Loading..

ব্লগ

রিসেট

০১ অক্টোবর, ২০২৪ ১২:০০ অপরাহ্ণ

শিক্ষায় সৃজনশীলতা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব

বাংলা ওয়ার্ল্ডওয়াইড-এর উদ্যোগে তৃতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনের তৃতীয় দিনে, শিক্ষামূলক একটি আলোচনাসভার বিষয় ছিল 'শিক্ষায় সৃজনশীলতা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব'। এই অনুষ্ঠানটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন অধ্যাপক অশোকরঞ্জন ঠাকুর।

এই আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন দুই বাংলার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ। আলোচনাসভাটিতে বারবার উঠে এসেছে শিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবের নানা দিক। বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার বেড়েছে সারা বিশ্বে। ফলে তার বৃহৎ প্রভাব পড়েছে শিক্ষার ক্ষেত্রেও। 

এবিষয়ে অধ্যাপক অনুপম বসু বলেন, শিক্ষায় সৃজনশীলতা বজায় রাখার জন্য শিক্ষার পরিকাঠামোকে উন্নত করা প্রয়োজন। শিক্ষকের বিষয় সম্পর্কে জ্ঞানের পাশাপাশি আবেগ, সৃজনশীলতা, ধৈর্য্য থাকাও দরকার। এতদিন শিক্ষায় যন্ত্রের প্রয়োগের কথা ভাবা হয়নি। তবে বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থীরাই এআই, চ্যাট জিপিটির উপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। এআই থেকে বিভিন্ন তথ্য শিখলেও এআই থেকে শিক্ষা মধ্যমানের। এমনকি এআই আসায় হারিয়ে যাচ্ছে সৃজনশীলতার মান, এআই সুকুমার রায়ের কবিতার ধরণে অনুরূপ কবিতা সৃষ্টি করে ফেলছে। 

সভায় উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক শাঙ্খায়ন চৌধুরী। তিনি মনে করেন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহারের জন্যও সৃজনশীলতা প্রয়োজন। যে যতো বেশি সৃজনশীলতার সাথে বুদ্ধি দিয়ে তথ্য খুঁজে নিতে পারবে, তার কাছে ততো বেশি তথ্য সংগ্রহ হবে। 

অন্যদিকে ঢাকার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মাহফুজ আল হোসেন মনে করেন, 'সৃজনশীলতা বদ্ধ জলাশয় নয়'। এআই শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের রাজ্যে বিচরণের সুযোগ দেয়। এআই ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা নিজেদের জ্ঞান বৃদ্ধি করতে পারে। শিক্ষার ক্ষেত্রে বর্তমানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রয়োজনে এআই ব্যবহার করছে। 

সভায় উপস্থিত অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক অমিতশোভন রায় বলেন, শিক্ষকদের পড়ানোর মান ও কমছে ধীরে ধীরে। শিক্ষকরা খুব সীমিত পরিমাণ তথ্য দিতে পারছে শিক্ষার্থীদের। ফলে এআই ব্যবহার বাড়ছে। তবে শিক্ষকরা যদি বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য দিয়ে সমৃদ্ধ করতে পারে, সেক্ষেত্রে এআই এর প্রয়োজন পড়বে না। এছাড়া তিনি মনে করেন আমরা সৃজনশীলতায় নিম্নগামী, তার প্রধান কারণ আমাদের পুস্তকমুখী শিক্ষা। এছাড়া 'শিক্ষা ব্যবসা হয়ে দাঁড়িয়েছে'। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনলাইন শিক্ষার চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে তিনি জানান। 
অধ্যাপক সুশান্ত চক্রবর্তী জানান, এআই এর বিভিন্ন দিক সমন্ধে। তিনি জানান যে এআই স্বাহ্যের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়া এআই স্পিচ রিকগনিশন করতেও সক্ষম। এআই এর তথ্য মনে রাখার ক্ষমতাও রয়েছে। এমনকি কোন সিনেমাটি জনপ্রিয় হবে সেটাও বলে দিতে পারে এআই। বহুদিন ধরেই চলছে এআই এর ব্যবহার, ভবিষ্যতে এটি আরও বৃদ্ধি পাবে। 
মন্তব্য করুন