Loading..

ব্লগ

রিসেট

০১ অক্টোবর, ২০২৪ ০৪:০৫ অপরাহ্ণ

হাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাঝে মাঝে তাঁর সাহাবীদের সঙ্গে বসে দুনিয়াবি কথা ও মজাক করতেন।

হাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাঝে মাঝে তাঁর সাহাবীদের সঙ্গে বসে দুনিয়াবি কথা ও মজাক করতেন। এমনও হতো যে, সেই মজলিস একটি ঘটনা বা গল্পে পরিণত হয়ে যেত। একবার নবী কারীম (সা.) তাঁর সঙ্গী হযরত আবু বকর সিদ্দিক, উমর ফারুক এবং উসমান (রাঃ) এর সাথে হযরত আলী (রাঃ) এর বাড়িতে গেলেন। 


হযরত আলী (রাঃ) এর স্ত্রী হযরত ফাতিমা (রাঃ) অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য এক পেয়ালা মধু উপস্থিত করলেন। সুন্দর ও ঝকঝকে সেই পেয়ালায় একটি চুল পড়ে গেল। নবী কারীম (সা.) সেই পেয়ালাটি খোলাফায়ে রাশেদিনদের সামনে রাখলেন এবং বললেন: "তোমাদের মধ্যে প্রত্যেকে এই পেয়ালা সম্পর্কে তার মতামত দাও।"


হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) বললেন: "আমার মতে, মুমিনের হৃদয় এই পেয়ালার মতোই উজ্জ্বল, এবং তার হৃদয়ে থাকা ঈমান মধুর চেয়েও মিষ্টি। তবে সেই ঈমানকে মৃত্যুর সময় পর্যন্ত সুরক্ষিত রাখা একটি চুলের থেকেও সূক্ষ্ম।"


হযরত উমর (রাঃ) বললেন: "শাসন ক্ষমতা এই পেয়ালার থেকেও উজ্জ্বল, এবং শাসন করা মধুর চেয়েও মিষ্টি। তবে শাসনে ন্যায় ও বিচার করা একটি চুলের থেকেও সূক্ষ্ম।"


হযরত উসমান (রাঃ) বললেন: "আমার মতে, দ্বীনের জ্ঞান এই পেয়ালার চেয়েও উজ্জ্বল, এবং দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করা মধুর চেয়েও মিষ্টি। তবে সেই জ্ঞানের ওপর আমল করা একটি চুলের থেকেও সূক্ষ্ম।"


হযরত আলী (রাঃ) বললেন: "আমার মতে, অতিথি এই পেয়ালার থেকেও উজ্জ্বল এবং অতিথির আপ্যায়ন মধুর চেয়েও মিষ্টি। তবে তাদের খুশি করা একটি চুলের থেকেও সূক্ষ্ম।"


হযরত ফাতিমা (রাঃ) বললেন: "ইয়া রাসূলুল্লাহ, যদি অনুমতি দেন, আমি কিছু বলতে চাই।" নবী করীম (সা.) তাঁকে অনুমতি দিলে তিনি বললেন: "নারীর জন্য লজ্জাশীলতা এই পেয়ালার চেয়েও উজ্জ্বল, এবং তার চেহারার পর্দা মধুর চেয়েও মিষ্টি। তবে একজন গায়রে মহরামের দৃষ্টিতে না আসা একটি চুলের থেকেও সূক্ষ্ম।"


কী চমৎকারই না ছিল সেই মজলিস! যখন খোলাফায়ে রাশেদিন তাদের মতামত জানালেন, তখন তারা নবী করীম (সা.) এর দিকে মনোযোগ দিলেন। 


নবী কারীম (সা.) বললেন: "মারিফাত (আল্লাহর পরিচিতি) এই পেয়ালার চেয়েও উজ্জ্বল এবং আল্লাহর মারিফাত অর্জন করা মধুর চেয়েও মিষ্টি। তবে মারিফাতের পরে এর ওপর আমল করা একটি চুলের থেকেও সূক্ষ্ম।"


এদিকে পৃথিবীতে এই মজলিস চলছিল, অন্যদিকে আল্লাহ তায়ালা থেকে অনুমতি নিয়ে জিবরাইল (আ.) এসে পৌঁছালেন এবং বললেন: "আমার মতে, আল্লাহর পথে চলা এই পেয়ালার চেয়েও উজ্জ্বল, এবং আল্লাহর পথে সম্পদ ও জীবন ব্যয় করা মধুর চেয়েও মিষ্টি। তবে এই পথে স্থির থাকা একটি চুলের থেকেও সূক্ষ্ম।"


পৃথিবীতে এই মজলিসে যখন সবাই তাদের মতামত জানিয়েছিলেন, তখন জিবরাইল (আ.) বললেন: "ইয়া রাসূলুল্লাহ, আল্লাহ তায়ালা কিছু বলতে চান।" নবী করীম (সা.) বললেন: "জান্নাত এই পেয়ালার চেয়েও উজ্জ্বল এবং জান্নাতের নেয়ামতসমূহ মধুর চেয়েও মিষ্টি। তবে জান্নাতে পৌঁছানোর জন্য সিরাত সেতু পার হওয়া একটি চুলের থেকেও সূক্ষ্ম।"


নিঃসন্দেহে, এই মজলিস ছিল বরকতময়, এবং এর প্রতিটি কথোপকথনও বরকতময়। সেই মজলিসে যেমন নবী করীম (সা.) ছিলেন, তেমনি সাহাবীরাও ছিলেন। আপনার এই মজলিস এবং এর কথাবার্তা আমাদের সকলের জন্য পথপ্রদর্শক।

মন্তব্য করুন