Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০৯:৫১ পূর্বাহ্ণ

শিশুদের স্বপ্নের স্কুল,স্বপ্নের সমাজ, স্বপ্নের গ্রাম, স্বপ্নের দেশ,শিশুর ইচ্ছেটা।

শিশুদের স্বপ্নের স্কুল,স্বপ্নের সমাজ, স্বপ্নের গ্রাম, স্বপ্নের দেশ,শিশুর ইচ্ছেটা।


গ্রাফিতি(দেয়াল চিত্র) কমনিকেশনের এক শক্তিশালী মাধ্যম।একটি ছোট্ট আকারের গ্রাফিতি লক্ষ লক্ষ মানুষের স্বপ্নের কথা কয়, একটি ভাষাহীন গ্রাফিতি লক্ষ মানুষকে একদিকে ধাবিত করতে পারে।বহু বছরের পুঞ্জিভূত কুসংস্কারকে মাত্র একটি গ্রাফিতি ধুয়েমুছে নতুন বার্তা দিতে পারে।সমাজের অনাচার, অন্যায়, অব্যবস্থাপনা  হতে মুক্ত করতে গ্রাফিতি কথা বলতে পারে।অনেকের ধারণা গ্রাফিতি শুধু তারুণ্যের কথা বলে।তবে এ কথা ঠিক যে তরুণরা যেভাবে স্বপ্ন দেখে স্বপ্নটা গ্রাফিতির মাধ্যমে প্রকাশ করে, অন্যরা সেভাবে পারে না।যারা খুব প্রফেশনাল আর্টিস্ট তাদের গ্রাফিতির ফিনিসিং, কালারের কম্বিনেশন, স্থান নির্বাচন ,মেসেজ অধিকাংশ ক্ষেত্রে সমৃদ্ধ হয়ে থাকে কিন্তু যে কোন ব্যক্তিই গ্রাফিতির মাধ্যমে তার চিন্তা, স্বপ্ন, কল্পনা, প্রত্যাশা, ইচ্ছার প্রকাশ করতে পারে।আর একটা কথা, গ্রাফিতি শুধু আন্দোলনের ভাষা না, বিপ্লবের ছবি না, অন্যায়ের প্রতিবাদ না, সমাজের যে কোন প্রয়োজন, চাহিদা,ব্যক্তি /সমাজ/রাষ্ট্রের প্রয়োজনও গ্রাফিতিতে তুলে ধরা যায়।


আমাদের স্কুলে সাধারণত বিভিন্ন শ্লোগান, বর্ণমালা,নামতা,ফুল,ফলের ছবি বা কিছু প্রাণীর ছবি দেয়ালে এঁকে স্কুল গৃহের দেয়াল ও শ্রেণিকক্ষ ডেকোরেশন করে থাকি।ইদানীং খুব লক্ষ্য করা যায় বিভিন্ন রংয়ের ফোয়ারায় স্কুলকে আকর্ষণীয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে।শিশুরা রঙিন জিনিসের প্রতি আকৃষ্ট হয়।তাই, এ ধরনের সাজগোছের প্রয়োজনকে অস্বীকার করা যাচ্ছে না।কিন্তু এই মাল্টিকালারের ব্যবহারে যদি এ ম ন কিছু চিত্রিত করা যায় যেটা শিশু মনকে আলোড়িত করে, শিশু মনে চিন্তার খোরাক যোগায়,যেমন একটা কাকের খুব পানির তেষ্টা পেয়েছে কিন্তু কলসিতে এমন পরিমান পানি আছে যে কাক টি পানির নাগাল পাচ্ছে না, তখন কাক কলসির মধ্যে পাথরের টুকরো ফেলায়ে পানির উচ্চতা বাড়ায়ে পানি নাগালের মধ্যে এনে খাচ্ছে।এ রকম চিত্র বা কার্টুন শিশুরা দেখে ছোট ছোট সমস্যা সমাধানে আগ্রহী হয়ে উঠতে পারে।আমাদের স্কুল ও স্কুল কেন্দ্রিক সমাজের নানাবিধ অনিয়ম, কুসংস্কার ,বদ্ধমূল প্রথা,দায়িত্বহীনতা লক্ষ্য করা যায়।অথবা এসব হতে মুক্ত হতে ব্যক্তি/সমাজের দায়বদ্ধতা আছে, তা বিভিন্ন গ্রাফিতির মাধ্যমে তুলে ধরে সংশ্লিষ্টদেরকে উদ্ধুদ্ধ বা দৃষ্টিতে আনা যায়।এ জন্য শিক্ষকগণ স্কুল এলাকার তরুণদের উৎসাহিত করে বা বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্ধুদ্ধ করে বিভিন্ন বিষয়ের উপর স্কুল গৃহের দেয়াল, টয়লেটের ভিতর-বাহিরের দেয়াল, বাউন্ডারির দেয়ালের ভিতর-বাহির , এমন কী স্কুল ক্যাচমেন্টের মধ্যে কোন দৃশ্যমান স্থানে বিভিন্ন গ্রাফিতি করতে পারেন।


