Loading..

ব্লগ

রিসেট

০১ অক্টোবর, ২০২৪ ০৪:০১ অপরাহ্ণ

আজ আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ----

আজ আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস---



 প্রতি বছর ১ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী উদযাপন করা হয় এই দিবস। "মর্যাদাপূর্ণ বার্ধক্য: বিশ্বব্যাপী প্রবীণ পরিচর্যা ও সহযোগিতা ব্যবস্থায় শক্তিশালীকরণ" — এটি ২০২৪ সালের আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের প্রতিপাদ্য।


এই প্রতিপাদ্যের মূল লক্ষ্য হলো - প্রবীণদের মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করার জন্য সার্বিক সহযোগিতা ও প্রবীণ পরিচর্যা ব্যবস্থাকে উন্নত করা। বর্তমান সমাজে প্রবীণ ব্যক্তিদের যত্ন, স্বাস্থ্যসেবা এবং সহায়তা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রবীণরা অনেক সময় তাদের স্বাভাবিক সেবা ও যত্ন থেকে বঞ্চিত হন, যা তাদের জীবনের শেষ পর্যায়ে অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।


এই প্রতিপাদ্যের মাধ্যমে সমাজকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে প্রবীণদের সম্মানজনক ও সুরক্ষিত জীবনযাপনের জন্য কেবল পারিবারিক নয়, বরং বিশ্বব্যাপী পরিচর্যা ও সহযোগিতা ব্যবস্থায় নতুন শক্তি প্রয়োজন। তাই, সরকার, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে একসাথে কাজ করে প্রবীণদের অধিকার ও সেবা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা তাদের জীবনের শেষ পর্যায়েও মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারেন।



১৯৯০ সালে জাতিসংঘ এই দিনটি উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেয়, প্রবীণ ব্যক্তিদের অধিকার, সম্মান এবং সুস্থ-সুন্দর জীবনযাপনের উপর জোর দেওয়ার লক্ষ্যে। এই দিবসটি প্রবীণদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি, তাদের যত্ন এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরে।


প্রবীণ ব্যক্তিরা সমাজের অভিজ্ঞ এবং মূল্যবান সদস্য। জীবনের নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে তারা অনেক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জন করেন, যা নতুন প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের মূল লক্ষ্য হচ্ছে প্রবীণদের অধিকার রক্ষা, তাদের জীবনমান উন্নয়ন এবং তাদের জন্য সম্মান ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান নিশ্চিত করা।


প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট প্রতিপাদ্য নিয়ে দিবসটি পালন করা হয়। এই প্রতিপাদ্যগুলোর মাধ্যমে প্রবীণদের চাহিদা, সামাজিক অবস্থান, এবং তাদের প্রতি সমাজের দায়িত্বের দিকগুলো তুলে ধরা হয়।



"প্রবীনদের চোখে জমে আছে স্মৃতি জীবনের পথে খুঁজে পেয়েছে গতি""। 


'আজ আমরা যারা নবীন, আগামীর তারা প্রবীন'।



মানুষের জীবনে বার্ধক্য একটি অতি স্বাভাবিক ও অবধারিত বাস্তবতা। সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, বর্তমান বিশ্বে প্রতি ৬ জনের মধ্যে একজন প্রবীণ নির্যাতনের শিকার। এই সংখ্যা ১৪ কোটিরও বেশি।  


খাতা কলমে সমাজ সংসারে তাদের অধিকার সুরক্ষিত। তবে অধিকারের প্রশ্ন নয় বরং তাদের জীবনের শেষ ভাগ সফল, সার্থক ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করা আমাদেরই দায়িত্ত্ব। সন্তানের মঙ্গল কামনায় ঝরেছে বাবা-মার শেষ রক্তবিন্দু। তাই প্রশ্নাতীতভাবে তাদের বার্ধক্যের দায়িত্ব গ্রহণ, তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এই প্রবীনদের জন্য মর্যাদা, যত্ন ও সহায়তার প্রয়োজনীয়তা এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সবাইকে আরও একবার মনে  করিয়ে দেয়া। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না তাদের অবদান আমাদের জীবনে কি ছিল, আছে?? তারা ছিলেন বলেই আমরা আছি। এজন্য তাদের এই সময়ে তাদের মুখে সর্বদা যেন হাসি থাকে সেই ব্যবস্থা করতে হবে আমাদেরই।  কোন প্রবীণ যেন এই বয়সে এসে মনে কোন কষ্ট না পায়, কোন প্রবীণকে বৃদ্ধাশ্রমে যেন  থাকতে না হয়  আমরা তাদের যথাযথ মর্যাদা এবং সর্বদা তাদের মুখে  হাসি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করব। পৃথিবী থেকে মুছে যাক সব বৃদ্ধাশ্রম এর ঠিকানা। চলিত কথায়- বুড়ো-বুড়ি যেন ঠাই পায় নিজ নীড়ে, নিজ গৃহে, সমাদরে -সম্মানে।

মন্তব্য করুন