জীবজগতের অস্তিত্বে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখছে পানি। মানুষের জীবন ধারনের জন্য অক্সিজেনের পরই পানি দ্বিতীয় উপাদান। মানুষের রক্তে ও কোষে পানি অক্সিজেন ও অনান্য পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে থাকে। মানবদেহে ২৫ শতাংশ অক্সিজেন পানি থেকেই আসে। নিয়ম মেনে পানি পান করলে দেহের ওজন কমানো থেকে শুরু করে ক্যানসারের ঝুঁকি পর্যন্ত কমানো সম্ভব। পানির রাসায়নিক ও ভৌত বৈশিষ্ট্য এটিকে অন্যান্য তরলের চেয়ে বেশি পদার্থ দ্রবীভূত করতে সক্ষম। পৃথিবীর সকল প্রকার প্রাণী, গাছপালা, তরুলতা সবাই পানির ওপর নির্ভরশীল। পর্যাপ্ত ও নিরাপদ খাবার পানি মানবাধিকার ধারণার পূর্বশর্ত। পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে, আগামী দিনে বিশুদ্ধ পানির সরবরাহই হবে পৃথিবীর অন্যতম কঠিন চ্যালেঞ্জ। আমাদের পরিবেশগতভাবে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় পানির যথার্থ ব্যবহার এবং পরিচর্যাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিতে হবে।
পানি শুধু আমাদের তৃষ্ণাই মেটায় না, প্রতিদিন আমাদের যে পরিমাণ ক্যালরি খরচ হয় এর ৮০ ভাগই পূরণ করে দেয় পানি। সারাদিন আমরা যত ধরণের খাবার খাই, তার মধ্যে একমাত্র পানিই ক্যালরি, ফ্যাট, শর্করা ও চিনি মুক্ত থাকে। আমাদের জীবদেহ গঠনের একক কোষ-এর প্রোটোপ্লাজমের ৯০ শতাংশ পানি দিয়ে তৈরি। যদি কোনো কারণে দেহে পানির অভাব হয়, তাহলে এই প্রোটোপ্লাজমগুলো কুঁচকে যায় এবং নষ্ট হয়ে যায়। বিপাকীয় কাজগুলো ধীরে ধীরে বন্ধ হতে থাকে, জীব মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। দীর্ঘমেয়াদে পানির অপর্যাপ্ততা নানা জটিলতার সৃষ্টি করে। পর্যাপ্ত পানি পান না করলে স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এই কারণে পানিকে Fluids of lives বা পানির অপর নাম জীবন বলা হয়ে থাকে। তাপ সঞ্চালন, পৃষ্ঠের টান, উচ্চ ফুটন্ত, গলনাঙ্ক এবং আলোকে প্রবেশ করতে দেওয়ার ক্ষমতা পানির অন্যান্য বৈশিষ্ট্য। শক্তি উৎপাদনে পানির প্রয়োজন, আবার পানি সরবরাহের জন্য প্রয়োজন শক্তি। বর্তমানে পৃথিবীর ১৬ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয় পানি-প্রকল্প থেকে। এছাড়া ৮০ শতাংশ শক্তি উৎপন্ন হয় তাপ বিদ্যুৎ থেকে, যা পানি ছাড়া সম্ভব নয়।
১৭
২৭ মন্তব্য