Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০৭:৩৮ পূর্বাহ্ণ

আর যারা ঈমান আনে এবং তাদের সন্তান-সন্ততি ঈমানের সাথে তাদের অনুসরণ করে, আমরা তাদের সাথে তাদের সন্তানদের মিলন ঘটাব এবং তাদের কর্মের কোন অংশই কমাব না।.. আয়াতঃ২১

 

আর যারা ঈমান আনে এবং তাদের সন্তান-সন্ততি ঈমানের সাথে তাদের অনুসরণ করে, আমরা তাদের সাথে তাদের সন্তানদের মিলন ঘটাব এবং তাদের কর্মের কোন অংশই কমাব না।..  আয়াতঃ২১

সূরাঃ  আত-তূর   আয়াতঃ১৪-২৮   মাক্কী

১৪ هٰذِهِ النَّارُ الَّتِیۡ كُنۡتُمۡ بِهَا تُكَذِّبُوۡنَ

এটি সেই জাহান্নাম যা তোমরা অস্বীকার করতে।’ আল-বায়ান

(বলা হবে) এটা হল জাহান্নামের সেই আগুন তোমরা যাকে মিথ্যে জানতে। তাইসিরুল

(বলা হবে) এটাই সেই আগুন যাকে তোমরা মিথ্যা মনে করতে। মুজিবুর রহমান

"This is the Fire which you used to deny. Sahih International

১৪. এটাই সে আগুন যাকে তোমরা মিথ্যা মনে করতে।

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৪) এটাই সেই আগুন, যাকে তোমরা মিথ্যা মনে করতে। [1]

[1] এ কথা জাহান্নামে নিযুক্ত (যাবানিয়া) ফিরিশতা তাদেরকে বলবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

১৫ اَفَسِحۡرٌ هٰذَاۤ اَمۡ اَنۡتُمۡ لَا تُبۡصِرُوۡن

এটি কি যাদু, নাকি তোমরা দেখতে পাচ্ছ না!’ আল-বায়ান

এটা কি যাদু, নাকি তোমরা দেখতে পাচ্ছ না? তাইসিরুল

এটা কি যাদু? না কি তোমরা দেখছনা? মুজিবুর রহমান

Then is this magic, or do you not see? Sahih International

১৫. এটা কি তবে জাদু? না কি তোমরা দেখতে পাচ্ছ না।(১)

(১) অর্থাৎ দুনিয়াতে রাসূল যখন তোমাদেরকে এ জাহান্নামের আযাব সম্পর্কে সাবধান করতেন তখন তোমরা তো বিশ্বাস করতে না, এখন বলো তোমাদের সামনে বিদ্যমান এ জাহান্নাম কি সেই জাদুর খেলা, নাকি এখনো বুঝে উঠতে পারনি, যে জাহান্নামের খবর তোমাদের দেয়া হতো তোমরা সে জাহান্নামের মুখোমুখি হয়েছে? [দেখুন: ফাতহুল কাদীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৫) এটা কি যাদু? [1] নাকি তোমরা চোখে দেখছ না? [2]

[1] যেভাবে, তোমরা দুনিয়াতে নবী ও রসূলদেরকে যাদুকর বলতে। এখন বল, এটাও কি কোন যাদুর কারসাজি?

 

[2] নাকি পৃথিবীতে যেমন তোমরা সত্যদর্শনে অন্ধ ছিলে, তেমনি এই শাস্তিও তোমরা দেখতে পাও না? এটা কেবল তাদেরকে ভৎর্সনা ও ধমক স্বরূপ বলা হবে। অন্যথা প্রতিটি জিনিস তাদের চোখের সামনে এসে যাবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

:১৬ اِصۡلَوۡهَا فَاصۡبِرُوۡۤا اَوۡ لَا تَصۡبِرُوۡا ۚ سَوَآءٌ عَلَیۡكُمۡ ؕ اِنَّمَا تُجۡزَوۡنَ مَا كُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ

তোমরা আগুনে প্রবেশ কর*, তারপর তোমরা ধৈর্যধারণ কর বা না কর, উভয়ই তোমাদের জন্য সমান; তোমাদেরকে তো কেবল তোমাদের আমলের প্রতিফল দেয়া হচ্ছে। আল-বায়ান

এখন এর ভিতর জ্বলতে থাক, অতঃপর ধৈর্য ধর কিংবা ধৈর্য না ধর, তোমাদের জন্য দুই-ই সমান। তোমাদেরকে সেই প্রতিফলই দেয়া হবে যা তোমরা ‘আমাল করতে। তাইসিরুল

