সহকারী শিক্ষক
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ১১:১১ অপরাহ্ণ
শিক্ষা প্রশাসনে শিক্ষক নিয়োগের অপরিহার্যতা
৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই বাংলাদেশের মাধ্যমিক শিক্ষায় চলছে অস্থিরতা। এই অস্থিরতার সূত্রপাত হয়েছে মাধ্যমিক শিক্ষায় নিয়োজিত বিভিন্ন শ্রেণির চাকরিজীবীর মধ্যে কে কাকে ডিঙিয়ে ওপরে উঠবে তা নিয়ে। এরই ধারাবাহিকতায়, বিপ্লব পরবর্তী দেশের প্রশাসন-যন্ত্রের বেহাল অবস্থার সুযোগ নিয়ে একদল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাধ্যমিক শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র ঢাকার মাউশি ভবনে গত ১৭ সেপ্টেম্বর জড়ো হয়ে বৈষম্য দূরীকরণের মিথ্যা শ্লোগান দিয়ে মাউশির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের যেনোতেনো উপায়ে রাজি করিয়ে ‘জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা’র পদটি নিজেদের নামে বাগিয়ে নিতে চেয়েছিলেন। তাদের এই চাওয়াটি ছিলো সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং বিধিবহির্ভূত। এজন্য সেদিন দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত একদল সচেতন শিক্ষক তাদের সেই অযৌক্তিক দাবির বিরুদ্ধে মাউশিতে প্রতিবাদ করতে গেলে হট্টগোল পাকানো সেই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা তাদের ওপরে বিনা উস্কানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে শারীরিকভাবে প্রহৃত করেন।
খালি চোখে এটি আমাদের কাছে অত্যন্ত সাধারণ একটা ঘটনা মনে হলেও, জাতি হিসেবে আমাদের জন্য তা গভীর বার্তা বহন করে। সেটি হলো, দেশের শিক্ষক সমাজকে যে প্রতিষ্ঠান পরম মমতায় বুকে আগলে রাখবে, সেই প্রতিষ্ঠান কর্তৃকই শিক্ষকরা চরমভাবে লাঞ্ছনা ও অপমানের শিকার হয়েছেন। বিপদে-আপদে যে শিক্ষা কর্মকর্তারা শিক্ষক সমাজের পাশে বটগাছের মতো ছায়া হয়ে থাকবেন, সেই শিক্ষা কর্মকর্তারাই শিক্ষকদের মুখে সজোরে ঘুষি চালিয়েছেন। এখন, যে যুক্তিতে তারা শিক্ষকদের সঙ্গে এহেন ধৃষ্টতাপূর্ণ আচরণ করেছেন, তাদের সে যুক্তিটাও খুব অসার এবং শঠতাপূর্ণ। তারা সেদিন মাউশিতে উপস্থিত হয়ে ‘জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা’ নামক পদটির শতভাগ নিজেদের দাবি করে মিছিল করেছিলেন। তাদের যুক্তি ছিলো, তারা এই পদটির শতভাগ দাবিদার হওয়া সত্ত্বেও বছরের পর বছর ধরে তাদেরকে বঞ্চিত করে সরকার সেখানে সরকারি মাধ্যমিকের শিক্ষকদের পদায়ন করে আসছে।
একটা বিশ্ববিদ্যালয় আস্ত একটা দেশের মতো জটিল ও আঁকাবাঁকা। দক্ষতার সঙ্গে একটা দেশ চালাতে হলে দেশের নেতাকে যেমন সেদেশের প্রতিটা অলিগলি সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকতে হয়, তেমনি করে একটা বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালানোর জন্য সেখানকার প্রশাসককে সেই বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিটা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মনস্তত্ত্ব ভালোভাবে জানতে হয়। এখন, একজন শিক্ষক তার সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের মনের খবর, হাঁড়ির খবর যতটুকু চেনেন -জানেন-বোঝেন, ততটুকু কি বাইরে থেকে আগত একজন প্রশাসক বুঝবেন? তা তিনি যত বড় মাপের মেধাবী প্রশাসকই হোন না কেনো? না, তিনি কখনোই তা বুঝতে পারবেন না।
৪
৭ মন্তব্য