে একে একে ইসলামের পথে এগিয়ে আসে। এতে ইসলাম-বিদ্বেষীরা মারমুখো হয়ে ওঠে এবং মুসলিমদের ওপর দৈহিক নির্যাতন চালাতে শুরু করে। মুশরিক নেতাদের বৈরিতার কারণে মক্কার যমিন মুসলিমদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।

পক্ষান্তরে আল¬াহ রাব্বুল আলামীনের অনুগ্রহে ইয়াসরিবে ইসলামের জন্য অনুকূল পরিবেশ গড়ে ওঠে। সেখানকার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা ইসলাম গ্রহণ করায় সাধারণ মানুষের পক্ষে ইসলাম গ্রহণ করা সহজ হয়ে যায়। অচিরেই ইয়াসরিবে গড়ে ওঠে ইসলামের অনুকূল গণ-ভিত্তি। আল¬াহর নির্দেশে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্ল¬াহ (সা.) ইয়াসরিবে হিজরত করেন। গড়ে তোলেন ছোট্ট একটি রাষ্ট্র আল মাদীনা আল মুনাওয়ারা। আল¬াহ প্রদত্ত বিধানের আলোকে তিনি সমাজের সকল দিক ও বিভাগে আমূল পরিবর্তন সাধনে হাত দেন। সবেমাত্র একটি বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। মক্কার মুশরিক নেতারা মদীনায় নতুন এক রাষ্ট্র শক্তির বিকাশে শংকিত হয়ে ওঠে। তারা এই রাষ্ট্রশক্তিকে অংকুরেই ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য এক হাজার সুসজ্জিত সৈন্য নিয়ে মদীনার দিকে অগ্রসর হয়। মাত্র ৩১৩ জন মুজাহিদ নিয়ে মদীনা রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান মুহাম্মাদুর রাসূলুল্ল¬াহ (সা.) বদর প্রান্তরে তাদের মুকাবিলা করেন। এই যুদ্ধে ১৪ জন মুসলিম শহীদ হন। কেউ বন্দী হননি। পক্ষান্তরে মুশরিক বাহিনীর ৭০ জন যোদ্ধা নিহত হয়, বন্দী হয় ৭০ জন।

এই পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে হিজরী তৃতীয় সনে মদীনার উহুদ প্রান্তরে এসে পৌঁছে মক্কার তিন হাজার মুশরিক যোদ্ধা। এদের মুকাবিলা করার জন্য মুহাম্মাদুর রাসূলুল¬øাহ (সা.) এক হাজার যোদ্ধা নিয়ে উহুদের দিকে অগ্রসর হন। পথিমধ্যে মুনাফিক সরদার আবদুল্ল¬াহ ইবনু উবাই তার অনুগত তিনশত যোদ্ধা নিয়ে সরে পড়ে। মাত্র ৭০০ জন মুজাহিদ নিয়ে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্ল¬াহ সাল্ল¬াল্ল¬াহু আলাইহি ওয়া সাল্ল¬াম মুশরিক বাহিনীর সম্মুখীন হন। আল¬াহর অনুগ্রহে মুসলিম বাহিনী যুদ্ধে জয় লাভ করে। উল্লা¬সিত হয়ে মুজাহিদদের একটি অংশ গনীমাতের মাল সংগ্রহের জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ে।  রুমাত পাহাড়ে পাহারায় নিয়োজিত ৫০ জন তীরন্দাজের বেশির ভাগই তাদের অবস্থান স্থল ত্যাগ করে গনীমাতের মাল সংগ্রহের জন্য এগিয়ে আসে। অথচ তাদের প্রতি আল¬াহর রাসূল (সা.) এর নির্দেশ ছিলো কোন অবস্থাতেই স্থান ত্যাগ করা যাবে না। খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ তখনো মুশরিক। পাহারাদার মুসলিমদের অবস্থান স্থল ত্যাগ করার বিষয়টি তাঁর দৃষ্টি এড়ায়নি। একদল অশ্বারোহী সৈন্য নিয়ে তিনি হঠাৎ মুসলিমদের ওপর চড়াও হন। এই হঠাৎ আক্রমণে মুসলিমগণ ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। ৭০ জন মুসলিম শহীদ হন। মুহাম্মাদুর রাসূলুল্ল¬াহ সাল্ল¬াল্ল¬াহু আলাইহি ওয়া সাল্ল¬াম আহত হন। আহত হন শত শত মুজাহিদ। এই যুদ্ধের পর মুসলিমদেরকে নসীহত করে আল¬াহ রাব্বুল আলামীন এক দীর্ঘ ভাষণ নাযিল করেন। সূরা আলে-ইমরানের ১২১ থেকে ২০০ নাম্বার আয়াত পর্যন্ত এই ভাষণ বিস্তৃত। এই ভাষণের একাংশে আল¬াহ রাব্বুল আলামীন বলেন: তোমরা মন-ভাঙ্গা হয়ো না, দুঃখ করো না, তোমরাই বিজয়ী হবে যদি তোমরা সত্যিকারের মুমিন হও।’ [সূরা আলে- ইমরান: ১৩৯]   