  গ্রাফিতির আবেদন বা মেসেজ স্থায়ী নয়।যে মেসেজ দিয়ে ছবি করা হলো সেটা দু'দিন পরে মুছে তার চেয়ে ভালো চিত্রও করা যেতে পারে।তবে স্থান,কাল,সময়, চাহিদা ,কাস্টমার,প্রয়োজন ইত্যাদির দিকে নজর রেখে গ্রাফিতি করতে হয়, যেমন, আমাদের দেশে প্রচলিত কথা আছে না,গ্রীষ্মকালের ওয়াজ শীতকালে করলে ফল ভালো আসবে না।এজ ন্যে শিক্ষকগণ তাদের স্কুল এলাকার বিদ্যমান সমস্যাদির উপর গ্রাফিতি করতে উৎসাহিত করবেন।আবার টয়লেট থেকে এসে দু'হাত সাবান দিয়ে ধোয়ার গ্রাফিতি টয়লেটের ভিতরের দরজায় উত্তম বা খাল পায়ে টয়লেটে না এর গ্রাফিতি দরজার বাহিরে, ভিতরে না। এখন দেশের যে কোন প্রান্তে মোবাইল ব্যবহার বা ফেসবুক ব্যবহার মারাত্মক রোগ। এ বিষয়ে কী খারাপ পরিণতির উপর গ্রাফিতি বিদ্যালয়ের দেয়ালে, রাস্তার পার্শ্বে, এমন কী শিক্ষার্থীর রিডিংরুমের ভিতরের দরজায় গাফিতি করা যায়।এভাবে বাল্যবিবাহের কুফল,হাতধুয়ে না খাওয়ার কুফল, উন্মুক্ত স্থানের খাবারের রোগ ছড়ায়,দাঁতের যত্ন,পানিতে পড়ে শিশু মৃত্যু ,নিয়মিত স্কুলে আসার সুফল,নিজের কাজ নিজে করা,বিভিন্ন শিষ্টাচার , পড়া আগে টেলিভিশন দেখা পরে, রাস্তা পারাপার ইত্যাদির উপর গ্রাফিতি স্কুলকে শুধু কালার ফুল করবে না, শিক্ষার্থী ও তার অভিভাবক অনেক মেসেজ পেয়ে যাবে। শুধু তাই না, শিক্ষকরা যদি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয় দিয়ে গ্রাফিতির প্রতিযোগিতা করতে দেন, তখন দেখবেন এমন কিছু ওদের মস্তিষ্ক থেকে বের হবে যা আমাদেরকে বিস্মিত করবে।তাই আসুন, স্কুল গৃহ ও ক্যাচমেন্ট কে গ্রাফিতি দিয়ে সাজিয়ে তুলি যেখানে শুধু রঙের বাহার থাকবে না, থাকবে শিশুদের স্বপ্নের স্কুল,স্বপ্নের সমাজ, স্বপ্নের গ্রাম, স্বপ্নের দেশ।রং তুলিতে ভেসে উঠবে শিশুর বড় হওয়ার সুপ্ত ইচ্ছে।

মন্তব্য করুন