তোমরা এতে প্রবেশ কর, অতঃপর তোমরা ধৈর্য ধারণ কর অথবা না করা উভয়ই তোমাদের জন্য সমান। তোমরা যা করতে তোমাদেরকে তারই প্রতিফল দেয়া হচ্ছে। মুজিবুর রহমান

[Enter to] burn therein; then be patient or impatient - it is all the same for you. You are only being recompensed [for] what you used to do." Sahih International

* অন্য তাফসীর মতে- ‘‘তোমরা এর উত্তাপ ভোগ কর’’।

১৬. তোমরা এতে দগ্ধ হও, অতঃপর তোমরা ধৈর্য ধারণ করা অথবা ধৈর্য ধারণ না কর, উভয়ই তোমাদের জন্য সমান। তোমরা যা করতে তারই প্রতিফল তোমাদেরকে দেয়া হচ্ছে।

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৬) তোমরা এতে প্রবেশ কর, অতঃপর তোমরা ধৈর্যধারণ কর অথবা না কর উভয়ই তোমাদের জন্য সমান। তোমরা যা করতে তোমাদেরকে কেবল তারই প্রতিফল দেওয়া হবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

১৭ اِنَّ الۡمُتَّقِیۡنَ فِیۡ جَنّٰتٍ وَّ نَعِیۡمٍ

নিশ্চয় মুত্তাকীরা (থাকবে) জান্নাতে ও প্রাচুর্যে। আল-বায়ান

মুত্তাক্বীরা থাকবে জান্নাতে আর নি‘মাত সম্ভারের মাঝে, তাইসিরুল

মুত্তাকীরা থাকবে জান্নাতে ও ভোগ করবে বিলাস। মুজিবুর রহমান

Indeed, the righteous will be in gardens and pleasure, Sahih International

১৭. নিশ্চয় মুত্তাকীরা থাকবে জান্নাতে ও আরাম-আয়েশে,

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৭) আল্লাহভীরুরা থাকবে জান্নাতে ও ভোগ-বিলাসে। [1]

[1] এখানে কাফের ও দুর্ভাগ্যবান লোকদের কথা আলোচনার পর ঈমানদার ও সৌভাগ্যবানদের আলোচনা করা হচ্ছে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

:১৮ فٰكِهِیۡنَ بِمَاۤ اٰتٰهُمۡ رَبُّهُمۡ ۚ وَ وَقٰهُمۡ رَبُّهُمۡ عَذَابَ الۡجَحِیۡمِ

তাদের রব তাদেরকে যা দিয়েছেন তা উপভোগ করবে, আর তাদের রব তাদেরকে বাঁচাবেন জ্বলন্ত আগুনের আযাব থেকে। আল-বায়ান

তারা ভোগ করবে তাদের প্রতিপালক যা তাদেরকে দিবেন, আর তাদের প্রতিপালক তাদেরকে জাহান্নামের ‘আযাব থেকে রক্ষা করবেন। তাইসিরুল

তাদের রাব্ব তাদেরকে যা দিবেন তারা তা উপভোগ করবে এবং তিনি তাদেরকে রক্ষা করবেন জাহান্নামের শাস্তি হতে। মুজিবুর রহমান

Enjoying what their Lord has given them, and their Lord protected them from the punishment of Hellfire. Sahih International

১৮. তাদের রব তাদেরকে যা দিয়েছেন তারা তা উপভোগ করবে এবং তাদের রব তাদেরকে রক্ষা করেছেন জলন্ত আগুনের শাস্তি থেকে,

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৮) তাদের প্রতিপালক তাদেরকে যা দেবেন, তারা তা সানন্দে উপভোগ করবে[1] এবং তিনি তাদেরকে রক্ষা করবেন জাহান্নামের শাস্তি হতে।

[1] অর্থাৎ, জান্নাতের প্রাসাদ, পোশাক-পরিচ্ছদ, পানাহার, বাহন, সুন্দরী রূপসী স্ত্রীগণ (হুরে ঈন) এবং অন্যান্য আরো অনেক নিয়ামত লাভ করে তারা বড়ই আনন্দিত হবে। কারণ, এ নিয়ামতগুলো দুনিয়ার নিয়ামতের তুলনায় বহুগুণ শ্রেয় হবে এবং তা হবে, مَا لَا عَيْنٌ رَأَتْ وَلَا أُذُنٌ سَمِعَتْ وَلَا خَطَرَ عَلَى قَلْبِ بَشَر এর বাস্তব প্রমাণ। অর্থাৎ, তা হবে অতুলনীয়, বর্ণনাতীত ও কল্পনাতীত।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