ওহুদ যুদ্ধের ময়দানে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্ল¬াহ (সা.) শহীদ হয়েছেন এমন গুজব ছড়িয়ে পড়লে বহুসংখ্যক মুজাহিদ হতোদ্যম হয়ে পড়ে। তাদের এই ভূমিকার নিন্দা করে এই ভাষণে আল¬াহ রাব্বুল আলামীন বলেন: মুহাম্মাদ তো একজন রাসূল বৈ কিছু নয়। তার আগে আরো অনেক রাসূল চলে গেছে। সে যদি মারা যায় তোমরা কি পেছনের দিকে ফিরে যাবে? যেই ব্যক্তি পেছনের দিকে ফিরে যাবে সে আল¬াহর কোন ক্ষতি করতে পারবে না। আর আল¬াহ শিগগিরই তাঁর কৃতজ্ঞ বান্দাদেরকে পুরস্কৃত করবেন।’ [সূরা আলে-ইমরান: ১৪০]

সূরা আলে-ইমরানের এই ভাষণে ১৫৯ নাম্বার আয়াতে আল¬াহ রাব্বুল আলামীন অনুগামীদের প্রতি রাসূল (সা.) এর ব্যবহার বা আচরণ সম্পর্কে তাঁকে সম্বোধন করে বলেন: এটা আল¬øাহর বড়ই অনুগ্রহ যে তুমি তাদের (তোমার অনুগামীদের) প্রতি নম্ন হয়েছো। যদি তুমি রুক্ষভাষী ও কঠোর চিত্ত হতে তারা তোমার চারদিক থেকে সরে যেতো। অতএব তুমি তাদেরকে ক্ষমা করে দাও, তাদের জন্য ইসতিগফার কর এবং সামষ্টিক বিষয়ে তাদের সাথে পরামর্শ কর। [সূরা আলে-ইমরান: ১৫৯] আলোচ্য আয়াতে আল¬াহ রাব্বুল আলামীন মুসলিম উম্মাহর মূল নেতৃত্ব মুহাম্মাদুর রাসূলুল্ল-াহকে (সা.) কে সম্বোধন করে অনুগামীদের প্রতি তাঁর অনুপম ব্যবহার বা আচরণ উল্লেখ করেছেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) এর ব্যবহার বা আচরণগুলো হলো:

