সিনিয়র শিক্ষক
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ১০:৩৮ অপরাহ্ণ
দূর্জন বিদ্ব্যান হলেও পরিত্যাজ্য
দুর্জন বিদ্বান হইলেও পরিত্যাজ্য”
আপনি যতোই জ্ঞানী হোন, সামাজিক মর্যাদার হোন, আপনার ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে যখন আমি সুস্পষ্ট অবগত, আমি কখনই আপনাকে ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন মনে করবো না, বা আপনার সফলতায় অভিনন্দন ও জানাবো না, সে আপনি যদি অস্কার পান তবেও, এটাকে যদি আমার ক্ষুদ্র মানুসিকতা মনে হয়, তবে আমি ক্ষুদ্রই থাকতে চাই। ঐ আপনাদের মতো মুখে এক অন্তরে আর এক দু'মুখো চরিত্র আমি পুষতে পারি না। আর হ্যাঁ কি বললেন স্মার্টনেস????
স্মার্ট হলেও আমি আমেনা ফাহিম, স্মার্ট না হলেও আমি আমেনা ফাহিম। স্মার্টনেস আমার কর্মে এবং আমার ব্যক্তিত্বে, পোশাকে নয়। আমাকে ব্যক্তিত্ব বিসর্জন দিয়ে স্মার্ট হতে হয়নি, কোনো সফলতা অর্জন করতে হয়নি, যতটুকু যোগ্যতা অর্জন করেছি, সম্মান অর্জন করেছি, আমি তার থেকেও অনেক বেশি কাজ করি, প্রচার করি কম। আমার কাজে আমি ভীষণ ডেডিকেটেড সে আমি যে কাজই করি।
বহু বড় বড় সেলিব্রিটিদের সাথে, জ্ঞানী মানুষদের সাথে কাজ করে তারপর শিক্ষকতা পেশায় আসছি, স্মার্ট কাকে বলে আমি শিখিয়েছি বহুজনকে, ঐ বিনয়ী স্বভাব এর কারণে নিজের চর্চা নিজে কখনও করিনা, আবার পরিবেশ অনুয়ায়ী কখনও কখনও ঐ স্মার্ট না হয়ে সাধারণ এর সাথে মিশে চলি, সব জায়গায় স্মার্ট থাকতে হবে আমি তা একদমই মনে করি না, এটাই মনে হয় ব্যর্থতা। পরিবেশ এবং সময় দুটোই ভারসাম্য রেখে চলি। জীবন যেখানে যেমন, আমি তো কুঁড়েঘরে শৈল্পিকতা খুঁজি, আমাকে অট্টালিকার অহমিকা দেখাবেন না, সে বড্ড নিছক তুচ্ছ আমার কাছে।
এখন দেখছি সবসময় যাঁরা নিজের প্রশংসা নিজেরা করতে জানে তাঁরাই সফল। হুটহাট অন্যকে ছোট করার উদ্দেশ্য দু'চারটা কথা শোনাতে পারাটাকেও আজকাল মানুষ নিজের যোগ্যতা মনে করে। এতে যে নিজেকে ছোট করা হয় সেটা অনুধাবন করার মানুসিকতাই তাঁদের নেই। নিজেকে বড় করে উপস্থাপন করেন ভালো কথা, কিন্তু নিজেকে বড় করতে গিয়ে কেনো অন্যকে ছোট করে উপস্থাপন করতে হবে? বরং অন্যের কাজের প্রশংসা করে নিজেকে বড় করার চেষ্টা করুন। পৃথিবীতে নিজেকে গ্রহনযোগ্য করে তুলতে হলে আগে নিজের সমালোচনা করতে জানতে হয়, অন্যের কাজেরও প্রশংসা করতে জানতে হয়। কবিরা তো আর এমনি এমনি বলেনি, নিজে যাকে বড় বলে বড় সে নয়।
আপনাদের কৌতুহল এর জন্য আমাকেও আজ নিজের আত্মপ্রশংসা করতেই হলো। যেটা আমি একদমই পছন্দ করি না।
একজন শিক্ষক হওয়ার বহু আগেই নিজের পরিচয় তৈরি করতে পেরেছি একজন লেখক হিসেবে এবং একজন শিক্ষক হয়েও এতো অল্প সময়ে আমার অর্জন আলহামদুলিল্লাহ আমি মনে করি আকাশ ছোঁয়া। আমার যোগ্যতা আমার অর্জন সম্পর্কে আমি গর্বিত। আমি আমার জীবনের প্রতিটা কাজে সফলতা দেখাতে পেরেছি। শিক্ষকতা পেশার আগে সফটওয়্যার কম্পানিতে একজন কন্টেন্ট ডেভলপার ছিলাম, সেখানেও আলহামদুলিল্লাহ সফলতা প্রমান করেছি। আজও আমার কন্টেন্টগুলো অফিসের ওয়েবসাইটে আছে। মানুষ স্মার্ট হয় তার সৎ কর্মে, জ্ঞান ও দক্ষতায়।
তাই ঐ যে প্রথমেই বললাম, আমি আমেনা ফাহিম আমার কর্ম দক্ষতায় স্মার্ট, পোশাকে বা চেহারায় স্মার্ট থাকা আমার কাছে জরুরি না। যেখানে যতটুকু স্মার্ট থাকা দরকার ততটুকু থাকাটাই যথেষ্ট মনে করি এবং স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। আমি কবিসত্তা লালন করি, কবিদের অতো স্মার্ট থাকতে নেই, কবিরা প্রকৃতির মতো অগোছালো, পরিবর্তনশীল আবার ভয়ানক সুন্দরও।
৪
৪ মন্তব্য