:১৯ كُلُوۡا وَ اشۡرَبُوۡا هَنِیۡٓـًٔۢا بِمَا كُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ

তোমরা তৃপ্তি সহকারে খাও ও পান কর, তোমরা যে আমল করতে তার বিনিময়ে। আল-বায়ান

(তাদেরকে বলা হবে) খাও আর পান কর খুব মজা করে- তোমরা যে ‘আমাল করতে তার প্রতিফল হিসেবে। তাইসিরুল

তোমরা যা করতে তার প্রতিফল স্বরূপ তোমরা তৃপ্তির সাথে পানাহার করতে থাক। মুজিবুর রহমান

[They will be told], "Eat and drink in satisfaction for what you used to do." Sahih International

১৯. তোমরা যা করতে তার প্রতিফল স্বরূপ তোমরা তৃপ্তির সাথে পানাহার করতে থাক।(১)

(১) এখানে “তৃপ্তির সাথে” বা মজা করে কথাটি অত্যন্ত ব্যাপক অৰ্থ বহন করে। মানুষ জান্নাত যে লাভ করবে কোন প্রকার কষ্ট বা পরিশ্রম ছাড়াই তা লাভ করবে। বরং তা হুবহু তার আকাংখা ও মনের পছন্দ মত হবে। যত চাইবে এবং যখনই চাইবে সামনে এনে হাজির করা হবে। সে যা কিছু লাভ করবে তা তার অতীত কাজের প্রতিদান হিসেবে এবং নিজের বিগত দিনের উপার্জনের ফল হিসেবে লাভ করবে। [দেখুন: সাদী]

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৯) তোমরা যা করতে তার প্রতিফল স্বরূপ তোমরা তৃপ্তির সাথে পানাহার করতে থাক। [1]

[1] অন্যত্র বলেছেন, (كُلُوا وَاشْرَبُوا هَنِيئًا بِمَا أَسْلَفْتُمْ فِي الْأَيَّامِ الْخَالِيَةِ) অর্থাৎ, পানাহার কর তৃপ্তির সাথে, তোমরা অতীত দিনে যা (সৎকর্ম) করেছিলে তার বিনিময়ে। (সূরা হা-ক্কবাহ ২৪ আয়াত) এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহর অনুকম্পা লাভের জন্য ঈমানের সাথে সৎকর্মও অত্যাবশ্যক।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

২০ مُتَّكِئِیۡنَ عَلٰی سُرُرٍ مَّصۡفُوۡفَۃٍ ۚ وَ زَوَّجۡنٰهُمۡ بِحُوۡرٍ عِیۡنٍ

সারিবদ্ধ পালঙ্কে তারা হেলান দিয়ে বসবে; আর আমি তাদেরকে মিলায়ে দেব ডাগরচোখা হূর-এর সাথে। আল-বায়ান

তারা সারিবদ্ধভাবে সাজানো আসনে হেলান দিয়ে বসবে, আর আমি তাদের বিয়ে দিয়ে দেব সুন্দর বড় বড় উজ্জ্বল চক্ষু বিশিষ্টা কুমারীদের সঙ্গে। তাইসিরুল

তারা বসবে শ্রেণীবদ্ধভাবে সজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে; আমি তাদের মিলন ঘটাব আয়তলোচনা হুরের সঙ্গে। মুজিবুর রহমান

They will be reclining on thrones lined up, and We will marry them to fair women with large, [beautiful] eyes. Sahih International

২০. তারা বসবে শ্রেণীবদ্ধভাবে সজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে; আর আমরা তাদের মিলন ঘটাব ডাগর চোখবিশিষ্টা হূরের সঙ্গে;

তাফসীরে জাকারিয়া

(২০) তারা বসবে সারিবদ্ধভাবে সজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে;[1] আমি তাদের বিবাহ দেব আয়তলোচনা হুরদের সঙ্গে।

[1] مَصْفُوْفَةٍ একে অপরের সাথে মিলিত; যেন তা একটিই সারি। আবার কেউ কেউ এর অর্থ এই বর্ণনা করেছেন যে, তাদের মুখমন্ডল একে অপরের সম্মুখে হবে। যেমন, যুদ্ধের ময়দানে সৈন্যদল পরস্পরের মুখোমুখি হয়। এই অর্থকেই কুরআনের অন্যত্র এই ভাষায় বর্ণনা করা হয়েছে। (عَلَى سُرُرٍ مُّتَقَابِلِين) অর্থাৎ, মুখোমুখি হয়ে তারা আসনে আসীন থাকবে। (সূরা সা-ফফাত ৪৪ আয়াত)

