প্রধান শিক্ষক
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০৬:৩২ অপরাহ্ণ
শিশুর বিকাশে সামাজিকতা ও পারিবারিক শিক্ষা।
স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিলাম। আমার তিনজন সহকর্মীও আমার সাথে ছিলেন। আমার চারজনের মধ্যে একমাত্র আমিই ছিলাম সনাতন ধর্মের। উপজেলা সংযোগ সড়কে উঠার আগে আমাদের পাড়ার ভেতরে একটি পথ ধরে আসতে হয়। পথিমধ্যে প্রায়শই ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের খেলতে দেখি। সেদিনও তাই দেখছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করেই একটি নতুন কিছু ঘটে গেলো। শিশুরা খেলাধুলা ছেড়ে দাঁড়িয়ে পড়লো। আর সবাই মিলে সুর করে ছড়া কাটতে লাগলো,
হেন্দুনি লো সই,
খাটখান দেস নে বই,
খাটের মাঝে বইয়া বইয়া
মনের কথা কই।
তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় একটু মুচকি হাসি ছাড়া আর কিছুই করার ছিলো না। প্রথমত এই এলাকায় আমি নতুন বদলি হয়েছি : দ্বিতীয়ত গণ অভ্যূত্থান পরবর্তী দেশের বর্তমান চিত্র। কিন্তু রাতে আমি ঘুমুতে পারলাম না। বার বার মনে হচ্ছিল, এই শিশুদের কি দোষ! ওরা তো কিছুই জানে না। নিশ্চয়ই কোনো না কোনো মাধ্যমে সে এটা করার জন্য উৎসাহিত হয়েছে। এর দায়ভার তো আমার উপরেও বর্তায় একজন শিক্ষক হিসেবে। আমি কি করে তাকে এই সংকীর্ণতা থেকে বের করে আনতে পারি? কোনো উপায় খুঁজে পেলাম না।
আজ যে শিশু, কাল সে দেশের একজন দায়িত্বশীল নাগরিক। সেই দায়িত্বশীলতার জায়গাটি আমাদেরকেই গড়ে তুলতে হবে। পাঠ্যক্রমের সুবিন্যস্ত বিষয় ছাড়াও তাকে জীবনের উপযুক্ত করে তুলতে হবে। তার যে সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষ রোপিত হয়েছে, তাকে নির্মূল করতে হবে।
আসুন, প্রতিটি শিশুর সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ায় আমরা শিক্ষকরা এগিয়ে আসি এবং শিশুর সামগ্রিক বিকাশে সহযোগী হিসেবে কাজ করি।
৬৪
১০০ মন্তব্য