সিনিয়র শিক্ষক
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০৩:৩৩ অপরাহ্ণ
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের চেয়ার কোথায় ছিল? শিক্ষক হিসেবে আমাদের অবস্থান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের চেয়ার কোথায় ছিল?
নতুন একটি হাই স্কুল নির্মাণের জন্য কদমপুরের গ্রামবাসি ঈদগাহ ময়দানে মিটিংয়ে বসেছিলেন৷ গ্রামের সকল লোকের সাথে পার্শ্ববর্তি হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক হাশেম সাহেবও সে মিটিংয়ের উপস্থিত হলেন৷ সাধারণত তিনি কখনো গ্রামের কোনো মেল মিটিংয়ে যান না৷ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের মিটিং বলে সবাই কদর করে তাকে উপস্থিত থাকতে বললেন৷ সে মিটিংয়ের সভাপতিত্ব করলেন গ্রামের বয়োজৈষ্ঠ এক মুরব্বি আ. খালেক৷ সভাপতির এক পাশের চেয়ারটি ছিল এই গ্রামের রাজনৈতিক নেতা আরমান আলীর জন্য, অন্য পাশের চেয়ারটি ছিল এই গ্রামেরই ধনকুবের রমজান আলীর জন্য৷ প্রধান শিক্ষক সাহেব বসলেন বামদিকের সর্ব দক্ষিণের চেয়ারে৷ তার পরে আর কোনো চেয়ার ছিল না৷ থাকলে হয়ত সে চেয়ারটিই তার জন্য হতো! প্রধান শিক্ষক আক্ষেপ করে মনে মনে ভাবলেন, ''রমজান আলী ও আমি এক সাথে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়েছি৷ সে কখনো পাশ করতে পারতো না৷ অবশেষে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে ডানবামে কামিয়ে গ্রামের ধনকুবের হয়েছে৷ এখন তার চেযারটি থাকে সভাপতির পাশে৷ আর বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে পাশ করে শিক্ষক হওয়াতে আমার স্থান সর্বশেষে!''
গ্রামে একটি স্কুল স্থাপনের গুরুত্ব দিয়ে তুখর বক্তব্য চলছিল৷ এবার সর্বশেষ সভাপতির বক্তব্যের পালা৷ মাইক হাতে নিয়ে তিনি আক্ষেপ করে বক্তব্য দিচ্ছেন-
''এ গ্রামে কোনো স্কুল স্থাপনের দরকার নাই৷ স্কুল হইলে মানুষের কদর কইম্মা যাইবে৷ মানুষ শিক্ষিত হইলে কদর থাকবে না!''
সবাই হৈ হুল্লা শুরু করে দিল৷ তিনি এসব কি বলছেন!
গ্রামের ইউপি মেম্বার দাঁড়িয়ে বললেন- সভাপতি সাব, আপনি এসব কী বলছেন?''
হ্যাঁ ঠিকই কইছি৷ তোমরা চোখে দেখ না? রমজান কই বইছে আর হেডমাস্টাররে তোমরা কই বওয়াছো? সে উচ্চ শিক্ষিত হইয়া হেডমাস্টার হওয়ার তার দাম কি বাড়ছে? তার চেয়ে প্রাইমারি পাশ রমজানের দামই তোমাদের সমাজে বেশি৷ গেরামে রমজান তৈরি হোক; স্কুল হইয়া হাশেম হওয়ার দরকার নাই! হাশেমদের সমাজে ভালো জায়গায় হয় না!''
এক পর্যায়ে জব্বর আলী দাঁড়িয়ে গেলেন৷ তিনি সভাপতিকে থামিয়ে দিয়ে বলছেন-
''সভাপতি সাব, হের মত হেডমাস্টারকে আমরাই চাকরি দেই৷ আমি সে স্কুলের সভাপতি৷ আমি চাইলে এ রকম হেডমাস্টার স্কুলে রাখতে পারি আবার লরাইতেও পারি৷ তাকে কি আমরা আপনার সাথে বসার চেয়ার দিবো? গ্রামে স্কুল হইলে তো এ রকম হেডমাস্টার আমরাই বানামু৷ হেড মাস্টার হওয়ার জন্য যে কতজন বাড়িতে আইসা বইসা থাকবো আপনি দেইখেন!''
এ জন্য কি তোমরা তাকে সম্মান করবা না?
সম্মান করলাম না কই? পরামর্শ নিতেই তো তাকে আজকে এখানে রাখছি৷ পরামর্শ দেয়া কি সম্মানের না?
বাবারা, তোমরা আমারে আর বুঝাইয়ো না৷ আমি ছোট বেলা দেখছি গ্রামের আকবর মাস্টারে দরবারে আইলে কেউ চেয়ারে বইত না৷ সবাই তাকে মানতো! আর তোমরা গতমাসে ইউনিয়ন অফিস উদ্ভোধনের অনুষ্ঠান করছো৷ সেখানে দেখলাম এলাকার মেট্রিক পাশ নামধারী সাংবাদিক; তাদের জন্য আলাদা চেয়ার রাখছো৷ কত কদর করলা৷ কত খাওয়াইলা! সকল ওয়ার্ডের মেম্বারেরা সামনের চেয়ারে বসলা৷ আর হাই স্কুলে প্রাইমারি স্কুলের সকল শিক্ষকদেরকে উপস্থিত থাকার কথা বইল্লা তাদের জন্য নির্দিষ্ট চেয়ার রাখলা না৷ তারা বইলে পেছনে প্লাস্টিকের ময়লা চেয়ারে৷ তোমরা তাদেরকে দাওয়াত দিয়া দর্শক বাড়াও৷
ঠিক আছে! আমার বয়স হইছে! সময় শেষ! তোমরাই স্কুল বানাও, হেড মাস্টার বানাও!''
বি. দ্র : এটি একটা গল্প মাত্র৷ এর সাথে বাস্তবতার মিল খুজা নিত্যান্তই সময়ের অপচয়৷
লেখক
মোঃ মহসিন।
১৪
২৪ মন্তব্য