Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ১০:৫৯ অপরাহ্ণ

বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে ইংরেজি ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব

বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে ইংরেজি ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব


ইংরেজি একটি বৈশ্বিক ভাষা। ইহাকে বিশ্বের প্রধানতম ভাষা হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। বিশ্বের তাবৎ বানিজ্যের সিংহ ভাগ এই ভাষা ব্যবহার করেই সংঘটিত হয়ে থাকে। এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। এজন্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে ইংরেজি ভাষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। আপনি লক্ষ্য করে দেখবেন একজন দক্ষ ইংরেজি ভাষা ব্যবহারকারী সবর্দা একজন ইংরেজি ভাষা না জানা অথবা মধ্যম মানের ব্যবহারকারীর তুলনায় বেশি সুবিধা অর্জন করে থাকেন। ইংরেজির ভালো জ্ঞান কর্মজীবনে অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে। 


আমাদের দেশের আয়ের অন্যতম একটি উৎস হলো রেমিট্যান্স বা প্রবাসী ভাইদের পাঠানো অর্থ। বিদেশে কর্মরত আমাদের বিশাল কর্মী বাহিনীর একটি বড় অংশ ইংরেজি না জানার কারণে কম বেতন পেয়ে থাকেন। পর্যটন নির্ভর দেশগুলো কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তা সব সময় দক্ষ ইংরেজি ভাষা ব্যবহারকারী পছন্দ করে থাকেন। ফলে যেসকল দেশে ইংরেজি ভাষা ব্যবহারকারী পাওয়া যায় সে দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক শ্রম বাজার উন্মুক্ত হয়ে যায়। শ্রম আমদানী নির্ভর দেশগুলোর প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মচারীদের মধ্যে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জনকারীগণ ভালো মানের কাজ পেয়ে থাকেন এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রে তারা অগ্রগামী থাকেন। তারা উচ্চ বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা বেশি ভোগ করে থাকেন। 


দেশীয় চাকুরীর বাজারেও ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জনকারীদের কদর বেড়েছে। আমাদের দেশের ওয়্যারহাউসগুলো সাধারণত হয় আমদানী অথবা রপ্তানী বানিজ্যের সাথে সম্পৃক্ত। তারা তাদের বিদেশী পার্টনারদের সাথে ই-মেইল, হোয়াটস্এ্যাপসহ অন্যান্য ম্যাসেঞ্জার এ্যাপ এমনকি সরাসরি যোগাযোগের ক্ষেত্রেও ইংরেজি ভাষা ব্যবহার করে থাকেন। এজন্য এসব প্রতিষ্ঠানে ইংরেজি ব্যবহারকারী কর্মীগণ এক্সট্রা সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকেন। বহুজাতিক কোম্পানীগুলো সাধারণত কর্মীদের উচ্চ বেতন ভাতা প্রদান করে থাকেন। এক্ষেত্রেও অনেক বৈদেশিক মুদ্রা আমাদের অর্থনীতিতে যুক্ত হয়ে থাকে। চাকুরী খোঁজার সাইটে গেলে দেখা যায় বেশিরভাগ পদের জন্য ইংরেজিতে ভালো কমান্ড প্রয়োজন। 


অনেক শিক্ষিত লোকজন চাকুরী করতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করে না। তারা বিভিন্ন মুক্ত পেশায় (ভৎববষধহপরহম) এর মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে আগ্রহী। সেক্ষেত্রে তাদের সর্বাগ্রে প্রয়োজন ইংরেজি ভাষা শিক্ষা। ঋরাবৎৎ বা টঢ়ড়িৎ এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্স সাইটগুলির ভাষা ইংরেজি। বিদেশী সেবা গ্রহীতাগণ (ভৎববষধহপরহম) তাদের কাজের কোটেশন ইংরেজি ভাষায় উপস্থাপন করে থাকেন। তারা ক্লায়েন্টদের সাথে যোগাযোগ, চুক্তি (ধমৎববসবহঃ) ইত্যাদি ইংরেজি ভাষায় সম্পাদন করে থাকেন। এক্ষেত্রেও এক্সপার্ট ইউজারগণ বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে থাকেন। 


একবিংশ শতাব্দীর তৃতীয় দশক যেন ইউটিউবে কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের জয়জয়াকার। এখানেও লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে ইংরেজি ভাষায় তৈরিকৃত কন্টেন্ট অন্যান্য ভাষার কন্টেন্টের তুলনায় বেশি ভিউ হয়। বেশি ভিউ মানে বেশি বিজ্ঞাপন, বেশি বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন। 


ইংরেজি ভাষার শিক্ষকদেরও রয়েছে বিশ্বব্যাপী আলাদা সম্মান, মর্যাদা ও বেতন ভাতা। জাপানে একজন ঞঊঝঙখ (ঞবধপযরহম ঊহমষরংয ঃড় ঝঢ়বধশবৎং ড়ভ ঙঃযবৎ খধহমঁধমবং) শিক্ষকের গড় বেতন ২,৫০,০০০ থেকে ৬,০০,০০০ ইয়েন এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৪,৫০,০০০ টাকা। বিদেশী অর্থ উপার্জনের আরেকটি পেশার নাম ট্যুর গাইড। বাংলাদেশের দর্শণীয় স্থানগুলোতে বিদেশী পর্যটকদের গাইড হিসেবে কাজ করে অনেকে ভ্রমনের সুযোগ ও অর্থ উপার্জন করে থাকেন। 


মন্তব্য করুন

ব্লগ