Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০২:১১ অপরাহ্ণ

একজন শিক্ষার্থীর জীবনে এক্সট্রা কারিকুলার কেন জরুরি

একজন শিক্ষার্থীর জীবনে এক্সট্রা কারিকুলার কেন জরুরি।


কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি: 

এটি এক্সট্রা কারিকুলারের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক। যখন শিক্ষার্থীরা সিলেবাসের বাইরেও অন্যান্য নানা কাজে নিজেদের যুক্ত করে, তখন ওইসব কাজে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। আর কে না জানে যে, আজকের দিনে দক্ষতার কোনো বিকল্প নেই। যে যত বেশি দক্ষ, তার জীবনে ‘কিছু করে খাওয়ার’ সম্ভাবনা তত বেশি! তাই শিক্ষাজীবন শেষে দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য উঠেপড়ে লাগার চেয়ে, শৈশব থেকেই দক্ষতা বৃদ্ধির চর্চা চালানো ঢের বেশি বুদ্ধিমানের কাজ। 

সৃজনশীলতা বৃদ্ধি: শিক্ষার্থীরা সিলেবাস অনুযায়ী পাঠ্যপুস্তকের যেসব বিষয়বস্তু শেখে, সেগুলোর গুরুত্ব অনস্বীকার্য। কিন্তু তারপরও, দিনশেষে সেগুলো কিন্তু বিবেচিত হয় ‘পুঁথিগত বিদ্যা’ হিসেবেই। সেই বিদ্যা নির্দিষ্ট বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক ধারণাটুকু দিতে পারে শুধু। সেই ধারণাকে বাস্তবে কাজে লাগানোর জন্য তাদের প্রয়োজন নিজস্ব সৃজনশীলতা। সেই সৃজনশীলতার চর্চাই তারা করতে পারে এক্সট্রা কারিকুলারের মাধ্যমে। আর একজন শিক্ষার্থীর সৃজনশীলতার ধরন থেকেও আঁচ করা যায়, জীবনে কোনো খাতে কাজ করলে সে সর্বোচ্চ সফলতা অর্জন করতে পারবে।

মানসিক বিকাশ: শুধু পড়াশোনা করলেই শিশুর মানসিক বিকাশ হয় না। ছোটবেলা থেকেই যদি তাকে শুধু পড়াশোনা করতেই চাপ প্রয়োগ করা হয়, তাহলে তা তার মনের উপর অনেক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। যেহেতু সবসময় পড়াশোনা করা কোনো আনন্দময় অভিজ্ঞতা নয়, বরং খুবই বিরক্তিকর, তাই ক্রমাগত এই বিরক্তির উদ্রেক ঘটতে ঘটতে একসময় শিশু জীবনের উপরই বীতশ্রুদ্ধ হয়ে উঠতে পারে। যে বয়সটায় তার মন হওয়ার কথা রঙিন ও স্বপ্নময়, সেই বয়সেই যদি জীবনের প্রতি তার বিবমিষা সৃষ্টি হয়, তবে সেজন্য তাকে সারাজীবন ভুগতে হবে।

অভিজ্ঞতা লাভ: যেকোনো কাজ করা মানেই হলো অভিজ্ঞতা লাভ। অভিজ্ঞতা জীবনের একটি অতি-গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। ধরুন, একটি শিশু টেলিভিশনে ক্রিকেট খেলা দেখল এবং তার উর্বর মস্তিষ্ক খুব সহজেই ক্রিকেট খেলার যাবতীয় কলা-কৌশল আয়ত্ত করে ফেলল। কিন্তু তাহলেই কি বলা যাবে যে সে ক্রিকেট খেলায় দক্ষ? মোটেই না। কোনো কাজ কীভাবে করতে হয় তা জানা এক জিনিস, আর নিজে সেটি করে দেখানো অন্য জিনিস। শিশুটি তখনই ক্রিকেট খেলা প্রকৃত অর্থে শিখতে পেরেছে বলে দাবি করা যাবে, যখন সে নিজে মাঠে গিয়ে ব্যাট ধরবে, বল হাতে দৌড়াবে, ঝাঁপিয়ে পড়বে অন্যের চার-ছয় আটকাতে। কারণ তখন তার নিজের অভিজ্ঞতা হবে খেলাটির ব্যাপারে।