(ক) বিনয় ও নম্রতা: আলোচ্য আয়াতের শুরুতে আল¬াহ রাব্বুল আলামীন মুহাম্মাদুর রাসূলুল্ল¬াহ(সা.) কে সম্বোধন করেছেন। এই আয়াতে আল¬াহ রাব্বুল আলামীন অনুগামীদের প্রতি মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.) নম্র বা কোমল আচরণকে সপ্রশংস ভঙ্গিতে প্রকাশ করেছেন। এটাও তিনি উল্লে¬খ করেছেন যে আল¬াহর অনুগ্রহেই মুহাম্মাদুর রাসূলুল্ল¬াহ (সা.) এমনটি করতে পেরেছেন। তার অর্থ দাঁড়ায় আল¬াহর অনুগ্রহ সিক্ত বা অনুগ্রহ প্রাপ্ত ব্যক্তির পক্ষেই অনুগামীদের প্রতি নম্র বা কোমল আচরণ করা সম্ভব। অনুগামীদের প্রতি নম্র আচরণ করার নির্দেশ দিয়ে কুরআনুল কারীমের অন্য আয়াতে আল¬াহ রাব্বুল আলামীন বলেন: তোমার অনুগামী মুমিনদের প্রতি তোমার ডানা নুইয়ে দাও। অর্থাৎ তাদের সাথে নম্র আচরণ কর।’ [সূরা আশ্ শূয়ারা: ২১৫] নম্র আচরণের গুরুত্ব বুঝাতে গিয়ে মুহাম্মাদুর রাসূলুল¬øাহ সাল্ল¬াল্ল¬াহু আলাইহি ওয়া সাল্ল¬াম বলেন: নিশ্চয়ই আল¬াহ কোমল। তিনি সকল কাজেই কোমলতা পছন্দ করেন।’ [আল-বুখারী] মুহাম্মাদুর রাসূলুল্ল-াহ সাল্ল¬াল্ল¬াহু আলাইহি ওয়া সাল্ল¬াম আরো বলেন: আল¬াহ আমার নিকট ওয়াহী পাঠিয়েছেন যে তোমরা পরস্পর নম্র আচরণ কর, কেউ কারো ওপর গৌরব করো না, কেউ কারো ওপর বাড়াবাড়ি করো না।’ [মুসলিম]

মুহাম্মাদুর রাসূলুল্ল¬াহ (সা.) বলেন: দান দ্বারা সম্পদ কমে না। ক্ষমাশীলতা দ্বারা আল¬াহ বান্দার সম্মান বৃদ্ধি করেন এবং কেউ আল¬াহর ওয়াস্তে বিনম্র আচরণ করলে তিনি তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন।’ [মুসলিম] মুহাম্মাদুর রাসূলুল্ল¬াহ (সা.) আরো বলেন: আমি কি তোমাদেরকে অবহিত করবো না কোন ব্যক্তি জাহান্নামের আগুনের জন্য হারাম অথবা কার জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম। জাহান্নামের আগুন এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য হারাম যে লোকদের সান্নিধ্যে থাকে, যে কোমলমতি, বিনম্র ও নরম মেজাজের অধিকারী।’ [তিরমিযী]

একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে নছীহত করতে গিয়ে মুহাম্মাদুর রাসূলুল¬øাহ সাল্ল¬াল্ল¬াহু আলাইহি ওয়া সাল্ল¬াম বলেন: অবশ্যই নিকৃষ্ট দায়িত্বশীল ঐ ব্যক্তিরা যারা অনুগামীদের প্রতি কঠোর। সাবধান, তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।’ [বুখারী] মুহাম্মাদুর রাসূলুল্ল¬াহ সাল্ল¬াল্ল¬াহু আলাইহি ওয়া সাল্ল¬াম বলেন: নেতা ঢালের মতো। তার অধীনে থেকে লড়াই করা হয়। এর মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। সে যদি তার অনুগামীদেরকে তাকওয়া অবলম্বনের নির্দেশ দেয় এবং তাদের মাঝে আদল প্রতিষ্ঠা করে তাহলে সে পুরস্কার পাবে, যদি এর বিপরীত কাজ করে তাহলে পাবে শাস্তি।’ [সহীহুল বুখারী]

