সহকারী শিক্ষক
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০৯:৪২ পূর্বাহ্ণ
ছায়াপথ কি? ছায়াপথ ও নীহারিকার পার্থক্য কি?
জ্যোতির্বিজ্ঞান কিংবা মহাকাশ নিয়ে যারা পর্যালোচনা করেন তাদের কাছে ছায়াপথ একটি অত্যন্ত আগ্রহের বিষয়। ছায়াপথ আসলে কী? এক কথায় বলতে চাইলে, ছায়াপথ হলো নক্ষত্র, ধূলিকণা, নক্ষত্রের অবশেষ, গ্যাসীয় বস্তু এবং বিভিন্ন আন্ত:নাক্ষত্রিক বস্তুর এক মহাসমাবেশ।
মহাবিশ্বে এত এত নক্ষত্র, উপাদান- এই সবকিছু যদি ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে তবে একে অপরের সাথে সংঘর্ষ করতে পারে যার ফলে পুরো বিশ্ব এক পর্যায়ে ক্ষয়প্রাপ্ত হতে থাকবে। এই ক্ষয় যেনো না হয় তাই নক্ষত্রগুলোকে একটি নির্দিষ্ট পথে ধারণ করে এই ছায়াপথ।
এই ছায়াপথকে খালি চোখেও দেখা যায়। অনেক সময়ই রাতের আকাশে হালকা একটা আলোর রেখা দেখা যায় যা অনেকটা দুধের মত রঙের। এই হালকা আলোর রেখাটিই হলো আমাদের ছায়াপথ। ছায়াপথে অসংখ্য তারার সমাহার থাকলেও সেগুলো আমাদের থেকে অনেক দূরে। তাই প্রতিটি তারা আলাদাভাবে দেখা সম্ভব নয়। একারণেই সবগুলো তারার আলো একসাথে এরকম আলোর রেখা সৃষ্টি করে। যার ফলস্বরূপ, আমরা আকাশে প্রতিটি নক্ষত্রকে আলাদাভাবে না দেখে একসাথে একটি রেখার মধ্যেই দেখতে পাই।
ছায়াপথ কিভাবে গঠিত হয়
ছায়াপথের গঠন নিয়ে অনেক রকম দ্বিধা-দ্বন্দ্ব তৈরি হতে দেখা যায়। কেননা সবচেয়ে শক্তিশালী টেলিস্কোপ দিয়েও এখনো অনেক ছায়াপথ স্পষ্টভাবে দেখা যায়নি। তবে ধারণা করা হয় মহাবিশ্ব সৃষ্টির প্রথম তিন মিনিটের মাঝে যে হাইড্রোজেন এবং হিলিয়াম মেঘ উৎপন্ন হয়েছে তা-ই ছায়াপথের আদি উপাদান।
এই হাইড্রোজের এবং হিলিয়াম মেঘের মধ্যে পরস্পরের বিক্রিয়া ঘটে। হাইড্রোজেন এক পর্যায়ের মাধ্যাকর্ষণ শক্তির কারণে সংকুচিত হতে থাকে এবং এর মধ্যে তাপমাত্রা ১০মিলিয়ন ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়ে যা হিলিয়ামে পরিণত হওয়ার পর ফিউশন বিক্রিয়ার মাধ্যমে এক একটি নক্ষত্রের সৃষ্টি করে।
এভাবেই একটি সুসজ্জিত ছায়াপথ গড়ে ওঠে। আর প্রতিটি ছায়াপথই তার নির্দিষ্ট ভরকেন্দ্র অনুযায়ী অর্থাৎ এর আশেপাশে আবর্তিত হতে থাকে। তবে এক্ষেত্রে বিক্রিয়ার তারতম্যের কারণে ছায়াপথের আকৃতিতে পরিবর্তন আসে। একারণেই আমরা সাধারণত তিন ধরণের ছায়াপথ দেখতে পাই-
- সর্পিলাকার
- উপবৃত্তাকার
- অনিয়তাকার