২১ وَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَ اتَّبَعَتۡهُمۡ ذُرِّیَّتُهُمۡ بِاِیۡمَانٍ اَلۡحَقۡنَا بِهِمۡ ذُرِّیَّتَهُمۡ وَ مَاۤ اَلَتۡنٰهُمۡ مِّنۡ عَمَلِهِمۡ مِّنۡ شَیۡءٍ ؕ كُلُّ امۡرِیًٴۢ بِمَا كَسَبَ رَهِیۡنٌ

আর যারা ঈমান আনে এবং তাদের সন্তান-সন্ততি ঈমানের সাথে তাদের অনুসরণ করে, আমরা তাদের সাথে তাদের সন্তানদের মিলন ঘটাব এবং তাদের কর্মের কোন অংশই কমাব না। প্রত্যেক ব্যক্তি তার কামাইয়ের ব্যাপারে দায়ী থাকবে। আল-বায়ান

যারা ঈমান আনে আর তাদের সন্তান সন্ততিরা ঈমানের সাথে পিতামাতাকে অনুসরণ করে, আমি তাদের সাথে তাদের সন্তান সন্ততিকে মিলিত করব। তাদের ‘আমালের কোন কিছু থেকেই আমি তাদেরকে বঞ্চিত করব না। প্রত্যেক ব্যক্তিই নিজ কৃতকর্মের জন্য দায়বদ্ধ। তাইসিরুল

এবং যারা ঈমান আনে আর তাদের সন্তান-সন্ততি ঈমানে তাদের অনুগামী হয়, তাদের সাথে মিলিত করাব তাদের সন্তান-সন্ততিকে এবং তাদের কর্মফল আমি কিছুমাত্র হ্রাস করবনা, প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ কৃতকর্মের জন্য দায়ী। মুজিবুর রহমান

And those who believed and whose descendants followed them in faith - We will join with them their descendants, and We will not deprive them of anything of their deeds. Every person, for what he earned, is retained. Sahih International

২১. আর যারা ঈমান আনে, আর তাদের সন্তান-সন্ততি ঈমানে তাদের অনুগামী হয়, আমরা তাদের সাথে মিলিত করব তাদের সন্তান-সন্ততিকে(১) এবং তাদের কর্মফল আমরা একটুও কমাবো না(২); প্ৰত্যেক ব্যক্তি নিজ কৃতকর্মের জন্য দায়ী।(৩)

(১) অর্থাৎ যারা ঈমানদার এবং তাদের সন্তানগণও ঈমানে তাদের অনুগামী, আমরা তাদের সন্তানদেরকে জান্নাতে তাদের সাথে মিলিত করে দেব। [মুয়াসসার] পবিত্র কুরআনের অন্যান্য স্থানেও এ ওয়াদা করা হয়েছে। যেমন, সূরা আর রা'দ এর ২৩ এবং সূরা গাফির এর ৮ নং আয়াত। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, আল্লাহ তা'আলা সৎকর্মপরায়ণ মুমিনদের সন্তান-সন্ততিকেও তাদের সম্মানিত পিতৃপুরুষদের মর্তবায় পৌঁছিয়ে দেবেন, যদিও তারা কর্মের দিক দিয়ে সেই মর্তবার যোগ্য না হয়- যাতে সম্মানিত মুরব্বীদের চক্ষুশীতল হয়।

সায়ীদ ইবন-জুবায়ের রাহেমাহুল্লাহ বলেন, ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেছেন, জান্নাতী ব্যাক্তি জান্নাতে প্ৰবেশ করে তার পিতামাতা, স্ত্রী ও সন্তানদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে যে, তারা কোথায় আছে? জওয়াবে বলা হবে যে, তারা তোমার মর্তবা পর্যন্ত পৌছতে পারেনি। তাই তারা জান্নাতে আলাদা জায়গায় আছে। এই ব্যক্তি আরয করবে, হে রব! দুনিয়াতে নিজের জন্যে ও তাদের সবার জন্যে আমল করেছিলাম। তখন আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে আদেশ হবে, তাদেরকেও জান্নাতের এই স্তরে একসাথে রাখা হোক।