সামাজিকীকরণ: একটি শিশুর কেবল পাঠ্যপুস্তকের জগতে ডুবে থাকলেই চলে না। তাকে সামাজিকও হতে হয়। আর সেই সামাজিকীকরণ ত্বরান্বিত হয় শিশুর এক্সট্রা কারিকুলারের মাধ্যমে। কেননা তখন সে আর শ্রেণিকক্ষের গণ্ডিতে আবদ্ধ থাকে না। বিভিন্ন কাজ করার মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে বাইরের দুনিয়ার সাথেও সে পরিচিত হয়, নানাজনের সাথে আলাপ-পরিচয় হয়, একই ধরনের শখ বা ভালোলাগা থাকায় পারস্পরিক বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে, সমাজের দশজনের সাথে ওঠা-বসার আত্মবিশ্বাস গড়ে ওঠে।

দলবদ্ধ কাজের শিক্ষা: সামাজিকীকরণের পথ ধরেই আসে দলীয় কাজের শিক্ষা। পড়াশোনা করাটা মূলত ব্যক্তিগত কাজ, যেহেতু অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই এখনো দলগত শিক্ষাকে গুরুত্ব দেয় না। ফলে শুধু পড়াশোনা করেই শিক্ষার্থীদের দলীয় কাজের অভিজ্ঞতা হয় না। অথচ বাস্তব জীবনে চলার পথে তো তাদেরকে অনেকে মিলে দলবদ্ধ হয়েই কাজ করতে হয়। সেখানে কেউ নেতৃত্ব দেয়, কেউ বা আবার নেতার অধীনে শৃঙ্খলিত ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে কাজ করে। এই যে নেতৃত্বের গুণাবলি কিংবা নিয়মশৃঙ্খলা মেনে চলার শিক্ষা, তা অর্জন করা যায় এক্সট্রা কারিকুলারের মাধ্যমেই।

সময়ের সদ্ব্যবহার: অনেক অভিভাবকই মনে করেন, পড়াশোনার বাইরে অন্য কিছু করা বোধহয় সময় নষ্ট। তা কিন্তু খুবই ভুল। বরং একটি শিশু যদি সারাদিন পড়াশোনা নিয়েই ব্যস্ত থাকে, তবে আদতে সে খুব বেশি কাজ করছে না। সারাদিনে ২৪ ঘণ্টা সময় হলেও, সেই সময়ের সবটা খাওয়া-ঘুমসহ অন্যান্য আবশ্যক কাজের বাইরে ব্যয় হচ্ছে কেবল পড়াশোনাতেই। অথচ এক্সট্রা কারিকুলারে শিশুকে উৎসাহিত করা হলে, তার জীবনের সোনালী সময়গুলোর যথাযথ সদ্ব্যবহার করা যাবে। তাছাড়া তার মধ্যে সময় ব্যবস্থাপনার গুণাবলিও বিকশিত হবে। অর্থাৎ সে বুঝতে পারবে, কোন কাজের পেছনে কতটা সময় খরচ করা দরকার।

আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি: পরীক্ষার খাতায় শিক্ষার্থীরা যা লিখে, তার বেশিরভাগই কিন্তু ধার করা বিদ্যা। অর্থাৎ সেখানে তার শুধু বোঝা বা মুখস্ত করার কৃতিত্বটুকু আছে, কিন্তু নিজে কিছু করার তৃপ্তি নেই। আর এই তৃপ্তিহীনতার ফলে তার মনে আত্মবিশ্বাসহীনতাও জন্মাতে পারে যে তার পক্ষে হয়তো নিজে নিজে কিছু করা সম্ভব না। এর ফলে বাস্তব জীবনের যেকোনো কাজকে সে ভয়ও পেতে পারে, দোনোমনা করতে পারে, অনেক ক্ষেত্রে একদম দূরে সরেও থাকতে পারে। এভাবে তার মনে বিভিন্ন ধরনের এপ্রিহেনশন বা ভীতি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে, যা বাকি জীবনভর তাকে তাড়া করে বেড়াবে। অথচ এক্সট্রা কারিকুলার খুব সহজেই তার মন থেকে এ ধরনের ভয়-ভীতিকে সমূলে উৎপাটিত করে, তাকে করে তুলতে পারে আত্মবিশ্বাসী।

সংগৃহীত 

মন্তব্য করুন