Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০৭:২১ পূর্বাহ্ণ

আমলকির উপকারিতা জেনে নিন।

আমলকী (বৈজ্ঞানিক নামPhyllanthus emblica) ফাইলান্থাসি পরিবারের ফাইলান্থুস গণের একপ্রকার ভেষজ ফল।[] সংস্কৃত ভাষায় এর নাম 'আমলক'। ইংরেজি নাম amla বা Indian gooseberry ,[][] Malacca treeemblic myrobalan ,[] বা emblic [][],myrobalan[] এরা রোমশ বিহীন বা রোমশ পর্ণমোচী বৃক্ষ।

220px-Amla1.JPGআমলকী

বর্ণনা

[সম্পাদনা]
250px-Phyllanthus_emblica_-_whole_and_cross_section.jpgআমলকী ফল ও আমলকীর ভিতরের অংশ।

আমলকী গাছ ৮ থেকে ১৮ মিটার উচ্চতা বিশিষ্ট হতে পারে, পাতা ঝরা প্রকৃতির। হালকা সবুজ পাতা, যৌগিক পত্রের পত্রক ছোট, ১/২ ইঞ্চি লম্বা হয়। হালকা সবুজ স্ত্রী ও পুরুষফুল একই গাছে ধরে। ফল হালকা সবুজ বা হলুদ ও গোলাকৃতি ব্যাস ১/২ ইঞ্চির কম বেশি হয়। কাঠ অনুজ্জ্বল লাল বা বাদামি লাল। বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলে ই দেখা যায়। গাছ ৪/৫ বছর বয়সে ফল দেয়। আগস্ট - নভেম্বর পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়। বীজ দিয়ে আমলকীর বংশবিস্তার হয়। বর্ষাকালে চারা লাগানোর উপযুক্ত সময়।

বিস্তার

[সম্পাদনা]

আমলকী গাছ প্রায় সারাদেশে দেখা যেতে পারে। এটি প্রধানত বাংলাদেশশ্রীলংকাথাইল্যান্ডভারতপাকিস্তানসিরিয়া ইত্যাদি দেশে চাষ করা হয়। প্রাকৃতিক পরিবেশে অনেক স্থানেই এই গাছগুলি জন্মাতে দেখা যেতে পারে। পার্ক, উদ্যান, বাগান, প্রাকৃতিক অরণ্য ইত্যাদি স্থানে এই গাছগুলি চারা দেওয়া হয়। ফলে পার্ক, উদ্যান, বাগান গুলোতেও আমলকী গাছ পার্কের শোভা বৃদ্ধিতে দেখা যায়।

চিকিৎসা-গবেষণা

[সম্পাদনা]

আমলকী নিয়ে প্রাথমিক গবেষণা সম্পন্ন হয়েছে। এতে দেখা গেছে যে, এটি ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে পারে। [] প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, রিউমেটয়েড আর্থ্রাইটিস এবং অস্টিওপোরোসিস রোগে আমলকির রস কিছু কাজ করে।[] কয়েক ধরনের ক্যান্সারের বিরুদ্ধেও এর কার্যকারিতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। [] প্যানক্রিয়াটাইটিস রোগেও আমলকি কার্যকর বলে ইঁদুরের উপর চালিত গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে। প্যানক্রিয়াটাইটিস রোগের পরে ক্ষতিগ্রস্ত প্যানক্রিয়াস (অগ্ন্যাশয়) -এর ক্ষত সারাতে আমলকী কার্যকর। [] আমলকীর ফল, পাতা ও ছাল থেকে তৈরি পরীক্ষামূলক ওষুধে কিছু রোগ নিরাময়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে যেমন- ডায়াবেটিসক্যান্সারপ্রদাহ এবং কিডনি-রোগ। [১০][১১][১২] আমলকি মানুষের রক্তের কোলেস্টেরল-মাত্রা হ্রাস করতে পারে বলে প্রমাণ রয়েছে [১৩]

ডায়াবেটিক ইঁদুরের উপর চালানো এক গবেষণায় দেখা গেছে, আমলকির রস রক্তের চিনির মাত্রা কমাতে পারে এবং লিভারের কর্মক্ষমতা পুনরোদ্ধারে সাহায্য করতে পারে। [১৪] আমলকীতে প্রচুর ভিটামিন-সি বা এস্করবিক এসিড থাকে (৪৪৫ মিগ্রা/১০০ গ্রাম) [১৫]। তা সত্ত্বেও আরো অন্যান্য উপাদান নিয়ে মতভেদ আছে এবং আমলকির 'এন্টি-অক্সিডেন্ট'রূপে কার্যকারিতার পেছনে মূল ভূমিকা ভিটামিন-সি এর নয়, বরং 'এলাজিটানিন' নামক পদার্থসমূহের বলে মনে করা হয়। [১৬] যেমন এমব্লিকানিন-এ (৩৭%), এমব্লিকানিন-বি (৩৩%), পানিগ্লুকোনিন (১২%) এবং পেডাংকুলাগিন (১৪%).[১৭] এতে আরো আছে পানিক্যাফোলিন, ফিলানেমব্লিনিন-এ, বি, সি, ডি, ই এবং এফ। [১৮] এই ফলে অন্যান্য 'পলিফেনল'ও থাকে। যেমন- ফ্ল্যাভোনয়েড, কেমফেরল, এলাজিক এসিড ও গ্যালিক এসিড। [১৬][১৯]

মন্তব্য করুন