Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ১২:৩০ অপরাহ্ণ

কওমী ছাত্র ও তরুণ আলেমদের প্রতি বিনীত পরামর্শ

কওমী ছাত্র ও তরুণ আলেমদের প্রতি 

বিনীত পরামর্শ


ইসলামী আবেগ ও চেতনা সম্পন্ন তরুণ ছাত্র ও আলেম ভাইদেরকে আল্লাহর ওয়াস্তে ভালবাসি। আপনাদের সমীপে অধম কয়েকটি পরামর্শ আরজ করছি-

ইসলামী চিন্তা চেতনার যাত্রার শুরুতে একজন মুসলিম তরুণের কাছে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর ওপর লাগাতার আঘাত, উম্মাহর দূরাবস্থা এবং বিভিন্ন অন্যায়, ধর্ম বিরোধী কর্মকাণ্ড দেখে প্রতিবাদী হওয়া রক্ত গরম হওয়া খুবই স্বাভাবিক, প্রশংসনীয় ও ঈমানের আলামত। কিন্তু এর বহিঃপ্রকাশ কিভাবে করবেন এবং এর আলোকে আপনার  করনীয় কী তা আপনার অভিভাবক শ্রেণীর আলেমগণই ঠিক করে দিবেন। আপনারা এক্ষেত্রে ইসলামী অঙ্গনের নির্ভরযোগ্য অভিভাবকতুল্য ওলামায়ে কেরামের নির্দেশনা, অবস্থান ও সিদ্ধান্ত অনুসারে নিজের কর্মসূচি ঠিক করবেন। কোন ফেসবুক সেলিব্রেটি অনলাইন বক্তার আবেগী কথায় প্রভাবিত হবেন না। মনে রাখবেন, অপরিচিত ঝান্ডা, অস্পষ্ট লক্ষ্য ও অনির্ভরযোগ্য ব্যক্তির পিছনে ছুটে চলা অনিরাপদ।

অনলাইনে যারা কাজ করছে তাদেরকে খাটো করছি না। বরং তাদের অনেকেই অনলাইনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ আঞ্জাম দিচ্ছেন।


আপনারা আল্লামা তাকী উসমানী, প্রয়াত মুফতিয়ে আযম আব্দুস সালাম চাটগামী রহ., মুফতি আব্দুল মালেক, মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ, মুফতি শামসুদ্দীন জিয়া, মুফতি মনসুরুল হক হাফিজাহুমুল্লাহ প্রমুখের মত প্রাজ্ঞ ইসলামী আইনজ্ঞ মুফতি উলামায়ে কেরামের নির্দেশনাকে মৌলিক মেনে তরুণ আলেম নেতৃবৃন্দের যারা এই অভিভাবক আলেমগণের সাথে চিন্তার সম্পর্ক ও পরামর্শের আলোকে দাওয়াত, রাজনীতি ও আন্দোলন পরিচালনা করেন তাদেরকে মেনে কাজ করতে পারবেন। কারণ মাঠ পর্যায়ে কাজ করে তরুণরা। কিন্তু তরুণদের মধ্যে তারাই নিরাপদ যারা বড়দের সাথে সম্পর্ক রাখেন। যারা বড়দের নির্দেশনাকে অগ্রাহ্য করে তাদের অনেক কাজই বাহ্যত সুন্দর ও উপকারী মনে হলেও ফলাফল ও সার্বিক বিবেচনায় ধর্মীয় অঙ্গনে বিশৃঙ্খলা ও ক্ষতিকর পরিলক্ষিত হয়।


মনে রাখবেন, হযরত উসমান রা. কে হত্যা করেছিল কিছু আবেগী তরুণরা। বড়দেরও ভুল হতে পারে। কিন্তু সবার সংশোধনের পদ্ধতি একরকম নয়। একটু চিন্তা করুন, আমার মা-বাবার ভুলের সংশোধন আমি কিভাবে করব?


বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দাওয়াত, রাজনীতি ও আন্দোলন কেমন হবে তার স্বরূপ আমরা বড়দের থেকে ঠিক করে নিয়ে তাদের দোআ পরামর্শ নিয়ে কাজ করব। ইনশাআল্লাহ কামিয়াব হব। বিশ্বাস করুন এই পথ যারা পাড়ি দিয়ে গেছেন তারাই জানেন এ পথের কোথায় বাধা আছে।


কুরআন-হাদীস মেনেই আমরা চলব কিন্তু কোরআন ও হাদিসের কোন্ দলিল কোথায় কখন কিভাবে প্রয়োগ হবে তা ঠিক করার 'উলিল আমর' বা অথরিটি হচ্ছেন শরীয়তের প্রাজ্ঞ বিশেষজ্ঞ মুফতিগণ।


আল্লাহ তা'আলা বলেন:

وَ اِذَا جَآءَهُمۡ اَمۡرٌ مِّنَ الۡاَمۡنِ اَوِ الۡخَوۡفِ اَذَاعُوۡا بِهٖ ؕ وَ لَوۡ رَدُّوۡهُ اِلَی الرَّسُوۡلِ وَ اِلٰۤی اُولِی الۡاَمۡرِ مِنۡهُمۡ لَعَلِمَهُ الَّذِیۡنَ یَسۡتَنۡۢبِطُوۡنَهٗ مِنۡهُمۡ ؕ وَ لَوۡ لَا فَضۡلُ اللّٰهِ عَلَیۡكُمۡ وَ رَحۡمَتُهٗ لَاتَّبَعۡتُمُ الشَّیۡطٰنَ اِلَّا قَلِیۡلًا ﴿۸۳﴾

অর্থ: যখন নিরাপত্তা বা ভয়ের কোন সংবাদ তাদের কাছে আসে তখন তারা তা রটিয়ে দেয়।(১) যদি তারা তা রাসুল এবং তাদের মধ্যে যারা জিম্মাদার তাদেরকে জানাত, তাহলে তাদের মধ্যে যারা তথ্য অনুসন্ধান করে তারা সেটার যথার্থতা নির্ণয় করতে পারত। তোমাদের প্রতি যদি আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ ও রহমত না থাকত তবে তোমাদের অল্প সংখ্যক ছাড়া সকলে শয়তানের অনুসরণ করত। (সূরা নিসা : ৮৩)


এই আয়াতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উপযুক্ত অথরিটি বা জিম্মাদার আলেমগণের কাছে সিদ্ধান্ত ন্যাস্ত করতে বলা হয়েছে। এবং এই মূলনীতি না মেনে পরিচালিত দ্বীনি আবরণের অনেক কাজকে মূলত শয়তানের অনুসরণ বলে ইঙ্গিত করা হয়েছে। 


এই শৃঙ্খলা যদি আমরা না মানি তাহলে কওমী অঙ্গনে চরম নৈরাজ্য ও ধ্বংস দেখার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। আল্লাহুল মুস্তা'আন।


বাংলাদেশে কওমি অঙ্গনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং দাওয়াত, রাজনীতি ও আন্দোলনের অঙ্গনে বিভিন্ন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি অবলোকন করে অধমের এই পরামর্শ পেশ করলাম। কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমা করবেন। ভুল বললে সুপরামর্শ দিবেন, শুদ্ধ করে নিব।


বিনীত দোআপ্রার্থী

মিসবাহ উদ্দিন মাদানী

লেকচারার, আইআইইউসি।

সাবেক শিক্ষক, জামিয়া দারুল মা'আরিফ আল ইসলামিয়া, চট্টগ্রাম।

মন্তব্য করুন