মুহাম্মাদুর রাসূলুল্ল¬াহ (সা.) আল¬াহর আদালতে নেতৃত্বের জওয়াবদিহি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বলেন: নেতা একজন তত্ত্বাবধায়ক। তাকে তার নেতৃত্বাধীন ব্যক্তিদের তত্ত্বাবধান সম্পর্কে জওয়াবদিহি করতে হবে।’ [বুখারী] মুহাম্মাদুর রাসূলুল্ল¬াহ (সা.) আরো বলেন:কোন ব্যক্তি যদি দশজন লোকেরও নেতা হয়, কিয়ামাতের দিন তাকে বেড়ি লাগানো অবস্থায় হাজির করা হবে। (লোকদের পরিচালনাকালে) তার অনুসৃত ন্যায়-নিষ্ঠতা এই অবস্থা থেকে তার মুক্তির কারণ হবে অথবা তার কৃত অন্যায় তার ধ্বংসের কারণ হবে।’ [সুনানু আদ্ দারেমী] অতঃপর সূরা আলে-ইমরানের আলোচ্য ১৫৯ নাম্বার আয়াতে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্ল¬াহ(সা.) কে সম্বোধন করে আল¬াহ রাব্বুল আলামীন বলেন: তুমি যদি রুক্ষভাষী ও কঠোর চিত্ত হতে লোকেরা তোমার চার দিক থেকে সরে যেতো।

(খ) রুক্ষভাষী ও কঠোর চিত্ততা বর্জনঃ নম্র আচরণ মানুষকে আকর্ষণ করে। পক্ষান্তরে রূঢ় আচরণ মানুষকে ভীতশ্রদ্ধ করে তোলে। বস্তুত রুক্ষভাষা বা রূঢ় আচরণের উৎস হচ্ছে কঠোর চিত্ত। এখানে আল¬াহ রাব্বুল আলামীন কঠোর চিত্ততা ও রুক্ষভাষার পরিণতি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। নেতৃত্ব বা দায়িত্বশীল ব্যক্তি যদি কঠোর চিত্ত ও রুক্ষভাষী হন, অনুগামীগণ তাঁকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে। তারা পারত পক্ষে তাঁর নিকটে ঘেঁষতে চায় না। ইসলামী সমাজে এমন পরিবেশ অনাকাক্সিক্ষত, অনভিপ্রেত। এরপর সূরা আলে-ইমরানের ১৫৯ নাম্বার আয়াতে আল¬াহ রাব্বুল আলামীন মুহাম্মাদুর রাসূলুল্ল¬াহকে সাল্ল¬াল্ল¬াহু আলাইহি ওয়া সাল্ল¬াম সম্বোধন করে বলেন: তুমি তাদেরকে ক্ষমা করে দাও।

(গ) অনুগামীদের ক্ষমা করে দেওয়া:  ক্ষমাশীলতা অতি উচ্চমানের একটি গুণ। আল¬াহ চান, নেতৃত্বের আসনে আসীন প্রত্যেক ব্যক্তি এই গুণে গুণান্বিত হোক। আল¬াহ রাব্বুল আলামীন মুহাম্মাদুর রাসূলুল¬øাহ (সা.) কে তাঁর অনুগামীদের ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা সুন্দর চোখে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। অনুরূপ নির্দেশ আমরা দেখতে পাই সূরা আল-আরাফে আল¬াহ রাব্বুল আলামীন বলেন: ক্ষমাশীলতা অবলম্বন কর, মারূফ কাজের নির্দেশ দাও এবং জাহিলদেরকে এড়িয়ে চল।’ [সূরা আল-আরাফ: ১৯৯] আল¬াহ রাব্বুল আরো আলামীন বলেন: অতএব তুমি অতি সুন্দরভাবে তাদেরকে ক্ষমা করে দাও।’ [সূরা আল-হিজর: ৮৫]

যদিও এইসব আয়াতে মুহাম্মাদুর রাসূলুল¬øাহকে সাল্ল¬াল্ল¬াহু আলাইহি ওয়া সাল্ল¬াম সম্বোধন করা হয়েছে, প্রকৃত পক্ষে ইসলামী সমাজের সকল দায়িত্বশীল ব্যক্তির জন্যই এই নির্দেশ। যিনি মহান আল¬াহকে উদ্দেশ্য করে বলেন: (হে আল¬াহ, নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাকারী। আপনি ক্ষমা ভালোবাসেন। অতএব আমাকে ক্ষমা করুন।) তিনি তাঁর অনুগামী বা সহকর্মীদের প্রতি ক্ষমাশীলতার নীতি অবলম্বন করবেন না, তা তো হতে পারে না। এরপর সূরা আলে-ইমরানের ১৫৯ নাম্বার আয়াতে আল¬াহ রাব্বুল আলামীন মুহাম্মাদুর রাসূলুল্ল¬াহ (সা.) কে সম্বোধন করে বলেন: এবং তাদের জন্য (আল¬াহর নিকট) ক্ষমা প্রার্থনা কর।

