Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০৬:৫৩ পূর্বাহ্ণ

পুষ্টিবাড়ি: বসতবাড়িতেই পুষ্টির জোগান

ইউনিসেফের তথ্যমতে, অপুষ্টির কারণে বাংলাদেশে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ২৮ শতাংশ খর্বকায় এবং ১০ শতাংশ কৃশকায়তায় ভোগে। যেসব শিশু অপুষ্টিতে ভোগে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হয় এবং তাদের অন্যান্য রোগ সংক্রমণের ঝুঁকিও বেশি হয়ে থাকে। অপর্যাপ্ত সেবা ও বারবার সংক্রমণের প্রভাব, সেই সাথে শাক-সবজি, ফলমূল এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার যেমন ডিম, মাছ, মাংস এবং ডাল থেকে পর্যাপ্ত পুষ্টি না পাওয়ার কারণে অপুষ্টি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। এটি মানুষের স্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করার মাধ্যমে মানুষকে প্রতিবন্ধীত্বের দিকেও ঠেলে দিতে পারে। আর এমন পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান হতে পারে ‘পুষ্টিবাড়ি’। যেখানে মানুষ একইসঙ্গে নিজের জন্য এমনকি আশেপাশের মানুষদের জন্যও সরবরাহ করতে পারে পুষ্টি সমৃদ্ধ অর্গানিক খাবার।

‘পুষ্টিবাড়ি’ মূলত এমন একটি সমন্বিত চাষ পদ্ধতি, যেখানে আধুনিক কৃষি পদ্ধতি ব্যবহার করে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদন করা হয়। যা সারাবছর পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিতের পাশাপাশি বসতবাড়ির সীমিত জমি ব্যবহার করে পরিবারের আয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। এই মডেলটিতে যেসব আধুনিক চাষ পদ্ধতি রয়েছে তা হলো, বায়ো-ইনটেনসিভ হোমস্টেড গার্ডেনিং মডেলের মাধ্যমে সবজি চাষ, উন্নত পদ্ধতিতে পোলট্রি চাষ, ছোট পুকুরে বছরব্যাপী মাছ চাষ, পোকামাকড় রোগ নিয়ন্ত্রণে জৈব সার ও জৈব কীটনাশকের ব্যবহার। 


এই পদ্ধতিতে হোমস্টেড স্পেস প্ল্যানিংয়ের মাধ্যমে বসতবাড়ির ১১ ধরনের জায়গার পরিকল্পনা করা হয়ে থাকে। গ্রামের মধ্যবিত্ত থেকে নিম্ন আয়ের মানুষরা, যাদের এমনকি আলাদা কোনো চাষের জমি নেই তারাও নিজেদের উঠানেই করতে পারবেন সবজির চাষ। আবার একই জায়গায় সবজির পাশাপাশি হাঁস-মুরগী, মাছ, সবই চাষ করা যায়। পুষ্টি বাড়ি পদ্ধতিতে কেউ বাড়ির উঠানে বাঁশের মাচা করে যেমন বিভিন্ন শাক, সবজি, লাউ, শিমের চাষ করতে পারেন তেমনি বাঁশের মাচার নিচে বা পাশে করতে পারেন ছোট্ট পুকুর। একইসঙ্গে পুকুরের উপরে বা পাশে করতে পারেন হাঁস-মুরগীর খামার। ফলে অল্প পরিসরে প্রতিটি জায়গার উপযুক্ত ব্যবহারের মাধ্যমে সকলেই নিজেদের প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবারের যোগান নিজেরাই করতে পারেন। এই চাষ পদ্ধতিতে উৎপাদিত সবজি, ডিম, হাঁস-মুরগী নিজেরা খেয়ে বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয়ও করা সম্ভব।

মন্তব্য করুন