Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০১:১৬ অপরাহ্ণ

জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশে বৃদ্ধি পেয়েছে নানা রকম প্রাকৃতিক দুর্যোগ

জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশে বৃদ্ধি পেয়েছে নানা রকম প্রাকৃতিক দুর্যোগ। তন্মধ্যে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস, বন্যা, নদীভাঙন এবং ভূমিধ্বসের মাত্রাবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য। আগে ১৫ কিংবা ২০ বছর পরপর বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলেও বর্তমানে ২ থেকে ৩ বছর পরপরই বড় ধরনের দুর্যোগ হানা দিচ্ছে৷[৩০] এমনকি, ব্রিটিশ গবেষণা সংস্থা ম্যাপলক্র্যাফ্‌ট-এর তালিকায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ ১৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সবার আগে।[২৯] আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা জার্মান ওয়াচ-এর প্রতিবেদন (২০১০) অনুযায়ী ১৯৯০ থেকে ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বাংলাদেশে বড় ধরনের প্রায় ২৫৪টি দুর্যোগ আঘাত হেনেছে।

স্থলভাগে ঘুর্ণিবায়ু বা ঘূর্ণিঝড় বা টর্নেডোর আঘাত এখন প্রায় নৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। অকষ্মাৎ ঘুর্ণিবায়ু আঘাত হানে দেশের বিভিন্ন জায়গায়।[ক] বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত তালিকায় ঝড়ের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ১২টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয় (২য়)।[] ২০১০ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ মার্চ কুড়িগ্রামের রৌমারি উপজেলার সোনাপুর চরে মাত্র ১ মিনিট স্থায়ী একটি শক্তিশালী টর্নেডো ৪০টি ঘর উড়িয়ে নিয়ে ব্রহ্মপুত্রে ফেলে।[৩১] এছাড়া সমুদ্রস্তরের উচ্চতাবৃদ্ধি এবং উপকূলে লবণাক্ততা বাড়ায় সূর্যের তাপে তুলনামূলক ঘন লোনাপানি বেশি তাপ শোষণ করে গরম হয়ে উঠে এবং অতিবেগুনী রশ্মি বিকিরণ করে স্বাভাবিক তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফলে লবণাক্ততা-আক্রান্ত উপকূলাঞ্চল তুলনামূলক গরম হয়ে উঠছে দিনে দিনে। গাছ কম থাকার কারণে এবং পানি দীর্ঘক্ষণ তাপ ধরে রাখায় এই গরম স্থায়িত্ব পায়। এধরনের সীমিত অঞ্চলভিত্তিক আবহাওয়াগত পরিবর্তন আঞ্চলিক টর্নেডো ডেকে আনছে।[১৭]

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (UNDP) ‘দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসকরণ’ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনে অন্যান্য ঝুঁকির সঙ্গে ঘূর্ণিঝড় সংক্রান্ত ঝুঁকির ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশকে শীর্ষে দেখানো হয়েছে। গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড়ে বাংলাদেশে বছরে প্রতি লাখে প্রায় ৩৩ জন মারা যাচ্ছে।[]


মন্তব্য করুন