(ঘ) অনুগামীদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা:  ক্ষমা প্রার্থনা, এটিও মুমিন জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। আল¬াহ রাব্বুল আলামীন বলেন: এবং তুমি তোমার নিজের এবং মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর।’ [সূরা মুহাম্মাদ: ১৯] ইসতিগফার-এর কল্যাণময়তা বুঝাতে গিয়ে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্ল¬াহ (সা.) বলেন: যেই ব্যক্তি সর্বদা ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে আল¬াহ তাকে প্রতিটি সংকীর্ণতা থেকে বেরিয়ে আসার পথ করে দেন, প্রতিটি দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দেন এবং তার ধারণার অতীত উৎস থেকে তাকে রিযক দেন।’ [সুনানু আবী দাউদ] অনুপস্থিত ব্যক্তির জন্য দুয়া করার ফযিলত সম্পর্কে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্ল¬াহ (সা.) বলেন: ভাইয়ের অসাক্ষাতে কোন মুসলিম ব্যক্তির দুয়া তার জন্য কবুল হয়। তার মাথার কাছে একজন ফেরেশতা নিযুক্ত থাকে। যখন এ ব্যক্তি তার ভাইয়ের কল্যাণের জন্য দুয়া করে তখন ঐ ফেরেশতা বলে, ‘আমীন, তোমার জন্যও অনুরূপ।’ [মুসলিম]

মুহাম্মাদুর রাসূলুল্ল¬াহ (সা.) আরো বলেন:তোমাদের উত্তম নেতা তারা যাদেরকে তোমরা ভালোবাস, তারাও তোমাদেরকে ভালোবাসে। তোমরা তাদের জন্য দুয়া কর, তারাও তোমাদের জন্য দুয়া করে। তোমাদের মন্দ নেতা তারা যাদেরকে তোমরা ঘৃণা কর, তারাও তোমাদেরকে ঘৃণা করে। তোমরা তাদেরকে অভিশাপ দাও, আর তারাও তোমাদেরকে অভিশাপ দেয়।’ [মুসলিম] ইসতিগফার-এর ফযিলত বুঝাতে গিয়ে আল্লাহ বলেন:  এটা আল¬াহর নিয়ম নয় যে লোকেরা তাঁর কাছে ক্ষমা চাইতে থাকবে আর তিনি তাদেরকে শাস্তি দেবেন।’ [সূরা আল-আনফাল: ৩৩] আলোচ্য আয়াতের পরবর্তী অংশে আল¬াহ রাব্বুল আলামীন মুহাম্মাদুর রাসূলুল্ল¬াহ (সা.) কে সম্বোধন করে বলেন: এবং তাদের সাথে সামষ্টিক বিষয়ে পরামর্শ কর।

(ঙ) অনুগামীদের সাথে পরামর্শ করা:  হাফিয ইবনু হাজার আল আসকালানী (রহ.) বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরামর্শ করা শরীয়ার অন্যতম বিধান।আল হাসান ইবনু  আবিল হাসান (রহ.) বলেন, ‘আল¬াহর কসম, যেই জনগোষ্ঠী পরামর্শ করে কাজ করে তারা সর্বোত্তম পন্থার সন্ধান পেয়ে যায়।নবুওয়াতের পঞ্চম সনে নাযিলকৃত সূরা আশ্-শূরায় আল¬াহ রাব্বুল আলামীন মুমিনদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে শুরাশব্দটি ব্যবহার করেছেন। তিনি বলেন: তাদের সামষ্টিক বিষয় পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে নিষ্পন্ন হয়।’ [সূরা আশ-শুরা: ৩৮] আর এই আয়াতে আল¬াহ রাব্বুল আলামীন মুহাম্মাদুর রাসূলুল্ল¬াহ সাল্ল¬াল্ল¬াহু আলাইহি ওয়া সাল্ল¬ামকে সামষ্টিক বিষয়ে অনুগামীদের সাথে পরামর্শ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