এখানে উল্লেখ্য যে সর্পিলাকার এবং উপবৃত্তাকার ছায়াপথই আমরা বেশি দেখতে পাই। আর অনিয়তাকার ছায়াপথ তাদের গঠনের এক পর্যায়ে অথবা কোনো দিকে বিস্তৃত বা বর্ধিত হয়ে সর্পিলাকার কিংবা উপবৃত্তাকার আকৃতি ধারণ করে। ছায়াপথ এবং গ্যালাক্সি একই কিনা এই প্রশ্নটি নিয়ে দ্বিধা অনেকেরই। কারণ এই দুটি বিষয় দিয়ে একই ধারার উপাদানই বোঝায়। তবে এর মাঝেও কিছুটা সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে যা সার্বিক আলোচনায় অনেক সময় বাদ দেওয়া হয়। কিন্তু ছায়াপথ এবং গ্যালাক্সিকে পুরোপুরি একই বলা যাবে না।
সংক্ষেপে বলতে হলে, ছায়াপথ হলো গ্যালাক্সির ক্ষুদ্রতম অংশ। বিষয়টি নিয়ে একটু বিষদ বিশ্লেষণ করা যাক। গ্যালাক্সি বলতে বোঝায় নক্ষত্র, ধূলিকণা, গ্রহ, উপগ্রহসহ মহাবিশ্বের বিভিন্ন উপাদানের সমাহার। বিলিয়ন বিলিয়ন নক্ষত্র একটি গ্যালাক্সিতে থাকতে পারে এবং এই সব মিলে একটি ক্লাস্টারের মত গঠিত হয়।
অন্যদিকে, ছায়াপথ হলো এমন একটি সিস্টেম যা বিভিন্ন নক্ষত্র এবং আন্ত:নাক্ষত্রিক উপাদানগুলোকে একটি সুসজ্জিত পথে ধারণ করে। কোটি কোটি নক্ষত্রগুলোকে তাদের নক্ষত্রমন্ডল নিয়ে সুর্নিদিষ্টভাবে আবর্তন করার প্রক্রিয়াকে ধারণ করে ছায়াপথ। তাই ছায়াপথ এবংএবং গ্যালাক্সি একই ধারার হলেও, সম্পূর্ণরূপে এক নয়।গ্যালাক্সি এবং ছায়াপথের মধ্যে যে ন্যুনতম একটি পার্থক্য রয়েছে তা আমরা ইতিমধ্যে জেনে ফেলেছি। তবে ছায়াপথের সাথে আরও একটি বিষয়ের দ্বন্দ্ব দেখা যায়, আর তা হলো নীহারিকা। অনেকেই মনে করেন হয়ত এই দুটো একই। তবে না, ছায়াপথ এবং নীহারিকা সম্পূর্ণ আলাদা।
নীহারিকা হলো প্রকৃতপক্ষে একটি আলোকিত অংশ বা অঞ্চল যেখানে ধূলো, গ্যাসসহ বিভিন্ন আন্ত:নাক্ষত্রিক পদার্থ থাকে। এই অঞ্চলগুলোতে বিভিন্ন উপাদান ক্রমান্বয়ে সঞ্চিত হতে থাকে এবং এই সঞ্চরণের এক পর্যায়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রের সৃষ্টি হয়। নক্ষত্র গঠনকারী উপাদানগুলো এই অঞ্চলগুলোতে থাকার কারণে এটি আলোকিত থাকে।
অন্যদিকে, ছায়াপথ সম্পর্কে তো আমরা ইতিমধ্যে জেনেই গেছি যে তা নক্ষত্র এবং এসকল পদার্থের সমাহার। এ থেকে বোঝা যায়, এই দুটো ধারণায় যথেষ্ট পার্থক্যরয়েছে। তাহলে কেনো এদের নিয়ে ভুল হয়?
বিশেষত, এর কারণ অস্পষ্টটা। নীহারিকা গুলো উজ্জ্বল বা আলোকিত হলেও তা পৃথিবী থেকে অনেক দূরে অবস্থিত। তারা আকারে অনেক বড় যা শত শত আলোকবর্ষ ব্যাস সম্বলিত। কিন্তু দূরত্বের কারণে এদের পৃথিবী থেকে খালি চোখে দেখা যায় না সচরাচর।
সবচেয়ে বড় নীহারিকা যার নাম, ওরিওন নেবুলা, এটিও পৃথিবী থেকে খালি চোখে অত্যন্ত ক্ষীণ দেখায়। আর ছায়াপথও অস্পষ্ট আলোর রেখার মত দেখা যায়। একারণেই খালি চোখে অনেকেই নীহারিকা এবং ছায়াপথ একই মনে করে ভুল করেন।
১৩
১৮ মন্তব্য