Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ১০:০৯ অপরাহ্ণ

সহশিক্ষা কার্যক্রমের গুরুত্ব

সহশিক্ষা কার্যক্রম হলো পাঠ্যবইয়ের বাইরে নিজের পছন্দের অন্য কোনো বিষয় যা শিক্ষালয়ে বা শিক্ষালয়ের বাইরে ব্যক্তিগত উদ্যোগে একজন শিক্ষার্থী শেখে। সহশিক্ষার কার্যক্রমের গুরুত্ব সম্পর্কে জানাচ্ছেন এনাম-উজ-জামান

নতুন পরিচয় : সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিলে শিক্ষার্থী তার নিজের সুপ্ত গুণ সম্পর্কে জানতে পারবে। নাচ, গান, আবৃত্তি, খেলাধুলা, বিতর্ক, অভিনয়, সাহিত্যচর্চা ইত্যাদির মধ্যে কোনটিতে তুমি স্বতঃস্ফূর্ত তা খুঁজে বের করো। যে বিষয়ে তোমার আগ্রহ আছে সেই বিষয়টিতেই তুমি অংশগ্রহণ করতে পারো। পছন্দের বিষয় একাধিক হলেও চিন্তা কিছু নেই। রুটিন করে চর্চা করতে পারো। এর মাধ্যমে তোমার আরেকটি পরিচয় তৈরি হবে।

একটি দলকে পাশে পাবে : সব শিক্ষা কার্যক্রমই দলগত কাজ। কখনো কখনো একাকী চর্চা করা সম্ভব হলেও উপস্থাপনের সময় দলবদ্ধভাবেই কাজ করতে হয়। তাই সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিলে দলগত কাজের অভিজ্ঞতা বাড়ে। দলে কাজ করার কারণে তাদের সঙ্গে অন্তরঙ্গতা বাড়ে। ফলে শিক্ষার্থী অংশ হয় একটি বর্ধিত পরিবারের। এই পরিবার নিজের পরিবারের মতোই তাকে সুখেঃদুখে সমর্থন দিয়ে যায়।

নতুন বিষয় শেখা যায় : সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার ফলে একজন শিক্ষার্থীর অন্তর্গত প্রতিভা বিকশিত হয়। তাছাড়া দলগত কাজ করার সময় সে নানা রকম পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়। তখন তাকে নিজের মতো করে সমাধানের পথ বের করতে হয়। এর ফলে সে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন বিষয় সম্পর্কে জানতে ও শিখতে পারে।

একটি খোলা জানালা : যেকোনো সহশিক্ষা কার্যক্রম শিক্ষার্থীর জন্য একটি খোলা জানালা হিসেবে কাজ করে। পাঠ্যবইয়ের পড়ার চাপ, পরীক্ষার দুশ্চিন্তা ইত্যাদির ফলে একজন শিক্ষার্থী হয়ে বিষণœ, অবসাদগ্রস্ত। সহশিক্ষা কার্যক্রম তাকে এই চাপের হাত থেকে বাঁচায়। নিজের শখ, ভালো লাগার কাজে সম্পৃক্ত হতে পেরে তার মন প্রফুল্ল হয়ে ওঠে। দমবন্ধ পরিবেশ থেকে সে কিছু সময়ের জন্যে হাঁফ ছেড়ে বাঁচার অবকাশ পায়।

আনন্দময় জীবন : সহশিক্ষা কার্যক্রম শিক্ষা দেয় কীভাবে জীবনকে আনন্দময় করে তোলা যায়। সহশিক্ষা কার্যক্রমের অন্তর্গত বিষয়গুলো শিল্প সাহিত্যের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। সংস্কৃতিচর্চার এই অভ্যাস পরবর্তী সময়ে সামাজিক অনুষ্ঠান বা বিশেষ দিনগুলোকে আনন্দঘন করে তুলতে কাজে লাগে। ব্যক্তিগত জীবনও আনন্দময় হয়ে ওঠে।

আত্মবিশ্বাসী করে তোলে : পড়াশোনাতে ভালো না হলেই যেকোনো শিক্ষার্থী হীনমন্যতায় ভোগে। নিজেকে ব্যর্থ মনে করে। কিন্তু পৃথিবীতে বহু শিল্পী, সাহিত্যিক, চিত্রকর, গায়ক, গীতিকার অতুল কীর্তি রেখে গেছেন যারা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় ভালো ছিলেন না। পড়াশোনাতে তেমন ভালো না করতে পারলেও কোনো শিক্ষার্থী যদি সহশিক্ষা কার্যক্রমের কোনো একটিতে দক্ষতা আছে বলে চিহ্নিত করতে পারে তাহলে তাকে আর জীবনে হতাশা টেনে ধরবে না। এটি নিয়ে সে পরবর্তী জীবনেও এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করতে পারে।

(সংগৃহীত)


মন্তব্য করুন

ব্লগ