সহকারী শিক্ষক
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০৩:১৮ অপরাহ্ণ
নক্ষত্রের জন্মস্থানের নয়নাভিরাম দৃশ্য
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা মঙ্গলবার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ দিয়ে তোলা মহাকাশের নতুন ছবি প্রকাশ করেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে চোখ জুড়ানো একটি ছবি। নাসা জানিয়েছে এটি সেই স্থানের ছবি যেখানে নক্ষত্র জন্মায়। পর্যায়ক্রমে আরও ছবি প্রকাশ করা হবে বলে নাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। নতুন জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ দিয়ে এসব ছবি তোলা হয়। ছবিগুলো ১৩শ’ ৫০ কোটি বছর আগের। এ যাবত এটাই মহাজগতের প্রাচীনতম অবস্থার সবচেয়ে বিস্তারিতভাবে তোলা চিত্র। এই ছবিতে নক্ষত্রপুঞ্জ ও ছায়াপথের যে আলোকরশ্মির বিচ্ছুরণ দেখা যাচ্ছে তা শ শ কোটি বছর পাড়ি দিয়ে আমাদের কাছে এসে পৌঁছেছে। খবর এএফপি ও বিবিসি অনলাইনের।হোয়াইট হাউজে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে এই ছবি দেখানো হয়। জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ দিয়ে তোলা আরও ছবি, যেগুলো আগে কখনও দেখা যায়নি, সেগুলো নাসা বিশ্বব্যাপী প্রকাশ অব্যাহত রাখবে। এক হাজার কোটি ডলার মূল্যের এই জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ উৎক্ষেপণ করা হয় গতবছর ২৫শে ডিসেম্বর। মহাকাশে সুপরিচিত হাবল টেলিস্কোপের জায়গা নিতে তৈরি করা হয় এই জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ। এই টেলিস্কোপ বা দূরবীক্ষণ যন্ত্র আকাশে অনেক কিছুই পর্যবেক্ষণ করবে। তবে এর প্রধান দুটি লক্ষ্য রয়েছে। একটি হল মহাকাশে ১৩৫০ কোটি বছর আগে একেবারে প্রথম জন্ম নেয়া তারাগুলোর আলোর বিচ্ছুরণ কীভাবে ঘটেছিল তার ছবি নেয়া। এবং দ্বিতীয়টি হল দূরের গ্রহগুলো মানুষের বাসযোগ্য কিনা সে বিষয়ে অনুসন্ধান করা। যেখানকার ছবিটি তোলা হয়েছে সেটি পৃথিবী থেকে ৭ হাজার ৬০০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত, এটি কারিনা নীহারিকা যা নক্ষত্র উদ্ভূত নার্সারি। এখানেই জন্মায় নক্ষত্র। কারিনা নীহারিকাটি আকাশের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জল এবং বড়। আর এ নীহারিকাটিতে রয়েছে এমন কিছু নক্ষত্র যেগুলো সূর্যের চেয়েও অনেক বড়।নাসার প্রকাশ করা অসম্ভব সুন্দর এ ছবিতে ‘বাচ্চা নক্ষত্র’-এর দেখা মিলেছে। নাসার মতে এর মাধ্যমে আমরা দেখতে পেয়েছি, নক্ষত্রগুলোর শুরুর এবং বেড়ে ওঠার সময়টি। নাসার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, টেলিস্কোপের মাধ্যমে তারা যেসব ছবি তুলেছে সেগুলোতে তারা রঙ যোগ করেছেন। কারণ ছবিগুলোতে এমনও আলো আছে যা খালি চোখে মানুষ দেখতে পারবে না।
১৪
২২ মন্তব্য