মুহাম্মাদুর রাসূলুল্ল¬াহ (সা.) একজন বিচক্ষণ ব্যক্তি ছিলেন। তিনি খুবই সূক্ষ্মদর্শী ও দূরদর্শী নেতা ছিলেন। তথাপিও তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিষয়ে বিভিন্নভাবে তাঁর সহকর্মীদের সাথে পরামর্শ করতেন। আবু হুরাইরা (রাঃ) বলেন, ‘আমি রাসূলুল¬øাহর চেয়ে বেশি পরামর্শ করতে আর কাউকে দেখিনি।’ (তিরমিযী) মুহাম্মাদুর রাসূলুল্ল¬াহ সাল্ল¬াল্ল¬াহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  প্রতি রাতে সালাতুল ইশার পর আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) ও উমার ইবনুল খাত্তাবের (রাঃ) সাথে পরামর্শ করতেন। আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে, তিনি আশইয়াখে বাদরিন’ (বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী প্রবীণ সাহাবী) দেরকে ডাকতেন এবং তাঁদের সাথে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিতেন। উহুদ যুদ্ধের প্রাক্কালে তিনি যোদ্ধাদেরকে মসজিদে নববীতে সমবেত করে যুদ্ধস্থল নির্ধারণ বিষয়ে পরামর্শ করেন। পরামর্শ সম্পর্কে একটি সূক্ষ্ম কথা হচ্ছে, যতোক্ষণ পর্যন্ত চেয়ারের পক্ষ থেকে রুলিং দেওয়া না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত পরামর্শ একটি অভিমত, সিদ্ধান্ত নয়। অভিমতের পক্ষে রুলিং দিলে তবেই তা সিদ্ধান্তে পরিণত হয়। অতঃপর আলোচ্য আয়াতে আল¬াহ রাব্বুল আলামীন মুহাম্মাদুর রাসূলুল্ল¬াহ সাল্লাল্ল¬াহু আলাইহি ওয়া সাল্ল¬ামকে সম্বোধন করে বলেন: যখন তুমি সংকল্প গ্রহণ কর বা সিদ্ধান্তে উপনীত হও, তখন আল¬াহর ওপর তাওয়াক্কুল কর।

(চ) সিদ্ধান্তে দৃঢ়চিত্ত হওয়া: আযিমাতঅর্থ সংকল্প, সিদ্ধান্ত, করণীয় সম্পর্কে মনস্থির করে ফেলা। তাওক্কালঅর্থ ভরসা, নির্ভরতা, নির্ভরশীলতা নেতৃত্বকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে হতে হবে প্রশস্ত চিত্ত। অর্থাৎ তাকে উদার চিত্তে যতো বেশি সম্ভব লোকের সাথে পরামর্শ করতে হবে। আবার, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে নেতৃত্বকে হতে হবে দৃঢ়চিত্ত। সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়ে যাওয়ার পর মন পুরোপুরি দোদুল্যমানতা মুক্ত করতে হবে। একমাত্র আল¬াহর ওপর ভরসা করে পরিপূর্ণ মানসিক বলিষ্ঠতা সহকারে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অগ্রসর হতে হবে। আলোচ্য আয়াতের শেষাংশে আল¬াহ রাব্বুল আলামীন বলেন: নিশ্চয়ই আল¬াহ তাওয়াক্কুলকারীদেরকে ভালোবাসেন।