এসব বর্ণনা থেকে প্রমাণিত হয় যে, আখেরাতে সৎকর্মপরায়ণ পিতৃপুরুষ দ্বারা তাদের সন্তানরা উপকৃত হবে এবং আমলে তাদের মর্তবা কম হওয়া সত্বেও তাদেরকে পিতৃপুরুষদের মর্তবায় পৌঁছিয়ে দেয়া হবে। অপরদিকে সৎকর্মপরায়ণ সন্তান-সন্ততি দ্বারা তাদের পিতা-মাতার উপকৃত হওয়াও হাদীসে প্রমাণিত আছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আল্লাহ তা’আলা কোন কোন নেকবান্দার মর্তবা তার আমলের তুলনায় অনেক উচ্চ করে দেবেন। সে প্রশ্ন করবে, হে রব! আমাকে এই মর্তবা কিরূপে দেয়া হল? আমার আমল তো এই পর্যায়ের ছিল না। উত্তর হবে, তোমার সন্তান-সন্ততি তোমার জন্যে ক্ষমাপ্রার্থনা ও দো'আ করেছে। এটা তারই ফল। [মুসনাদে আহমাদ: ২/৫০৯]

(২) আয়াতের অর্থ এইঃ সন্তান-সন্ততিকে তাদের সম্মানিত পিতৃপুরুষদের সাথে মিলিত করার জন্যে এই পন্থা অবলম্বন করা হবে না যে, সম্মানিত পিতৃপুরুষদের আমল কিছু হ্রাস করে সন্তানদের আমল পূর্ণ করা হবে। বা পিতৃপুরুষদের পদাবনতির মাধ্যমে সমান করা হবে। বরং আল্লাহ তা'আলা নিজ কৃপায় তাদেরকে সমান করে দেবেন। [ইবন কাসীর]

(৩) অর্থাৎ প্রত্যেক ব্যক্তি তার আমলের জন্যে দায়ী হবে। অপরের গোনাহের বোঝা তার মাথায় চাপানো হবে না। পূর্ববর্তী আয়াতে নেককর্মের বেলায় সৎকর্মশীল পিতৃপুরুষদের খাতিরে সন্তান-সন্ততির আমল বাড়িয়ে দেয়ার কথা আছে। কিন্তু গোনাহের বেলায় এরূপ করা হবে না। একজনের গোনাহের প্রতিক্রিয়া অপরের উপর প্রতিফলিত হবে না। [ইবন কাসীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

(২১) যারা বিশ্বাস করে আর তাদের সন্তুান-সন্ততি বিশ্বাসে তাদের অনুগামী হয়, তাদের সাথে মিলিত করব তাদের সন্তান-সন্ততিকে এবং তাদের কর্মফল আমি কিছুমাত্র হ্রাস করব না।[1] প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ কৃতকর্মের জন্য দায়বদ্ধ। [2]

[1] অর্থাৎ, যাদের পিতারা নিজেদের আন্তরিকতা, আল্লাহভীরুতা, সৎকর্ম ও সচ্চরিত্রের ভিত্তিতে জান্নাতের সুউচ্চ মর্যাদা লাভে ধন্য হবে, মহান আল্লাহ তাদের ঈমানদার সন্তান-সন্ততিদের মর্যাদাও বাড়িয়ে দিয়ে তাদেরকে তাদের পিতাদের সাথে মিলিত করবেন। এ রকম করবেন না যে, তাদের পিতাদের মর্যাদা কম করে তাদেরকে তাদের সন্তানদের নিম্নমানের মর্যাদায় তাদেরকে নিয়ে আসবেন। অর্থাৎ, মু’মিনদের প্রতি তিনি দ্বিগুণ অনুগ্রহ করবেন। প্রথমতঃ বাপ ও বেটাদেরকে পরস্পর মিলিত করবেন। যাতে তাদের চক্ষু শীতল হয়। তবে শর্ত হল যে, উভয়েই যেন ঈমানদার হয়। দ্বিতীয়তঃ এই যে, নিম্ন মর্যাদার অধিকারীদেরকে উচ্চ মর্যাদা দান করবেন। তাছাড়া উভয়কে মিলিত করার পদ্ধতি এটাও হতে পারত যে, প্রথম শ্রেণীর লোকদেরকে দ্বিতীয় শ্রেণী দেবেন। কিন্তু যেহেতু এটা তাঁর দয়া ও অনুগ্রহ থেকে অনেক হীন ও নীচ ব্যাপার তাই তিনি এ রকম করবেন না। বরং তিনি দ্বিতীয় শ্রেণীর অধিকারীদেরকে প্রথম শ্রেণী দান করবেন। এটা হল আল্লাহর সেই অনুগ্রহ, যা তিনি পিতাদের নেক আমলের বর্কতে সন্তানদের প্রতি করবেন। আর হাদীসে এসেছে যে, সন্তানদের দু’আ ও ক্ষমা প্রার্থনা করার কারণে পিতাদের মর্যাদা বর্ধিত হয়। জান্নাতে এক ব্যক্তির মর্যাদা উচ্চ করা হলে, সে আল্লাহকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে, মহান আল্লাহ বলবেন যে, তোমার সন্তানের তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার কারণে। (মুসনাদে আহমাদ ২/৫০৯) এর সমর্থন ঐ হাদীস দ্বারাও হয়, যাতে এসেছে যে, ‘‘মানুষ মারা গেলে তার আমলের ধারাবাহিকতা ছিন্ন হয়ে যায়। তবে তিনটি জিনিসের সওয়াব মৃত্যুর পরও জারী থাকে। সাদকায়ে জারিয়াহ, এমন জ্ঞান যার দ্বারা মানুষ উপকৃত হতে থাকে, আর এমন সুসন্তান, যে তার জন্য দু’আ করে।’’ (মুসলিম অসিয়ত অধ্যায়)

