সহকারী শিক্ষক
০১ অক্টোবর, ২০২৪ ০৪:৪২ অপরাহ্ণ
প্রাথম ম্রো নারী চিকিৎসক ❝সং চং ম্রো❞
❝একটি 'মুরং'(ম্রো) সম্প্রদায় ও একজন সং চং ম্রো❞
বাংলাদেশে প্রায় ৫০টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বসবাস।
এদের মধ্যে একটি নৃ-গোষ্ঠী হলো 'মুরং’ সম্প্রদায়।
যারা বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টোগ্রাম,বান্দরবান ও রাঙামাটি
জেলায় বসবাস করে।
'মুরং' বাংলাদেশের একটি প্রাচীন জাতিগোষ্ঠী।
'মুরং' শব্দটি বহুবচন,যার এক বচন হল 'ম্রো'।
'ম্রো' শব্দের অর্থ হল 'মানুষ'।
বান্দরবানের ১১টি পাহাড়ি গোষ্ঠীর মধ্যে দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ 'ম্রো' সম্প্রদায়।বাংলাদেশে প্রায় ৪০ হাজার 'ম্রো' নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ বাস করে।
সং চং ম্রো একটি নাম,
যে নাম পিছিয়ে থাকা একটি জাতিগোষ্ঠীকে নতুন করে সবার সামনে তুলে ধরেছে।
আশীর্বাদ হিসেবে মুরং জাতিগোষ্ঠীর নাম উজ্জ্বল করেছে বাংলাদেশের বুকে।
ম্রোদের মধ্যে প্রথম নারী চিকিৎসক হলেন সং চং ম্রো।
সং চং ম্রো বর্তমানে রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত আছে।
পাঁচ ভাই-বোন ও মা-বাবা নিয়ে তাদের পরিবার।
বাবা কাইং প্রে ম্রো হলেন তার প্রথম শিক্ষাদাতা।
সাধারণত শিক্ষা-দীক্ষায় অন্যান্য ক্ষুদ্র জাতিসত্তার
লোকদের তুলনায় মুরংরা কিছুটা পিছিয়ে।
সেই সাথে নারী শিক্ষার বৈষম্য তো আছেই।
তার ওপর আবার পাহাড়ি এলাকায় শিক্ষা ব্যবস্থা বড়ই নাজুক।
আর পাঁচটা শিশুর মতো তার মসৃণ শৈশব কাটেনি।
কেবল পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষ হওয়ার কারণে তার মধ্যে লড়াকু মনোভাব সেই ছোটবেলায়ই তৈরি হয়েছিলো।
সেই সাথে তার বাবার প্রচন্ড ইচ্ছা শক্তি তাদের পাঁচ ভাইবোনকে উচ্চ মাধ্যমিক অব্দি পড়ানোর
সুযোগ দিয়েছে।
পাহাড়িদের জন্য প্রতিকূল পরিবেশে এ অর্জন
অনেক বড় কিছু।
নিঃসন্দেহে এটা তাদের মা-বাবার কাছে গর্বের বিষয়।
সং চং ম্রো প্রাথমিক শিক্ষার তেমন সুযোগ পয়নি।
আলীকদম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে তৃতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করে এবং পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিও পায়।
তারপর সাভারের সেন্ট জোসেফ স্কুল অ্যান্ড কলেজে পড়ালেখা করে।
সেসময়ে তাকে বিনা বেতনে অধ্যয়নের সুযোগ দেন ঐ স্কুলের প্রিন্সিপাল নমিতা সিস্টার।
অদম্যকে কেউ আটকে রাখে না,
আর রাখতে পারেও না।
বরং তার ভালো কাজে উৎসাহ আর সহযোগিতা করতে অনেকেই এগিয়ে আসে।
তেমনি সং চং ম্রোকেও সহানুভূতির কোমল হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলো অনেকে।
অনেক টানাপোড়েনের পর প্রবল পরিশ্রমের ফল হিসেবে ২০১৭ সালে রাঙামাটি মেডিকেল কলেজে প্রথম ম্রো নারী হিসেবে ভর্তির সুযোগ হয় সং চং এর।
ভর্তি হয় ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে।
ভর্তির টাকা জোগাড় হয়েছিলো তার বাবার জমি বিক্রির মধ্যমে।
তারপর ব্যয়বহুল মেডিকেলের বই ও কঙ্কাল পায় কলেজের সিনিয়রদের থেকে।
এভাবেই এগিয়ে গিয়েছে ম্রো সম্রাজ্ঞী "সং চং ম্রো"।
আজ 'সং চং ম্রো' এক অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে তাদের পিছিয়ে থাকা নারীদের জন্য আলোর পথ দেখাবে।
সে পথ ধরে এগিয়ে আসুক আরো সং চংরা।
?️কুন্তলা মজুমদার
৭
৭ মন্তব্য