(চ) আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা: ইকামাতুদ্ দীনের জন্য মুমিনদেরকে যতো বেশি সম্ভব মানবসম্পদ এবং বস্তু সম্পদ জড়ো করতে হবে। কিন্তু মুমিনদেরকে ইয়াকীন রাখতে হবে যে বিজয়ের চাবিকাঠি সম্পূর্ণ রূপে আল¬াহ রাব্বুল আলামীনের হাতে। সূরা ইবরাহীমে এ সম্পর্কে আল¬াহ রাব্বুল আলামীন বলেন: এবং আল¬াহর ওপরই মুমিনদের তাওয়াক্কুল করা উচিত।’ [সূরা- ইবরাহীম: ১১] আল¬াহ রাব্বুল আলামীন আরো বলেন:সেই চিরঞ্জীব আল¬াহর ওপরই তাওয়াককুল কর যিনি মরেন না।’ [সূরা আল-ফুরকান: ৫৮] আল¬াহ রাব্বুল আলামীন আরো বলেন: বিজ্ঞতাময় মহাপরাক্রমশালী আল¬াহর নিকট থেকে ছাড়া অন্য কোথাও থেকে বিজয় আসে না।’ [সূরা আলে- ইমরান ১২৬]

মুমিনদেরকে ইয়াকীন রাখতে হবে যে বিজয়ের চাবিকাঠি সম্পূর্ণ রূপে আল¬াহ রাব্বুল আলামীনের হাতে। এই কথাটি মুমিনদের হৃদয়ে বদ্ধমূল করার জন্য আলোচ্য আয়াতের পরবর্তী আয়াতে আল¬াহ রাব্বুল আলামীন বলেন: যদি আল্লাহ তোমাদেরকে সাহায্য করেন তবে তোমাদের উপর বিজয়ী কেউ নেই। আর যদি তিনি তোমাদেরকে লাঞ্ছিত করেন তবে কে এমন আছে যে, তোমাদেরকে এর পরে সাহায্য করবে?। [সূরা আলে- ইমরান ১৬০]

মুমিনের  জয়-পরাজয়, সবই আল্লাহ তায়ালার হাতে। আল্ল¬াহ যদি সাহায্য করেন তবে তাদের উপর কেউ বিজয় লাভ করতে পারবে না।। আর যদি তিনি লাঞ্ছিত করেন। তবে কেউ সম্মান লাভ করতে পারবে না। জয়-পরাজয়, সবই আল¬øাহ তায়ালার হাতে। একজন মুমিনকে সর্বস্থায় একমাত্র আল্লাহর ওপর ভরসা করা ও সাহায্য চাওয়া উচিত। আল্ল¬াহ রাব্বুল আলামীন বলেন:  নিশ্চয় আল্লাহ মুমিনদের থেকে তাদের জান ও মাল ক্রয় করে নিয়েছেন (এর বিনিময়ে) যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। তারা আল্লাহর পথে প্রচেষ্টা চালায়। অতএব তারা মারে ও মরে। তাওরাত, ইঞ্জিল ও কুরআনে এ সম্পর্কে সত্য ওয়াদা রয়েছে। আর নিজ ওয়াদা পূরণে আল্ল¬াহর চেয়ে অধিক কে হতে পারে? সুতরাং তোমরা (আল্লাহর সংঙ্গে) যে সওদা করেছ, সে সওদার জন্য আনন্দিত হও এবং সেটাই মহাসাফল্য। [সূরা আত-তওবা:১১১] মহান আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন: আর মানুষের মধ্যে এমন লোকও আছে যে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিজকে বিকিয়ে দেয়। আর আল্লাহ (তার) বান্দাদের প্রতি ¯œহশীল।’ [সূরা আল-বাকারা: ১০৭]

তাকওয়াক্কুল অর্থ-নির্ভর করা বা ভরসা করা। পরিভাষায় সর্বস্থায় আল্লাহর ওপর ভরসা করাকে তাকওয়াক্কুল বলা হয়। একজন মুমিনকে সর্বস্থায় একমাত্র আল্লাহর ওপর ভরসা করা উচিত। আল্ল¬াহ রাব্বুল আলামীন বলেন: তুমি আল্ল¬াহর ওপর ভরসা কর। কার্যনির্বাহী রুপে আল¬øাহই যথেষ্ট।’ [সূরা আল-আহযাব: ৩] আল্ল¬াহ রাব্বুল আলামীন আরো বলেন:  হে আমাদের রব, আমরা তোমারই ওপর ভরসা করেছি, তোমারই দিকে মুখ করেছি এবং তোমারই নিকট আমাদের প্রত্যাবর্তন। [সূরা মুমতাহিনা: ৪] আল্ল¬াহ রাব্বুল আলামীন আরো বলেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে তার জন্যে তিনিই যথেষ্ট। আল্লাহ তার কাজ পূর্ণ করবেন। আল্লাহ সবকিছুর জন্য একটি পরিমাণ স্থির করে রেখেছেন। ’ [সূরা তালাক: ৩] আল্ল¬াহ রাব্বুল আলামীন আরো বলেন: নিশ্চয় আল্ল¬াহ তাওয়াক্কুলকারীদেরকে ভালবাসেন।’ (সূরা আলে-ইমরান: ১৫৯)