[2] رَهِيْنٌ এর অর্থ, مَرْهُوْنٍ (বন্ধক রাখা বস্তু)। প্রত্যেক ব্যক্তি তার আমলের দায়ে দায়বদ্ধ। আর এ কথাটি ব্যাপক; যাতে মু’মিন ও কাফের উভয়ই শামিল। অর্থ হল, যে ব্যক্তিই (ভাল-মন্দ) যেমন আমল করবে, সেই অনুযায়ী সে (ভাল-অথবা মন্দ) ফল পাবে। অথবা এ থেকে কাফেদেরকে বুঝানো হয়েছে। তারা নিজেদের কর্মের জন্য বন্দী থাকবে। যেমন অন্যত্র বলেন, {إِلَّكُلُّ نَفْسٍ بِمَا كَسَبَتْ رَهِينَةٌ،  اأَصْحَابَ الْيَمِين} অর্থাৎ, প্রত্যেক ব্যক্তি তার আমলের জন্য দায়ী। তবে ডানহাত-ওয়ালারা নয়। (সূরা মুদ্দাসসির ৩৮-৩৯ আয়াত)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

:২২ وَ اَمۡدَدۡنٰهُمۡ بِفَاكِهَۃٍ وَّ لَحۡمٍ مِّمَّا یَشۡتَهُوۡنَ

আর আমি তাদেরকে অতিরিক্ত দেব ফলমূল ও গোশত যা তারা কামনা করবে। আল-বায়ান

আমি তাদেরকে দিব ফলমূল আর গোশত যা তারা পছন্দ করবে। তাইসিরুল

আমি তাদেরকে দিব ফল-মূল এবং গোশত যা তারা পছন্দ করে। মুজিবুর রহমান

And We will provide them with fruit and meat from whatever they desire. Sahih International

২২. আর আমরা তাদেরকে বাড়িয়ে দেব ফলমূল এবং গোশত যা তারা কামনা করবে।

তাফসীরে জাকারিয়া

(২২) আমি তাদেরকে ঢের দেব ফল-মূল এবং গোশত, যা তারা পছন্দ করে। [1]

[1] أَمْدَدْنَاهُم  এর অর্থ زِدْنَاهُمْ অর্থাৎ, আমি তাদেরকে প্রচুর দেব।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

২৩ یَتَنَازَعُوۡنَ فِیۡهَا كَاۡسًا لَّا لَغۡوٌ فِیۡهَا وَ لَا تَاۡثِیۡمٌ

তারা পরস্পরের মধ্যে পানপাত্র বিনিময় করবে; সেখানে থাকবে না কোন বেহুদা কথাবার্তা এবং কোন পাপকাজ। আল-বায়ান

তারা সেখানে পরস্পরের মধ্যে বিনিময় করবে পানপাত্র, থাকবে না সেখানে কোন বেহুদা বকবকানি, থাকবে না কোন পাপের কাজ। তাইসিরুল

সেখানে তারা একে অপরের নিকট হতে গ্রহণ করবে পান পাত্র, যা হতে পান করলে কেহ অসার কথা বলবেনা এবং অসৎ কাজেও লিপ্ত হবেনা। মুজিবুর রহমান

They will exchange with one another a cup [of wine] wherein [results] no ill speech or commission of sin. Sahih International

২৩. সেখানে তারা পরস্পরের মধ্যে আদান প্ৰদান করতে থাকবে পানিপাত্র, সেখানে থাকবে না কোন অসার কথা-বার্তা, থাকবে না কোন পাপকাজও।(১)

(১) অর্থাৎ সেই শরাব নেশা সৃষ্টিকারী হবে না। তাই তা পান করে কেউ মাতাল হয়ে বেহুদা ও আবোলতাবোল বকবে না, গালি-গালাজ করবে না, কিংবা দুনিয়ার শরাব পানকারীদের মত অশ্লীল ও অশালীন আচরণ করবে না। [আদওয়াউল বায়ান]

