সিনিয়র শিক্ষক
০১ অক্টোবর, ২০২৪ ০৯:৫৯ অপরাহ্ণ
সিনিয়র শিক্ষক
X দিক সম্পর্কে জনসচেতনতা জরুরি।
----------------------------------------
পলিথিন হচ্ছে প্লাস্টিকেরই একটি ধরন। এটি এমন একটি পদার্থ, যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক এবং পরিবেশদূষণের উপাদানগুলোর মধ্যে অন্যতম। প্লাস্টিক হলো এক ধরনের কৃত্রিম বস্তু, যা রাসায়নিক পদার্থ থেকে তৈরি হয়। নানা ধরনের জৈব ও অজৈব অ্যাডিটিভ ব্যবহার করা হয় পলিথিনব্যাগ ও প্লাস্টিকে। অ্যাডিটিভগুলোর মধ্যে প্রায় সবই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক ও ক্যানসার সৃষ্টিকারী
পলিথিন হচ্ছে প্লাস্টিকেরই একটি ধরন। এটি এমন একটি পদার্থ, যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক এবং পরিবেশদূষণের উপাদানগুলোর মধ্যে অন্যতম। প্লাস্টিক হলো এক ধরনের কৃত্রিম বস্তু, যা রাসায়নিক পদার্থ থেকে তৈরি হয়। নানা ধরনের জৈব ও অজৈব অ্যাডিটিভ ব্যবহার করা হয় পলিথিনব্যাগ ও প্লাস্টিকে। অ্যাডিটিভগুলোর মধ্যে প্রায় সবই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক ও ক্যানসার সৃষ্টিকারী।
এই পলিথিন ও প্লাস্টিক পলিউশন থেকে আমাদের নিজেদের এবং পরিবেশকে রক্ষা করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তবে সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে নারীদের, কারণ নারীদের কাছে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজš§ রক্ষিত। তাই নারীদের এ বিষয়ে সচেতন হতেই হবে। সবার আগে তাকে জানতে হবে পলিথিন ও প্লাস্টিকের ক্ষতিকর দিকগুলো সম্বন্ধে।
পলিথিন ব্যবহার করে আমরা মাটিতে যেখানে-সেখানে ফেলে দিই। পলিথিন অপচনশীল হওয়ায় দীর্ঘদিন প্রকৃতিতে অধিকৃত অবস্থায় থাকে। ফলে পলিথিন মাটিতে সূর্যালোক, পানি ও অন্যান্য উপাদান প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করে। তাছাড়া পলিথিন পচে না বলে পলিথিন মাটির উর্বরতাশক্তিকে কমিয়ে দেয় এবং উপকারী ব্যাকটেরিয়া বিস্তারে বাধা তৈরি করে। ফলে মাটি মৌলিকত্ব হারাচ্ছে। এ রকম মাটিতে ভৌত কাঠামো স্থাপন করলে তা দুর্বল হতে পারে। পলিথিন ব্যাগের সহজলভ্যতা ও বহনের সুবিধার কারণে বাসাবাড়িতে তরিতরকারির খোসা, মাংস ও মাছের অপ্রয়োজনীয় অংশ, খাওয়ার পরের ময়লা, বাড়িঘর ঝাড়– দেওয়ার পর ময়লা ও অন্যান্য আবর্জনা পলিথিন ব্যাগে ঢুকিয়ে ব্যাগের মুখে গিট দিয়ে ডাস্টবিনে বা রাস্তার পাশে ফেলা হয়। সেই ময়লা আবর্জনাগুলো পলিথিনের ব্যাগে বন্ধ অবস্থায় থেকে মারাত্মক দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে পরিবেশ দূষণ করে। বৃষ্টির পানির সঙ্গে ভেসে গিয়ে পলিথিন ড্রেন ও ম্যানহোলে ঢুকে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করে। ফলে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং নানা ধরনের পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। সেসব পলিথিন নদী, খালবিল ও পুকুরে ফেলা হয়। সেসব পলিথিন না পচে নদী, খালবিল ও পুকুরের তলদেশে জমা হয়ে তলদেশ ভরাট করে ফেলে। ঢাকার প্রাণ বুড়িগঙ্গার তলদেশ থেকে বর্জ্য অপসারণের ফলে দেখা গেছে, উত্তোলন করা বর্জ্যরে অধিকাংশই পলিথিন ব্যাগ। প্লাস্টিক ব্যাগে এমন কিছু রাসায়নিক পদার্থ থাকে, যা মাটিতে চুইয়ে চুইয়ে ঢুকে ভূগর্ভস্থ পানিকে দূষিত করে এবং মানবদেহের ভয়াবহ ক্ষতিসাধন করে। সংক্রমণ ঘটায় ভূপৃষ্ঠ ও ভূগর্ভস্থ পানির সঙ্গে। এই পানি গ্রহণের ফলে তা আমাদের খাদ্যচক্রে ঢুকে যাচ্ছে। পলিথিন ও প্লাস্টিক পণ্যের রাসায়নিক পদার্থের বিরূপ প্রভাব পড়ছে মাছ ও অন্যান্য জলজ পোকা, জীব ও গাছপালার ওপর। ছোট ছোট প্লাস্টিককণা মাছেরা খাবার ভেবে সরাসরি খেয়ে ফেলতে পারে বলে সেই মাছ গ্রহণের ফলে বিষাক্ত পদার্থ মিশে যাচ্ছে মানুষের খাদ্যচক্রে। তাছাড়া গরম খাবার পলিথিন অথবা প্লাস্টিকের পাত্রে রেখে সেই খাবার খেলে ক্যানসার ও চর্মরোগের সংক্রমণের আশঙ্কা থেকে যায় বহুগুণ। পলিথিনে মাছ, মাংস, কাঁচা শাকসবজি ও ফলমূল প্যাকিং করলে তাতে অবায়বীয় ব্যাকটেরিয়ার সৃষ্টি হয়। ফলে প্যাকিং করা বস্তু দ্রুত পচে যায়। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, পলিথিন দিয়ে মোড়ানো মাছ, মাংস, শাকসবজিসহ অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য খুব সহজেই ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হয়, যা চর্মরোগ ও ক্যানসার সৃষ্টির অন্যতম প্রধান কারণ হতে পারে।
উজ্জ্বল রঙের পলিথিনে রাখা খাবার পলিথিনে থাকা সিসা ও ক্যাডমিয়ামের সংস্পর্শে আসায় তা শিশুদের দৈহিক বৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং তা চর্মপ্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে। পলিথিনে এক ধরনের রেডিয়েশনের সৃষ্টি হয় বলে এতে রাখা মাছ-মাংস বিষাক্ত হয়ে যায়। এছাড়া বাড়িতে অথবা বাড়ির পাশে ফেলে দেওয়া পলিথিন বা প্লাস্টিকের কন্টেইনারে জমে থাকা পানি মশা-মাছির জন্ম দিতে পারে, যা থেকে ডেঙ্গুজ্বর, ফাইলেরিয়া, ম্যালেরিয়াসহ অন্যান্য রোগ ছড়াতে পারে।
১৩
১৮ মন্তব্য