কর্মের মাধ্যমে আল্ল¬াহর উপর ভরসা প্রসঙ্গে রাসূলুল্ল¬াহ সা. বলেন:  হযরত আনাস রা. হতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি বলল, হে আল্ল¬াহর রাসূল! আমি কি উট বেঁধে রেখে আল¬øাহর ওপর ভরসা করব, না বন্ধনমুক্ত রেখে? তিনি বললেন, উট বেঁধে নাও, অত:পর আল¬øাহর ওপর ভরসা কর।’ [তিরমিযী] রাসূলুল্ল¬াহ সা. আরো বলেন:  উমর ইবনুল খাত্তাব রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্ল¬াহ সাল্লাল্ল¬াহু আলাইহি ওয়া সাল্ল¬ামকে বলতে শুনেছি, তোমরা যদি সত্যিকারভাবেই আল্ল¬াহর ওপর ভরসা কর তবে তিনি পাখিদের মতই তোমাদের রিযিকের ব্যবস্থা করবেন। ভোর বেলা পাখিরা খালি পেটে বেরিয়ে যায় এবং সন্ধ্যা বেলা ভরা পেটে ফিরে আসে।’ [তিরমিযী]

সমাপনী: সহকর্মী ও অনুগামীদের প্রতি রাসূল সা. এর ব্যবহার ও আচরণ ছিল অত্যান্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আল¬াহর অনুগ্রহ সিক্ত বা অনুগ্রহ প্রাপ্ত ব্যক্তির পক্ষেই অনুগামীদের প্রতি নম্র বা কোমল আচরণ করা সম্ভব, তাই রাসূলুল্ল¬াহ সাল্ল¬াল্ল¬াহু আলাইহি ওয়া সাল্ল¬াম এর অনূসরণে সহকর্মী ও অনুগামীদের ব্যাপারে আমাদের কঠোর চিত্ততা পরিহার করতে হবে। নেতৃত্ব বা দায়িত্বশীল ব্যক্তি যদি কঠোর চিত্ত ও রুক্ষভাষী হন, অনুগামীগণ তাঁকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে, তাই সহকর্মী ও অনুগামীদের প্রতি রুক্ষভাষী হওয়া যাবে না। নম্র আচরণ মানুষকে আকর্ষণ করে, পক্ষান্তরে রূঢ় আচরণ মানুষকে ভীতশ্রদ্ধ করে তোলে, তাই সহকর্মী ও অনুগামীদের সাথে নম্র আচরণ করতে হবে। সহকর্মীদের প্রতি ক্ষমাশীলতার নীতি অবলম্বন করতে হবে। সহকর্মী ও অনুগামীদের জন্য সর্বদা মাগফিরাতের দুয়া করতে হবে। লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য যতো বেশি সম্ভব মানব সম্পদ ও বস্তু সম্পদ সংগ্রহ করতে হবে, কিন্তু তাওয়াক্কুল করতে হবে একমাত্র আল¬াহর ওপর, কেননা জয়-পরাজয়, সবই আল¬øাহ তায়ালার হাতে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে অনুগামীদের প্রতি নম্র বা কোমল আচরণ করার এবং সহকর্মীদের সাথে পরামর্শ করে ইকামাতে দ্বীনের কাজ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

 

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, সাঁথিয়া মহিলা ডিগ্রি কলেজ, সাঁথিয়া, পাবনা, সহকারী সম্পাদক, মাসিক মহিমা, ঢাকা।

 

 

 

 

মন্তব্য করুন

ব্লগ