সহকারী শিক্ষক
০১ অক্টোবর, ২০২৪ ০৬:২৬ অপরাহ্ণ
❝সামাজিক অবক্ষয় গুণগত শিক্ষার অন্তরায়❞
❝সামাজিক অবক্ষয় গুণগত শিক্ষার অন্তরায়❞
শিশুর প্রথম শিক্ষালয় তার পরিবার।সেই সাথে প্রাধান শিক্ষালয় বললেও ভুল হবে না।
একটি শিশু ভূমিষ্ট হওয়ার পর পরিবার ও পরিবেশ থেকে ক্রমে শিক্ষা লাভ করে বড় হয়ে উঠে।
বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই শিশুর ৮০% বিকাশ বিদ্যালয়ে আসার পূর্বেই সম্পন্ন হয়।
এক্ষেত্রে শিশুর সঠিক বিকাশে পরিবারের ভূমিকা মূখ্য।
বিদ্যালয় থেকে শিশু পায় সুন্দর শিখন পরিবেশ ও সহযোগিতা, যা তাকে সুন্দর ভাবে শিক্ষা লাভে সহায়তা করে।
আমরা জানি,মানসম্মত তথা গুণগত শিক্ষার ক্ষেত্রে বিদ্যালয় একটি বড় অবদান রাখে।
যেটা পাওয়ার অধিকার প্রতিটি শিশুরই আছে।
এমনকি আমরা যারা শিক্ষক আছি তারাও এ বিষয়ে যথেষ্ট আন্তরিক হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
তবে এ ক্ষেত্রে আমাদের একটা বড় বাঁধা হচ্ছে অভিভাবকের অসচেতনতা বা উদাসীনতা এবং সাথে সমস্যাগ্রস্থ সামাজিক পরিবেশ।
একটি শিশু বিদ্যালয়ের সুন্দর পরিবেশেও অমনোযোগী থাকতে পারে যেটা সে মানসিক ভাবে পরিবার থেকে বয়ে নিয়ে আসে।
আমরা শিক্ষকরা কিছু ক্ষেত্রে চাইলেও পারি না তাদের মনোযোগ ফেরাতে।
পরবর্তীতে খোঁজ নিলে জানা যায় ঐ শিশুর পারিবারিক পরিবেশ মোটেও শিশুপোযোগী নয়।
যেখানে নিত্য কলহ,বাজে ভাষার ব্যবহার এবং মা-বাবার উভয়ের মধ্যে অসম্মান মূলক আচরণ পরিলক্ষিত হয়।
যখন শিশুর শেখার বয়স তখন সে এমন পরিস্থিতির মধ্যে থাকলে অবশ্যই তার মাঝে হীনমন্যতা দেখা দিবে।
এসব ঘটনা শহরকেন্দ্রিক কতোটা তা আমার ধারণা নেই তবে গ্রামাঞ্চলে তীব্র ভাবে বিরাজমান।
এই তো গতবছরের ঘটনা,
আমার প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির মাহিয়া স্কুলে আসে না।
ফোনে যোগাযোগ করতে গিয়েও পেলাম না।
খোঁজ নেয়ার পর জানতে পারলাম সে নানা বাসায়।
কিছুদিন পরে সে স্কুলে আাসার পর তার স্কুলে না আসার কারণ জানতে চাইলে সে সরল ভাষায় বলেছিলো,
"জানো ম্যাডাম,আমার বাবারে খুঁজে পাইতেছিলাম না।আমার বাবা একটা মেয়েরে নিয়ে কোথায় যেন চলে গেছে।আমার মা খালি কান্দে আর কান্দে।"
কচি মুখে এসব শুনে রীতিমতো ধাক্কা খেলাম।
একটা শিশু এই বয়সে এসবের মধ্যে দিয়ে গেলে তার মনে কতোটা আঘাত লাগতে পারে একটু ভেবে দেখেন!
এরকম অনেক ঘটনা ঘটে আমাদের শিশুদেরকে সাথে।
আমাদের সামাজিক পরিবেশ এতোটা নিচু স্তরে নেমে এসেছে যেখানে আমাদের অনেক সম্ভাবনাময় প্রাণ মনের দিক দিয়ে মরে যাচ্ছে।
এই ভগ্ন হৃদয়ের শিশুদের আমরা কিভাবে গুণগত শিক্ষায় দীক্ষিত করব!
দোষটা আসলে কার?
এর থেকে বের হয়ে আসার উপায়ই বা কী?
হ্যাঁ,নির্মুল না করতে পারলেও এসব সমস্যা কমিয়ে আনা সম্ভব।
গুণগত শিক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সবার আগে এর প্রধান উপকরণ শিশুর মানসিক যত্নে সমাজের সকলের এগিয়ে আসতে হবে।
শিশুকে দিতে হতে শিশু বান্ধব এক সুস্থ পরিবেশ।
আসলে আজকের শিশুর সুস্থ মানসিক স্বাস্থ্য আগামীতে দেশের জন্য একটা সুস্থ, সুন্দর ও টেকসই পরিবেশ তৈরি করবে।
যেখানে স্থায়ী ভাবে দেশ সমৃদ্ধি শিখরে পৌঁছাতে পারবে সঠিক ধারায়।
এজন্য সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প কিছু নেই।
সেই সাথে সামাজিক অন্যায়কারীদের শাস্তির আওতায় এনে দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করাও সঙ্গত হয়ে পড়েছে।
আমি একা ভালো থাকা মানে 'ভালো থাকা' বোঝায় না।
যেদিন আমরা সবাই মিলে এক সুন্দর পরিবেশ গড়ে তুলে ভালো থাকতে পারব সেদিনই আমাদের 'ভালো থাকা' বোঝাবে।
৬৪
১০০ মন্তব্য