Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০৩:২৬ অপরাহ্ণ

ঢাকার কার্জন হল প্রাচ্যের অক্সফোর্ড

কার্জন হল বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক ভবন, যা পুরাকীর্তি হিসেবে স্বীকৃত।এটি নির্মাণ করা হয় ঢাকা কলেজের ব্যবহারের জন্য। বর্তমানে এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও জীব বিজ্ঞান অণুষদের কিছু শ্রেণিকক্ষ ও পরীক্ষার হল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।১৯০৪ সালে ঢাকা কলেজ রমনার নিমতলীতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেজন্য স্থানান্তরের জন্য প্রস্তাবিত স্থানের নিকটে কলেজের পাঠাগার হিসেবে এই ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়। পাঠাগার হিসেবে এই ভবনের নাম ব্রিটিশ ভারতের গভর্নর জেনারেল লর্ড কার্জনের সম্মানে ভাওয়াল এস্টেটের রাজকুমারগণ দেড় লাখ টাকা প্রদান করেন এবং এর নাম কার্জন হল রাখা হয়। একই বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারিতে লর্ড কার্জন ঢাকায় এসে এর ভিত্তি-প্রস্তর স্থাপন করেন। এরপরের বছর বঙ্গভঙ্গ চূড়ান্ত হওয়ায় পূর্ববঙ্গ ও আসাম নামক নতুন একটি প্রদেশ গড়ে উঠে যার রাজধানী হয় ঢাকা। ফলে কার্জন হলের গুরুত্ব তৎকালীন সময়ে বেড়ে যায়। ১৯০৮ সালে কার্জন হল নির্মাণ সম্পন্ন হয়। ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ হওয়ার পর কার্জন হলে ঢাকা কলেজের ক্লাস শুরু হয়।১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হওয়ার পর কার্জন হলকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসের সাথে কার্জন হল জড়িয়ে আছে। ১৯৪৮ সালে এখানেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু এতদসংক্রান্ত ঘোষণার প্রতি প্রথম প্রতিবাদ জানিয়েছিল।১৯৪৮ সালের ২৪ মার্চ কার্জন হলে অনুষ্ঠিত বিশেষ সমাবর্তনে জিন্নাহ পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা উর্দু হবে বলে ঘোষণা করলে কার্জন হলে উপস্থিত ছাত্ররা তখনই ‘নো-নো’ বলে প্রতিবাদ করে।

মন্তব্য করুন

ব্লগ