তাফসীরে জাকারিয়া

(২৩) সেখানে তারা একে অপরের নিকট হতে গ্রহণ করবে (মদ ভরা) পান-পাত্র,[1] যা হতে পান করলে কেউ অসার কথা বলবে না এবং পাপ কর্মেও লিপ্ত হবে না।[2]

[1] يَتَنَازَعُوْنَ، يَتَعَاطَوْنَ وَيَتَنَاوَلُوْنَ একে অপর থেকে নিবে। كَأس মদ অথবা পানীয় বস্তুতে ভর্তি পান-পাত্রকে বলে। খালি পাত্রকে كَأس বলা হয় না। (ফাতহুল ক্বাদীর)

[2] সেই মদে দুনিয়ার মদের কোন ক্রিয়া থাকবে না। এ মদ পান করে (নেশাগ্রস্ত হয়ে) না আবোল-তাবোল বকবে, না অশ্লীল কথা বলবে, আর না এমন মাতাল হবে যে, তার ফলে কোন পাপ-কাজ করে বসবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

২৪ وَ یَطُوۡفُ عَلَیۡهِمۡ غِلۡمَانٌ لَّهُمۡ كَاَنَّهُمۡ لُؤۡلُؤٌ مَّكۡنُوۡنٌ

আর তাদের সেবায় চারপাশে ঘুরবে বালকদল; তারা যেন সুরক্ষিত মুক্তা। আল-বায়ান

তাদের চতুর্দিকে ঘুর ঘুর ক’রে তাদের সেবায় নিয়োজিত থাকবে কিশোরেরা (যারা এতই সুন্দর) যেন সযত্নে লুকিয়ে রাখা মণিমুক্তা। তাইসিরুল

সুরক্ষিত মুক্তা সদৃশ কিশোরেরা সেখানে তাদের জন্য নিয়োজিত থাকবে। মুজিবুর রহমান

There will circulate among them [servant] boys [especially] for them, as if they were pearls well-protected. Sahih International

২৪. আর তাদের সেবায় চারপাশে ঘুরাঘুরি করবে কিশোরেরা, তারা যেন সুরক্ষিত মুক্তা।

তাফসীরে জাকারিয়া

(২৪) তাদের (সেবায়) তাদের কিশোরেরা তাদের আশেপাশে ঘোরাফেরা করবে; যেন তারা সুরক্ষিত মুক্তা সদৃশ। [1]

[1] অর্থাৎ, জান্নাতীদের সেবার জন্যে তাদেরকে চিরকিশোর সেবকও দেওয়া হবে। যারা তাদের সেবা-শুশ্রূষার কাজে ঘুরে বেড়াবে। আর সৌন্দর্যে ও চমৎকারিত্বে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় তারা হবে সেই মুক্তাসদৃশ, যাকে সুরক্ষিত রাখা হয় এই আশঙ্কায় যে, যাতে হাত লেগে তার চমক ও ঔজ্জ্বল্য নষ্ট হয়ে না যায়।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

:২৫ وَ اَقۡبَلَ بَعۡضُهُمۡ عَلٰی بَعۡضٍ یَّتَسَآءَلُوۡنَ

আর তারা একে অপরের মুখোমুখি হয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে, আল-বায়ান

তারা পরস্পরের নিকট এগিয়ে গিয়ে একে অপরকে জিজ্ঞেস করবে, তাইসিরুল

তারা একে অপরের দিকে মুখোমুখি জিজ্ঞসাবাদ করবে – মুজিবুর রহমান

And they will approach one another, inquiring of each other. Sahih International

২৫. আর তারা একে অন্যের দিকে ফিরে জিজ্ঞেস করবে,

তাফসীরে জাকারিয়া

(২৫) তারা একে অপরের দিকে ফিরে জিজ্ঞেস করবে, [1]

[1] আপোসে তারা একে অপরকে দুনিয়ার অবস্থার কথা জিজ্ঞাসা করবে যে, তারা কোন্ অবস্থার মধ্যে জীবন-যাপন করত এবং ঈমান ও আমলের দাবীসমূহ কিভাবে পূরণ করত?

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

২৬ قَالُوۡۤا اِنَّا كُنَّا قَبۡلُ فِیۡۤ اَهۡلِنَا مُشۡفِقِیۡنَ

তারা বলবে, ‘পূর্বে আমরা আমাদের পরিবারের মধ্যে শঙ্কিত ছিলাম।’ আল-বায়ান

তারা বলবে, ‘পূর্বে আমরা আমাদের পরিবারে (দুনিয়াবী নানা কারণে ও আখিরাতের ‘আযাবের আশংকায়) ভয় ভীতির মধ্যে ছিলাম। তাইসিরুল

এবং বলবেঃ পূর্বে আমরা পরিবার-পরিজনের মধ্যে শংকিত অবস্থায় ছিলাম – মুজিবুর রহমান

They will say, "Indeed, we were previously among our people fearful [of displeasing Allah]. Sahih International

২৬. তারা বলবে, নিশ্চয় আগে আমরা পরিবার-পরিজনের মধ্যে শংকিত অবস্থায় ছিলাম।(১)

(১) অর্থাৎ আমরা দুনিয়ায় বিলাসিতায় ডুবে এবং আপন ভূবনে মগ্ন থেকে গাফলতির জীবন যাপন করিনি। সেখানে সবসময়ই আমাদের আশংকা থাকতো যে, কখন যেন আমাদের দ্বারা এমন কোন কাজ হয়ে যায়, যে কারণে আল্লাহ আমাদের পাকড়াও করবেন। [দেখুন: ফাতহুল কাদীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

(২৬) এবং বলবে, ‘নিশ্চয় আমরা পূর্বে পরিবার-পরিজনের মধ্যে শংকিত অবস্থায় ছিলাম। [1]

[1] অর্থাৎ, আল্লাহর শাস্তি থেকে। এই জন্য আমরা সেই শাস্তি থেকে বাঁচার প্রতি যত্ন নিতাম। কারণ, যে যে জিনিসকে ভয় করে, সে তা থেকে বাঁচার প্রচেষ্টা চালায়।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

২৭ فَمَنَّ اللّٰهُ عَلَیۡنَا وَ وَقٰىنَا عَذَابَ السَّمُوۡمِ

অতঃপর আল্লাহ আমাদের প্রতি দয়া করেছেন এবং আগুনের আযাব থেকে আমাদেরকে রক্ষা করেছেন।’ আল-বায়ান

অবশেষে আল্লাহ আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন আর আমাদেরকে ঝলসে দেয়া বাতাসের ‘আযাব থেকে রক্ষা করেছেন। তাইসিরুল

অতঃপর আমাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন এবং আমাদেরকে অগ্নির শাস্তি হতে রক্ষা করেছেন, মুজিবুর রহমান

So Allah conferred favor upon us and protected us from the punishment of the Scorching Fire. Sahih International

২৭. অতঃপর আমাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন এবং আমাদেরকে আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করেছেন।

তাফসীরে জাকারিয়া

(২৭) অতঃপর আমাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন এবং আমাদেরকে উত্তপ্ত ঝড়ো হাওয়ার শাস্তি হতে রক্ষা করেছেন। [1]

[1] سَمُوْمٌ লু-হাওয়া। ঝলসে দেয় এমন গরম হাওয়াকে বলে। আর এটা জাহান্নামের নামসমূহের একটি নামও বটে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

২৮ اِنَّا كُنَّا مِنۡ قَبۡلُ نَدۡعُوۡهُ ؕ اِنَّهٗ هُوَ الۡبَرُّ الرَّحِیۡمُ

নিশ্চয় পূর্বে আমরা তাঁকে ডাকতাম; নিশ্চয় তিনি ইহসানকারী, পরম দয়ালু। আল-বায়ান

পূর্বে আমরা তাঁর কাছেই দু‘আ করতাম, তিনি অতি অনুগ্রহকারী, পরম দয়াবান। তাইসিরুল

আমরা পূর্বেও আল্লাহকে আহবান করতাম, তিনিতো কৃপাময়, পরম দয়ালু। মুজিবুর রহমান

Indeed, we used to supplicate Him before. Indeed, it is He who is the Beneficent, the Merciful." Sahih International

২৮. নিশ্চয় আমরা আগেও আল্লাহকে ডাকতাম, নিশ্চয় তিনি কৃপাময়, পরম দয়ালু।

তাফসীরে জাকারিয়া

(২৮) নিশ্চয় আমরা পূর্বেও আল্লাহকে আহবান করতাম।[1] নিশ্চয় তিনি কৃপাময়, পরম দয়ালু।’

[1] অর্থাৎ, আমরা একমাত্র তাঁরই উপাসনা করতাম। তাঁর সাথে কাউকে অংশীদার স্থাপন করতাম না। কিংবা এর অর্থ এই যে, জাহান্নামের শাস্তি থেকে বাঁচার জন্য আমরা কেবল তাঁরই নিকট প্রার্থনা করতাম।

মন্তব্য করুন